সারাদেশে একযোগে উৎসবমুখর অথচ কড়া নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে শুরু হয়েছে চলতি বছরের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমানের পরীক্ষা। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সকাল ১০টায় দেশের তিন হাজার ৮৮৫টি কেন্দ্রে এই মেধা যাচাইয়ের লড়াই শুরু হয়, যা একটানা চলবে আগামী ২০ মে পর্যন্ত। প্রথম দিনে নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের অধীনে অনুষ্ঠিত হচ্ছে বাংলা (আবশ্যিক) প্রথম পত্র এবং সহজ বাংলা প্রথম পত্রের পরীক্ষা। অন্যদিকে, মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের শিক্ষার্থীরা কোরআন মাজিদ ও তাজভিদ এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষার্থীরা অংশ নিচ্ছেন বাংলা দ্বিতীয় পত্রের পরীক্ষায়। যানজট এড়িয়ে পরীক্ষার্থীরা যেন নির্বিঘ্নে ও সময়মতো কেন্দ্রে পৌঁছাতে পারে, সেজন্য রাজধানীসহ দেশের বড় শহরগুলোতে ট্রাফিক পুলিশের পক্ষ থেকে বিশেষ নজরদারি ও প্রস্তুতি লক্ষ্য করা গেছে।
এ বছর দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে মোট ১৮ লাখ ৫৭ হাজার ৩৪৪ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এবার ছাত্রদের সংখ্যা ৯ লাখ ৩০ হাজার ৩০৫ জন এবং ছাত্রীদের সংখ্যা ৯ লাখ ২৭ হাজার ৩৯ জন, অর্থাৎ ছাত্র-ছাত্রীর অংশগ্রহণে প্রায় সমতা বিরাজ করছে। তবে শিক্ষাবিদ ও বিশ্লেষকদের নজরে এসেছে পরীক্ষার্থীর সংখ্যা হ্রাসের বিষয়টি। গত বছরের তুলনায় এবার পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ৭১ হাজারের বেশি কমেছে। শিক্ষাসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দেশীয় গণমাধ্যমের বিশ্লেষণ এবং বিশেষজ্ঞদের মতে, করোনা-পরবর্তী সময়ে অর্থনৈতিক কারণে শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়ার হার এবং স্কুলগুলোতে নির্বাচনী বা টেস্ট পরীক্ষায় আগের চেয়ে বেশি কড়াকড়ির কারণেই মূলত চূড়ান্ত পরীক্ষার্থীর এই সংখ্যাগত অবনমন ঘটেছে।
পরীক্ষা ঘিরে যেকোনো ধরনের অনিয়ম ও প্রশ্নফাঁসের গুজব এড়াতে এবার ‘জিরো টলারেন্স’ বা শূন্য সহনশীলতার নীতি গ্রহণ করেছে শিক্ষা প্রশাসন। আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সব কেন্দ্রকে সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় আনা হয়েছে। পাশাপাশি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কেউ যেন ভুয়া প্রশ্ন ছড়িয়ে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের বিভ্রান্ত করতে না পারে, সেজন্য সাইবার জগতেও গোয়েন্দা নজরদারি ও সাইবার পুলিশের টহল জোরদার করা হয়েছে। সুষ্ঠু ও শান্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে কেন্দ্রগুলোর ২০০ গজের মধ্যে ১৪৪ ধারা জারি করে বহিরাগতদের প্রবেশ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করেছে স্থানীয় প্রশাসন। এছাড়া কেন্দ্রের ভেতরে স্মার্টওয়াচ, মোবাইল ফোনসহ সব ধরনের ইলেকট্রনিক ডিভাইস ব্যবহারের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হলে আগামী ৬০ দিনের মধ্যেই ফলাফল প্রকাশ করা হবে বলে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রথাগত নিয়ম থেকে ধারণা করা হচ্ছে।