মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা এখন চরম সীমায়। আজ সোমবার ভোর থেকে ইরানের রাজধানী তেহরানসহ দেশটির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ শহরে ব্যাপক বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র। এসব হামলায় তেহরানের অন্যতম শীর্ষ বিদ্যাপীঠ শরিফ প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং সংলগ্ন গ্যাস স্টেশনসহ বেশ কিছু বেসামরিক ও কৌশলগত স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
তেহরানের ৯ নম্বর জেলার মেয়রের বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, শরিফ ইউনিভার্সিটির গ্যাস স্টেশনে হামলার পর ওই এলাকায় গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রাখা হয়েছে। হামলার শিকার হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইটি সেন্টার এবং মসজিদও। এর আগে তেহরান ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি এবং শহীদ বেহেশতি বিশ্ববিদ্যালয়েও হামলার ঘটনা ঘটেছিল। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, সোমবার সকালে তেহরানের পশ্চিমাঞ্চল থেকে ঘন কালো ধোঁয়া উঠতে দেখা গেছে।
কেবল তেহরান নয়, হামলার খবর পাওয়া গেছে বোরোজের্দ, শিরাজ এবং কওম শহর থেকেও। কওম প্রদেশের নিরাপত্তা পরিচালক জানিয়েছেন, একটি আবাসিক এলাকাও হামলার শিকার হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, রাতে স্বাভাবিকের চেয়ে ৫ গুণ বেশি যুদ্ধবিমানের শব্দ শোনা গেছে, যা জনমনে চরম আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে চুক্তি করার জন্য মঙ্গলবার পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়েছেন। ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে তিনি হুমকি দিয়েছেন যে, মঙ্গলবারের মধ্যে যুদ্ধ বন্ধ না হলে ইরানে ‘সবকিছু গুঁড়িয়ে এক করে দেওয়া হবে’। ট্রাম্প অবশ্য ফক্স নিউজকে বলেছেন যে তিনি সোমবারের মধ্যেই একটি চুক্তির ব্যাপারে আশাবাদী, যদিও ইরান বারবার যুক্তরাষ্ট্রের সাথে আলোচনার বিষয়টি অস্বীকার করেছে।
এই চরমপত্রের প্রভাবে বিশ্ববাজারে তেলের দাম হু হু করে বাড়ছে:
ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট: ব্যারেল প্রতি ১১৩.৬২ ডলার (১.৮৬% বৃদ্ধি)।
ব্রেন্ট ক্রুড: ব্যারেল প্রতি ১১০.৩০ ডলার (১.১৬% বৃদ্ধি)।
এদিকে ব্রিটেনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তাদের রাজকীয় বিমান বাহিনী (RAF) মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে একাধিক ইরানি ড্রোন ভূপাতিত করেছে। অন্যদিকে, হরমুজ প্রণালী দিয়ে নিরবচ্ছিন্ন তেল ও গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করতে ওমান ও সংযুক্ত আরব আমিরাত যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন প্রচেষ্টায় অংশ নেওয়ার কথা জানিয়েছে। উল্লেখ্য, যুদ্ধের কারণে ইরান বর্তমানে হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে রেখেছে, যা দিয়ে বিশ্বের ২০ শতাংশ জ্বালানি পরিবহন করা হয়।
২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া এই যুদ্ধ এখন বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। মঙ্গলবারের সময়সীমার মধ্যে কোনো কূটনৈতিক সমাধান আসে কি না, সেদিকেই এখন তাকিয়ে আছে বিশ্ব।