ঈদের লম্বা ছুটি এবং সাপ্তাহিক ছুটির কবলে পড়ে দেশের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। টানা কয়েক দিন ব্যাংক ও লজিস্টিক সেবা বন্ধ থাকায় পাম্প মালিকরা সময়মতো তেলের অর্ডার ও পেমেন্ট করতে পারেননি, যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে খুচরা বাজারে। রাজধানীর তেজগাঁও, মহাখালী ও বিজয় সরণিসহ বিভিন্ন এলাকার ফিলিং স্টেশনগুলোতে তেলের জন্য গ্রাহকদের দীর্ঘ অপেক্ষা ও উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে অনেক পাম্পে ব্যক্তিগত গাড়ি ও মোটরসাইকেলের জন্য তেলের সীমা নির্ধারণ বা রেশনিং ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম ডিলার্স, ডিস্ট্রিবিউশন এজেন্টস অ্যান্ড পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোহাম্মদ নাজমুল হক জানিয়েছেন, ঈদের পাঁচ দিনের ব্যাংকিং বিরতি জ্বালানি খাতে বড় ধরনের সংকট তৈরি করেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বর্তমানে প্রাইভেটকারের জন্য সর্বোচ্চ ২০০০ টাকা এবং মোটরসাইকেলের জন্য ৫০০ টাকার তেল বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে। সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ায় অনেকেই প্রয়োজনের অতিরিক্ত তেল সংগ্রহ করার চেষ্টা করছেন, যা সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে। তবে বিপিসি (BPC) কাগজ-কলমে মজুত পর্যাপ্ত দাবি করলেও মাঠপর্যায়ে বিশেষ করে অকটেনের সংকট প্রকট হয়ে উঠেছে।
আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতাও এই সংকটকে আরও ঘনীভূত করেছে। যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যকার যুদ্ধের প্রভাবে এপ্রিল মাসের জন্য নির্ধারিত অনেক জ্বালানি তেলের চালান এখনো অনিশ্চিত। মার্চ মাসে ১৭টি জাহাজের চালান আসার কথা থাকলেও ৬টি এখনো নিশ্চিত করা যায়নি। সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে আসার কথা থাকা ২ লাখ টন অপরিশোধিত তেলও শিপিং রুট ও ফ্রেইট খরচ বেড়ে যাওয়ায় এপ্রিলের মাঝামাঝি পর্যন্ত পিছিয়ে গেছে। বর্তমানে দেশের একমাত্র রিফাইনারি ‘ইস্টার্ন রিফাইনারি’র সক্ষমতা কমিয়ে দৈনিক ৩,৫০০-৪,০০০ টনে নামিয়ে আনা হয়েছে, যাতে হাতে থাকা মজুত দিয়ে আগামী দুই সপ্তাহ পার করা যায়।
এই জরুরি অবস্থা মোকাবিলায় সরকার গতকালই ৩ লাখ টন ডিজেল আমদানির বিশেষ অনুমোদন দিয়েছে। এর মধ্যে এপি এনার্জি ইনভেস্টমেন্টস লিমিটেড ১ লাখ টন এবং সুপারস্টার ইন্টারন্যাশনাল গ্রুপ ২ লাখ টন ডিজেল সরাসরি আন্তর্জাতিক ক্রয় প্রক্রিয়ায় সরবরাহ করবে। এছাড়া চীনের ইউনিপেক থেকে আসা একটি জাহাজ ১০ হাজার টন ডিজেল ও ২০ হাজার টন জেট ফুয়েল নিয়ে বন্দরে পৌঁছানোয় সাময়িক স্বস্তি মিলেছে। তবে অকটেনের মজুত মাত্র এক সপ্তাহের হওয়ায় বিকল্প হিসেবে দেশীয় ‘কনডেনসেট’ বা গ্যাসের উপজাতের ওপর নির্ভরতা বাড়ছে।