মাদক ব্যবসা এবং ক্রমবর্ধমান সাইবার অপরাধ দমনে কঠোর অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছেন বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির। সোমবার ঢাকার সিআইডি সদর দপ্তরে আয়োজিত দুই দিনব্যাপী ত্রৈমাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভার (জানুয়ারি-মার্চ ২০২৬) সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ বিষয়ে ‘জিরো টলারেন্স’ বা শূন্য সহনশীলতা নীতি শতভাগ বাস্তবায়নের কড়া নির্দেশ দেন। সাম্প্রতিক সময়ে দেশজুড়ে মোবাইল ব্যাংকিং জালিয়াতি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্ল্যাকমেইলিং, হ্যাকিং এবং আন্তঃদেশীয় সিন্ডিকেটের মাধ্যমে মাদক চোরাচালান আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে পুলিশ প্রধানের এই বার্তা অত্যন্ত সময়োপযোগী বলে মনে করছেন অপরাধ বিশ্লেষকরা।
আইজিপি তাঁর বক্তব্যে অপরাধ তদন্তে পুলিশের শীর্ষ বা ‘এপেক্স’ সংস্থা হিসেবে সিআইডির (অপরাধ তদন্ত বিভাগ) গুরুদায়িত্বের কথা স্মরণ করিয়ে দেন। তিনি বলেন, সিআইডির তদন্ত কার্যক্রমের ওপর দেশের সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা অনেক বেশি। তাই মান্ধাতা আমলের পদ্ধতির বদলে বিজ্ঞানভিত্তিক ও আধুনিক তদন্ত কৌশল অনুসরণ করে দ্রুততম সময়ে মামলার মানসম্মত নিষ্পত্তি নিশ্চিত করতে হবে। বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে ডিজিটাল দুনিয়ায় অপরাধের ধরন যেহেতু প্রতিনিয়ত বদলাচ্ছে, তাই উন্নত বিশ্বের মতো বাংলাদেশ পুলিশকেও সাইবার ফরেনসিক ও ক্রাইম সিন ব্যবস্থাপনায় আরও চৌকস হতে হবে। যেকোনো জরুরি প্রয়োজনে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে ‘কুইক রেসপন্স টিম’ সদা প্রস্তুত রাখার ওপরও তিনি বিশেষ জোর দেন।
পুলিশ বাহিনীর ভাবমূর্তি রক্ষায় সদস্যদের ব্যক্তিগত নৈতিকতা ও সততার বিষয়েও কঠোর বার্তা দেন আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকির। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, ব্যক্তিগত স্বার্থ, অপেশাদার আচরণ বা দুর্নীতির কারণে গোটা বাহিনীর সম্মান ক্ষুণ্ন হলে তা কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না। একইসঙ্গে সদ্য সমাপ্ত জাতীয় নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করায় পুলিশের যে নতুন আত্মবিশ্বাস তৈরি হয়েছে, সেটিকে পুঁজি করে সম্মিলিত প্রচেষ্টায় একটি সত্যিকারের জনবান্ধব পুলিশিং ব্যবস্থা গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সিআইডি প্রধান ও অতিরিক্ত আইজিপি মোসলেহ উদ্দিন আহমদ। তিনি জানান, গত দুই দিনের এই ম্যারাথন সম্মেলনে সারা দেশের মাঠ পর্যায় থেকে উঠে আসা তথ্যের ভিত্তিতে আগামী তিন মাসের জন্য একটি বাস্তবসম্মত ও কার্যকর কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয়েছে। অতীত অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে পুলিশ এখন যেকোনো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রস্তুত বলে তিনি উল্লেখ করেন। সদর দপ্তর ও অনলাইনে যুক্ত জেলা পর্যায়ের কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানের শেষভাগে সিআইডির বেশ কয়েকজন চৌকস কর্মকর্তাকে তাঁদের সাহসিকতা ও কৃতিত্বপূর্ণ কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ বিশেষ পুরস্কারে ভূষিত করা হয়।