ইরানের ওপর ট্রাম্প প্রশাসনের চাপের পারদ আকাশচুম্বী। হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়ার জন্য প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেওয়া আল্টিমেটাম আজ সোমবার (৬ এপ্রিল) শেষ হওয়ার কথা থাকলেও, তিনি সেই সময়সীমা আরও একদিন বাড়িয়েছেন। নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ এক পোস্টে ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছেন, মঙ্গলবারের (৭ এপ্রিল) মধ্যে ইরান যদি নতি স্বীকার না করে, তবে দেশটির গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো গুঁড়িয়ে দেওয়া হবে।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার পোস্টে লিখেছেন, “ইরান যদি মঙ্গলবারের মধ্যে স্ট্রেইট অব হরমুজ পুনরায় না খোলে, তবে আমি তাদের প্রতিটি বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং সেতু ধ্বংস করার কথা ভাবছি।” তিনি আরও যোগ করেন, মঙ্গলবারের পর ইরানে কোনো বিদ্যুৎকেন্দ্র আস্ত থাকবে না এবং কোনো সেতু দাঁড়িয়ে থাকবে না। এমনকি ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি ইরানের তেল সম্পদ দখলেরও ইঙ্গিত দিয়েছেন।
ট্রাম্পের এই হুমকিকে ‘অসহায় ও বোকামিপূর্ণ’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে তেহরান। ইরানের কেন্দ্রীয় সামরিক কমান্ডের জেনারেল আলি আবদোল্লাহি আলিয়াবাদি এক বিবৃতিতে বলেছেন, “ট্রাম্পের এই বার্তার সরল মানে হলো—তোমাদের জন্য নরকের দরজা খুলে যাবে।” দেশটির বিচার বিভাগ সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যম ‘মিজান’ জানিয়েছে, ট্রাম্পের এই অসভ্য ভাষা ইরানীয়দের প্রতিরোধকে আরও দৃঢ় করবে।
ট্রাম্পের এই যুদ্ধংদেহী মনোভাবের তীব্র সমালোচনা করেছেন সেনেটের সংখ্যালঘু নেতা চাক শুমার। তিনি বলেন, “প্রেসিডেন্ট একজন উন্মত্ত লোকের মতো রাগের ঝড় তুলছেন এবং যুদ্ধাপরাধের হুমকি দিচ্ছেন।” তবে ট্রাম্পের মিত্র লিন্ডসে গ্রাহাম এই পদক্ষেপকে সমর্থন করে বলেছেন, “ট্রাম্প অত্যন্ত সিরিয়াস, কূটনৈতিক পথ প্রায় বন্ধ হয়ে এসেছে।”
বুশেহর পারমাণবিক কেন্দ্রে হামলা: গত শনিবার ইরানের বুশেহর পারমাণবিক কেন্দ্রের কাছে একটি প্রক্ষেপণ আঘাত হানে, যাতে একজন নিরাপত্তা কর্মী নিহত হন। তবে আইএইএ জানিয়েছে, বিকিরণের মাত্রা বাড়েনি।
কুয়েতে ড্রোন হামলা: রাতভর ইরানের ড্রোন হামলায় কুয়েতের দুটি বিদ্যুৎ ও পানি ডিসেলিনেশন প্ল্যান্ট এবং তেল স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
উদ্ধার অভিযান: মার্কিন নৌবাহিনী ইরানের গভীর অঞ্চল থেকে তাদের একজন এয়ার ফোর্স কর্নেলকে সফলভাবে উদ্ধার করেছে, যাকে ট্রাম্প ‘সাহসী মিশন’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন।
ক্ষয়ক্ষতি: পেন্টাগনের তথ্যমতে, ইরানের বিরুদ্ধে এই অপারেশনে এ পর্যন্ত ৩৬৫ জন আমেরিকান সার্ভিস সদস্য আহত হয়েছেন।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই যুদ্ধে ইতোমধ্যে হাজার হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ জাহাজ চলাচলের পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের দাম আকাশচুম্বী হয়েছে এবং বৈশ্বিক বাজার নড়বড়ে হয়ে পড়েছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, বেসামরিক অবকাঠামো ও বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলা জেনেভা কনভেনশন অনুযায়ী ‘যুদ্ধাপরাধ’ হিসেবে গণ্য হতে পারে।
নতুন ডেডলাইন
মঙ্গলবার, ৭ এপ্রিল
হামলার লক্ষ্যবস্তু
বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সেতু
মার্কিন সেনা আহত
৩৬৫ জন (পেন্টাগন)
হরমুজ প্রণালী
এখনও বন্ধ