যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর তার স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন ছেলে মোজতবা খামেনি। তবে ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকেই তিনি জনসমক্ষে আসছেন না। যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী গণমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমস-এর এক চাঞ্চল্যকর প্রতিবেদন অনুযায়ী, মোজতবা খামেনি বর্তমানে একটি অজ্ঞাত ও অত্যন্ত গোপন স্থান থেকে দেশ পরিচালনা করছেন।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি (২০২৬) ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের ওই ভয়াবহ হামলায় মোজতবা নিজেও গুরুতর আহত হন। ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র যেন কোনোভাবেই তার বর্তমান অবস্থান শনাক্ত করতে না পারে, সেজন্য আধুনিক প্রযুক্তির বদলে যোগাযোগের অত্যন্ত পুরনো কৌশল বেছে নিয়েছে ইরান:
হাতে লেখা চিঠি: মোজতবা খামেনির কাছে কোনো বার্তা পৌঁছানো বা তার নির্দেশাবলি জানার জন্য ‘হিউম্যান চেইন’ বা বিশ্বস্ত বার্তাবাহকদের মাধ্যমে হাতে লেখা চিঠি ও খাম আদান-প্রদান করা হচ্ছে।
কর্মকর্তাদের সাক্ষাৎ বন্ধ: অবস্থান ফাঁস হওয়ার ভয়ে শীর্ষ সামরিক ও সরকারি কর্মকর্তারাও তার সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাৎ করা থেকে বিরত থাকছেন।
অডিও-ভিডিও প্রকাশে নিষেধাজ্ঞা: নতুন সর্বোচ্চ নেতার কোনো ভিডিও বা অডিও বার্তা এখনো প্রকাশ করা হয়নি। তার লিখিত নির্দেশাবলি কেবল রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পাঠ করে শোনানো হচ্ছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, হামলায় গুরুতর আহত হলেও মোজতবা খামেনি মানসিকভাবে সম্পূর্ণ সক্রিয় রয়েছেন। তবে তার শরীরে একাধিক অস্ত্রোপচার হয়েছে এবং মুখে আঘাত পাওয়ার কারণে তার কথা বলতে সমস্যা হচ্ছে।
তার চিকিৎসার পুরো বিষয়টি সরাসরি তত্ত্বাবধান করছেন পেশায় হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ও ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এবং দেশটির স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
একটি অজ্ঞাত স্থানে কঠোর নজরদারির মধ্যে মূলত চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের ঘেরাটোপেই অবস্থান করছেন তিনি।
বিশ্লেষকদের ধারণা, মোজতবা খামেনি ইচ্ছাকৃতভাবেই নিজেকে জনসমক্ষে আনা থেকে বিরত রেখেছেন। প্রথম উপস্থিতিতেই শারীরিক দুর্বলতার কোনো ইঙ্গিত যেন প্রকাশ না পায় এবং দেশের ভেতরে ও বাইরে শত্রুদের কাছে কোনো ভুল বার্তা না যায়, সেটি নিশ্চিত করতেই এই চরম সতর্কতা। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার মাঝে ইরানের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতেই এই গোপন কৌশল অবলম্বন করা হচ্ছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।