শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানই স্বাধীনতার প্রকৃত ঘোষক এবং তাঁর ঘোষণার মাধ্যমেই মহান মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয়েছিল—এটি দালিলিকভাবে প্রমাণিত বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। শুক্রবার মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে বিএনপি আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। মন্ত্রী উল্লেখ করেন, ২৫ মার্চ কালরাতে পাক হানাদার বাহিনীর গণহত্যার মুখে চট্টগ্রাম থেকে মেজর জিয়ার বিদ্রোহ ও স্বাধীনতার ডাক ছিল এক অবিসংবাদিত ঐতিহাসিক সত্য।
বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সমালোচনা করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে একটি বিশেষ রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলের জন্য স্বাধীনতার বিকৃত ইতিহাস ও মিথ্যা বয়ান তৈরি করা হয়েছিল। তিনি বলেন, “আওয়ামী লীগ কাউকে ক্রেডিট দিতে রাজি নয়; তারা সবকিছুকে কেবল একজনের কৃতিত্ব হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করেছে। কিন্তু আমরা সবার অবদানের স্বীকৃতি দিতে চাই, কারো প্রাপ্য সম্মান কেড়ে নিতে চাই না।” তিনি আরও যোগ করেন, একাত্তরের ইতিহাস অনন্য এবং একে অন্য কোনো ঘটনার সঙ্গে তুলনা করে খাটো করার সুযোগ নেই।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে বিএনপির লড়াই-সংগ্রামের ইতিহাস তুলে ধরে বলেন, বহুদলীয় সংসদীয় রাজনীতি প্রবর্তন এবং স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে বেগম খালেদা জিয়ার আপসহীন নেতৃত্ব বাংলাদেশের ইতিহাসের এক উজ্জ্বল অধ্যায়। চব্বিশের ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “এই অভ্যুত্থান আমাদের স্বৈরাচারমুক্ত করেছে ঠিকই, কিন্তু রাষ্ট্র এখনও পুরোপুরি নতুন করে বিনির্মিত হয়নি। এখন আমাদের মূল কাজ হলো একটি আধুনিক ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গঠন করা।”
সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, বর্তমান সরকার সংসদীয় রাজনীতির চর্চা এবং গঠনমূলক আলোচনার মাধ্যমে দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে বদ্ধপরিকর। তিনি বলেন, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত করাই এই সরকারের অন্যতম লক্ষ্য।
সভায় বিএনপির শীর্ষ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন এবং তাঁরা স্বাধীনতার প্রকৃত ইতিহাস নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার আহ্বান জানান।