• সোমবার, ১১ মে ২০২৬, ০৫:২৩ অপরাহ্ন
Headline
মেধাবীদের ১০টি সিক্রেট নেপথ্যের অনুচ্চারিত নায়িকারা… বিশ্ব মানবাধিকার সম্মেলনে যোগ দিতে দক্ষিণ কোরিয়া গেলেন এনসিপি মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ বাংলাদেশ কেন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলেনি: কারণ খতিয়ে দেখতে মন্ত্রণালয়ের কমিটি গঠন তরুণীর গোপন গেমিং জীবন ও স্বপ্ন পূরণের গল্প নিয়ে মাইক্রো ড্রামা ‘সিলভার সাদিয়া’ গর্ভের সন্তান ছেলে না মেয়ে, তা প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি: হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ প্রতিটি মেয়ের ভবিষ্যৎ গড়তে রাষ্ট্র হবে সহায়ক শক্তি: ডা. জুবাইদা রহমান সরকার বা পদ কোনোটিই চিরস্থায়ী নয়: পুলিশ সপ্তাহে পেশাদারিত্ব ও নিরপেক্ষতার কড়া বার্তা প্রধানমন্ত্রীর পর্যটকদের নিরাপত্তায় ট্যুরিস্ট পুলিশের সক্ষমতা বাড়ছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দেশে হামের ভয়াবহ প্রাদুর্ভাব: আক্রান্ত ছাড়াল ৫০ হাজার, মৃত্যু ৪১৫

চিকিৎসক মা ও আইনজীবী মেয়ের রাজনৈতিক পদযাত্রা: বদলে যাওয়া বাংলাদেশের নতুন সমীকরণ

Reporter Name / ২ Time View
Update : সোমবার, ১১ মে, ২০২৬

বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে দশকের পর দশক ধরে ক্ষমতার পালাবদল, নানা চড়াই-উতরাই এবং ঐতিহাসিক সব পরিবর্তনের সাক্ষী হয়েছে এ দেশের সাধারণ মানুষ। এই দীর্ঘ রাজনৈতিক ইতিহাসের প্রেক্ষাপটে বর্তমানে এক নতুন এবং অত্যন্ত ইতিবাচক সমীকরণের জন্ম হয়েছে, যার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন চিকিৎসক ডা. জুবাইদা রহমান এবং তাঁর কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমান। বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ রাজনৈতিক পরিবার তথা সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার উত্তরসূরি হিসেবে তাঁদের ওপর সবার নজর থাকাটাই স্বাভাবিক। কিন্তু এই মা ও মেয়ে সম্পূর্ণ নিজেদের কর্মদক্ষতা, মেধা, সাধারণ জীবনযাপন এবং মানুষের প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসার মাধ্যমে দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে এক নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। ডা. জুবাইদা রহমান পেশায় একজন স্বনামধন্য চিকিৎসক এবং কন্যা জাইমা রহমান একজন সুদক্ষ আইনজীবী। পেশাগত দিক থেকে ভিন্ন মেরুর হলেও মানুষের সেবা করা এবং দেশপ্রেমের জায়গায় তাঁদের লক্ষ্য সম্পূর্ণ অভিন্ন। মা দিবসের এই পবিত্র আবহে তাঁদের এই যুগলবন্দী শুধু রাজনৈতিক অঙ্গনেই নয়, বরং পারিবারিক ও সামাজিক মূল্যবোধের ক্ষেত্রেও এক অনন্য আদর্শ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে জুবাইদা এবং জাইমা রহমানের উপস্থিতি ও স্বীকৃতি ইতোমধ্যে দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিশ্বজুড়ে প্রশংসিত হয়েছে। গত বছর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে ডোনাল্ড ট্রাম্প দায়িত্ব গ্রহণের পর হোয়াইট হাউজের পক্ষ থেকে প্রথম ‘ন্যাশনাল প্রেয়ার ব্রেকফাস্ট’-এ বিশ্বের নির্বাচিত ও প্রভাবশালী নেতাদের আমন্ত্রণ জানানো হয়। সেই অত্যন্ত সম্মানজনক ও গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করার বিরল গৌরব অর্জন করেন ব্যারিস্টার জাইমা রহমান। শুধু তাই নয়, মার্কিন ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পও গ্লোবাল লিডারশিপ বা বিশ্বনেতৃত্বের ক্ষেত্রে এই মা ও মেয়ের দক্ষতা, যোগ্যতা এবং দূরদর্শিতার ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। ডা. জুবাইদা রহমান হয়তো সরকারি বা প্রাতিষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশের ফার্স্ট লেডি নন, কিন্তু দেশের অগণিত সাধারণ মানুষের কাছে তিনি ইতোমধ্যে নতুন ধারার নেতৃত্ব, আভিজাত্য এবং মাতৃত্বের এক অপূর্ব প্রতীক হয়ে উঠেছেন। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তাঁদের এই দৃপ্ত পদচারণা প্রমাণ করে যে, তাঁরা শুধু পারিবারিক পরিচয়ে আবদ্ধ নেই, বরং নিজেদের যোগ্যতায় বিশ্বের দরবারে বাংলাদেশের জন্য এক নতুন ও ইতিবাচক ভাবমূর্তি গড়ে তুলছেন।

জাইমা রহমানের শৈশব এবং বেড়ে ওঠার গল্পটিও এ দেশের আর দশটা সাধারণ রাজনৈতিক পরিবারের মতো নয়। জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার নাতনি হিসেবে তিনি চাইলেই চরম বিলাসবহুল এবং ক্ষমতার দম্ভে মোড়ানো এক জীবনযাপন করতে পারতেন। কিন্তু তাঁর মা ডা. জুবাইদা রহমান অত্যন্ত সচেতনভাবে নিশ্চিত করেছিলেন যেন ক্ষমতার কোনো নেতিবাচক প্রভাব তাঁর মেয়ের ওপর না পড়ে। ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত যখন বেগম খালেদা জিয়া দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন, সেই সময়টাতে জাইমাকে আমরা সবসময়ই ঘরোয়া সাজে এবং অত্যন্ত সাদামাটা এক কিশোরী হিসেবে দেখেছি। ঈদ, নববর্ষ বা পরিবারের যেকোনো বড় সামাজিক অনুষ্ঠানেও জাইমা রহমান ছিলেন অত্যন্ত সাধারণ। গৃহকর্মী থেকে শুরু করে বাড়ির নিরাপত্তারক্ষী—সবার সঙ্গে অত্যন্ত বিনয়ী ও সম্মানজনক আচরণ করার শিক্ষা তিনি তাঁর মায়ের কাছ থেকেই পেয়েছেন। ডা. জুবাইদা রহমান নিজেও দেশের একজন প্রখ্যাত চিকিৎসক হওয়া সত্ত্বেও এবং প্রধানমন্ত্রীর পুত্রবধূ হওয়ার পরও কখনোই নিজের এই পরিচয়কে অহংকারের বস্তুতে পরিণত করেননি। মায়ের এই নিরহংকার জীবনযাপন জাইমার চরিত্র গঠনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করেছে।

২০০৭-০৮ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তন এবং জরুরি অবস্থার সেই উত্তাল দিনগুলোতে তারেক রহমানের পাশাপাশি জুবাইদা এবং জাইমা রহমানকেও দেশ ছাড়তে বাধ্য হতে হয়। শুরু হয় লন্ডনে তাঁদের দীর্ঘ প্রবাসজীবন। রাজধানীর স্বনামধন্য ইন্টারন্যাশনাল স্কুল ঢাকায় (আইএসডি) শিক্ষাজীবন শুরু করা জাইমা রহমান প্রবাসের সেই কঠিন দিনগুলোতেও নিজের পড়াশোনায় সর্বোচ্চ মনোযোগ ধরে রাখেন। মেধার স্বাক্ষর রেখে ২০১৯ সালে তিনি বিশ্বের অন্যতম প্রাচীন ও মর্যাদাপূর্ণ আইন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ‘লিংকনস ইন’ থেকে অত্যন্ত সাফল্যের সঙ্গে বার-অ্যাট-ল সনদ লাভ করেন। ব্যারিস্টারি সনদ পাওয়ার পর তিনি ব্রিটেনেই অত্যন্ত সুনামের সঙ্গে আইন পেশায় নিযুক্ত হন। মায়ের মতোই তিনিও নিজের পেশাগত জীবনে চরম নিষ্ঠা এবং পেশাদারিত্বের প্রমাণ দিয়েছেন। দীর্ঘ সতেরো বছরের সেই নির্বাসন শেষে গত ২০২৫ সালের ২৫ ডিসেম্বর তারেক রহমান, জুবাইদা রহমান এবং জাইমা রহমান যখন স্বাধীন বাংলাদেশে ফিরে আসেন, তখন দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়। বারো বছর বয়সে দেশ ছেড়ে যাওয়া সেই ছোট্ট কিশোরী আজ ত্রিশ বছরের এক পূর্ণাঙ্গ ও পরিণত নারী হিসেবে দেশে ফিরেছেন। দীর্ঘ প্রবাসজীবনের কারণে অনেকটাই অপরিচিত হয়ে যাওয়া এই বাংলাদেশকে আপন করে নেওয়া জাইমার জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হলেও, মায়ের সার্বক্ষণিক সমর্থন ও ছায়ায় তিনি খুব দ্রুতই দেশের সাধারণ মানুষের সঙ্গে মিশে যেতে সক্ষম হয়েছেন।

দেশে ফেরার মাত্র দুদিন পর, ২০২৫ সালের ২৭ ডিসেম্বর দুপুরে মা জুবাইদা রহমান এবং মেয়ে জাইমা রহমান একসঙ্গে নির্বাচন কমিশনের ইটিআই ভবনে উপস্থিত হয়ে নতুন ভোটার হিসেবে নিজেদের নিবন্ধন সম্পন্ন করেন। দুপুর বারোটা বিশ মিনিটে সেখানে পৌঁছে ছবি তোলা, আঙুলের ছাপ দেওয়া এবং তথ্য যাচাইয়ের মতো সব আনুষ্ঠানিকতা অত্যন্ত সাধারণ মানুষের মতোই পালন করেন তাঁরা। এটি শুধু একটি সাধারণ নিবন্ধন প্রক্রিয়া ছিল না, বরং প্রতীকীভাবে বাংলাদেশের নাগরিক অধিকার পূর্ণাঙ্গভাবে গ্রহণ করার মধ্য দিয়ে দেশের প্রত্যক্ষ রাজনীতিতে তাঁদের অংশগ্রহণের এক নীরব ও শক্তিশালী সূচনা ছিল। এরপর ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে জাইমা রহমান প্রথমবারের মতো সরাসরি রাজনৈতিক জনসংযোগে নামেন। ঢাকার ১৭ নম্বর আসনে তারেক রহমানের পক্ষে প্রচারণায় নেমে তিনি এক নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতির জন্ম দেন। কোনো ধরনের কঠোর নিরাপত্তা বেষ্টনী বা প্রোটোকল ছাড়াই তিনি একাই সাধারণ মানুষের ভিড়ে মিশে যান। রিকশাচালক, পথচারী, সাধারণ দোকানি থেকে শুরু করে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সাথে তিনি অত্যন্ত সাবলীলভাবে কথা বলেন, তাদের সুখ-দুঃখের কথা শোনেন এবং বোঝার চেষ্টা করেন। এই জনসংযোগে জাইমা একটি অভিনব উদ্যোগ গ্রহণ করেন; তিনি সাধারণ কাগজের বদলে পরিবেশবান্ধব বীজ লিফলেট বিতরণ করেন, যা মাটিতে বা টবে ফেলে রাখলে সেখান থেকে গাছ জন্মায়। তাঁর এই পরিবেশবাদী এবং জনবান্ধব রাজনৈতিক কৌশল সর্বমহলে ব্যাপক প্রশংসিত হয়।

রাজনীতির পাশাপাশি মানবিক এবং সামাজিক দায়বদ্ধতার জায়গাতেও মা ও মেয়ে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করে চলেছেন। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে শুরু হওয়া প্রথম রমজানে তাঁরা কড়াইল এবং ভাসানটেকের বিভিন্ন মহিলা মাদরাসা ও এতিমখানায় গিয়ে নিজ হাতে ইফতার বিতরণ করেন। একসময় বেগম খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন রমজানের প্রথম ইফতার এতিমদের সঙ্গে করতেন। দীর্ঘ সময় পর জুবাইদা ও জাইমা রহমান সেই পুরোনো ও মানবিক ঐতিহ্যকে আবারও নতুন করে ফিরিয়ে এনেছেন। মা জুবাইদা রহমান সাধারণত ক্যামেরার ফ্ল্যাশ বা প্রচার এড়িয়ে চললেও মানুষের সেবায় তিনি সবসময়ই সামনের সারিতে থাকেন। অন্যদিকে জাইমা রহমান শিল্প, সাহিত্য এবং ক্রীড়া কূটনীতিতেও নিজের উৎসাহের কথা জানান দিয়েছেন। রাজনৈতিক ও সামাজিক সম্পর্কের পাশাপাশি প্রতিবেশী দেশগুলোর সাথে কূটনৈতিক সম্পর্ক উন্নয়নের ক্ষেত্রেও তাঁরা কাজ শুরু করেছেন। সম্প্রতি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তাঁর ব্যক্তিগত চিঠিতে তারেক রহমান ও জুবাইদা রহমানকে সপরিবারে ভারত সফরের বিশেষ আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই সফরে জাইমা রহমানের উপস্থিতি দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কে এক নতুন মাত্রা যোগ করবে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের নেতৃত্বের একটি পরিষ্কার বার্তা দেবে। পরিশেষে বলা যায়, ডা. জুবাইদা এবং ব্যারিস্টার জাইমার এই পথচলা আমাদের জন্য এক বিশাল শিক্ষণীয় বিষয়। স্নেহ, মমতা এবং আত্মত্যাগের ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা পারস্পরিক শ্রদ্ধার এই সম্পর্ককে কাজে লাগিয়ে কীভাবে দেশের সাধারণ মানুষের জন্য কাজ করা যায়, তা তাঁরা প্রমাণ করেছেন। মায়ের দেখানো পথ অনুসরণ করে জাইমা রহমান আজ শুধু তারেক রহমানের কন্যা হিসেবেই নন, বরং নিজের যোগ্যতায় আগামীর বাংলাদেশের এক অবিসংবাদিত নেতা হিসেবে নিজেকে প্রস্তুত করছেন, যা বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নিঃসন্দেহে এক নতুন ও ইতিবাচক সমীকরণ।

তথ্যসূত্র: দ্যা ওয়েভ২৪


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category