• বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ০২:৪২ অপরাহ্ন
Headline
ঋণের পাহাড় ও শূন্য থলের আখ্যান: চরম অর্থকষ্টে কোন পথে বাংলাদেশ? ফখরুলের ‘ক্লান্তি’: স্বেচ্ছায় বিদায় নাকি ‘মাইনাস’? জাতীয় সংসদ সদস্য (এমপি) নির্বাচিত হলে যেসব সরকারি সুযোগ-সুবিধা পাওয়া যায় খাদের কিনারে অর্থনীতি: ড. ইউনূসের আমল নিয়ে বিস্তর প্রশ্ন নাহিদার ঘূর্ণিও বৃথা: ব্যাটারদের ব্যর্থতায় হারল বাংলাদেশ পেপ্যাল আসছে, জানালেন প্রধানমন্ত্রী ‘স্মার্ট কৃষি’ নিয়ে একগুচ্ছ পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার : প্রধানমন্ত্রী প্রাথমিকের শিশুদের বিনামূল্যে জুতা: সরকারের আর কী চমক থাকছে? উর্দুভাষী বাংলাদেশিদের স্থায়ী পুনর্বাসনের বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে: প্রধানমন্ত্রী বাস ভাড়া না বাড়ানোর নির্দেশ

দিল্লি-ঢাকা সম্পর্ক: তারেক রহমানের প্রথম মাসে যে ৫ সূচকে নজর

Reporter Name / ৪৪ Time View
Update : বুধবার, ১৮ মার্চ, ২০২৬

বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে। গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশের বেশি সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করেছে বিএনপি। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানের দায়িত্ব গ্রহণের এক মাস পূর্ণ হলো। নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের দেড় বছরের শাসনামলে প্রতিবেশী ভারতের সঙ্গে যে এক ধরনের স্থবিরতা ও শীতলতা বিরাজ করছিল, তা ধীরে ধীরে কাটতে শুরু করেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর, দিল্লির চোখে অন্তর্বর্তী সরকার ছিল একটি ‘অনির্বাচিত’ সরকার। এই যুক্তিতেই দিল্লি ঢাকার সঙ্গে ‘এনগেজমেন্ট’ কার্যত স্থগিত রেখেছিল, থমকে গিয়েছিল গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক আলোচনা ও হাই-প্রোফাইল সফরগুলো। ১৩ ফেব্রুয়ারি সকালে বিএনপির নিরঙ্কুশ বিজয় নিশ্চিত হওয়ার পরই প্রথম যে বিশ্বনেতারা ভাবী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানান, তাঁদের মধ্যে ছিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সেদিন বিকেলে টেলিফোনেও তাঁদের কথা হয়, যা সম্পর্ক সহজ করার একটি স্পষ্ট ইঙ্গিত। তবে বরফ গলার এই প্রক্রিয়া সত্যিই প্রত্যাশিত পথে এগোবে কি না, তা বুঝতে আগামী কয়েক মাসে পাঁচটি নির্দিষ্ট সূচক বা লক্ষণের দিকে নজর রাখতে হবে।

১. ভিসা কার্যক্রম কি আবার স্বাভাবিক হবে?

কোভিড মহামারির আগের বছরগুলোতে চিকিৎসাসহ নানা কারণে প্রায় ২০ লাখ বাংলাদেশি ভারতে গিয়েছিলেন, যা বিদেশি পর্যটকদের মধ্যে সর্বোচ্চ ছিল। কিন্তু ২০২৪ সালের আগস্টে ভারত তাদের ভিসা কার্যক্রম কার্যত বন্ধ করে দেওয়ার পর এই সংখ্যা হু হু করে কমে যায়। গত এক মাসে বাংলাদেশে নিযুক্ত একাধিক ভারতীয় কূটনীতিক প্রকাশ্যেই বলেছেন, ভারত ধীরে ধীরে ভিসা কার্যক্রম স্বাভাবিক করার পথে এগোবে এবং পর্যটন ভিসাও দেওয়া শুরু করবে। এটি সত্যিই কার্যকর হলে, তা হবে সম্পর্ক সহজ করার ক্ষেত্রে একটি বড় ইতিবাচক পদক্ষেপ।

২. তারেক রহমানের প্রথম বিদেশ সফর কোথায়?

যেকোনো দেশের নতুন সরকারপ্রধান তাঁর প্রথম বিদেশ সফরের গন্তব্য হিসেবে কোন দেশকে বেছে নেন, সেটি সেই সরকারের পররাষ্ট্রনীতির অগ্রাধিকারের জোরালো বার্তা দেয়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যদি প্রথমে দিল্লিতে যান, তবে বোঝা যাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জুড়ে থাকা ভারত-বিরোধিতার তকমা থেকে তাঁর সরকার বেরিয়ে আসার চেষ্টা করছে। তবে তিনি চাইলে প্রথম সফরে সৌদি আরব, বেইজিং বা অন্য কোনো দেশেও যেতে পারেন। কূটনৈতিক সূত্রে আভাস, মে মাসে ভারতের কয়েকটি রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের পর্ব মেটার আগে তারেক রহমানের ভারত সফরের সম্ভাবনা কম।

৩. ভারতীয় ক্রিকেট দলের বাংলাদেশ সফর

ক্রিকেট দুই দেশের সম্পর্কের একটি বড় নিয়ামক। গত বছরের (২০২৫) আগস্টে রাজনৈতিক কারণে ভারতীয় দলের বাংলাদেশ সফর বাতিল করা হয়। আইপিএলে কলকাতা নাইট রাইডার্স থেকে মুস্তাফিজুর রহমানকে বাদ দেওয়ার জেরে বাংলাদেশ ভারতের মাটিতে বিশ্বকাপ খেলতে অস্বীকৃতি জানায়। এ তিক্ততার পর, চলতি বছরের জুনের দিকে ভারতীয় বোর্ড বাংলাদেশকে দেওয়া তাদের প্রস্তাবিত ‘রিশিডিউলড’ সফরের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করবে কি না, তা সম্পর্ক উন্নয়নের একটি বড় সূচক হতে পারে।

৪. কানেক্টিভিটি প্রকল্পগুলোর অগ্রগতি

গত দেড় বছরের বেশি সময় ধরে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে মৈত্রী, বন্ধন ও মিতালী এক্সপ্রেসের মতো যাত্রীবাহী ট্রেন এবং আন্তর্জাতিক বাস পরিষেবা সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। এছাড়া ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের জন্য ‘গেমচেঞ্জার’ হিসেবে পরিচিত আগরতলা-আখাউড়া রেল সংযোগ প্রকল্পের কাজও সামান্য বাকি থাকা অবস্থায় থমকে আছে। তারেক রহমানের নতুন সরকারের আমলে এই থমকে থাকা কানেক্টিভিটি প্রকল্পগুলো কত দ্রুত আলোর মুখ দেখে, তা দুই দেশের সম্পর্কের গতিপ্রকৃতি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

৫. গঙ্গা জল চুক্তির নবায়ন কবে?

১৯৯৬ সালের ডিসেম্বরে স্বাক্ষরিত গঙ্গা জল চুক্তির ৩০ বছরের মেয়াদ শেষ হচ্ছে চলতি বছরের (২০২৬) ডিসেম্বরেই। অতি গুরুত্বপূর্ণ এই চুক্তিটি কোন শর্তে নবায়ন হবে, সে বিষয়ে রাজনৈতিক পর্যায়ের আলোচনা দীর্ঘদিন ধরে থমকে আছে। সময়মতো চুক্তিটি নবায়ন না হলে পানি বণ্টন নিয়ে বিরাট জটিলতা তৈরি হবে। আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে দুই দেশের মধ্যে এই চুক্তির নবায়ন নিয়ে রাজনৈতিক আলোচনা শুরু হলে বোঝা যাবে, জটিল সমস্যা সমাধানে দুই সরকারেরই সদিচ্ছা রয়েছে। তবে পশ্চিমবঙ্গের আসন্ন বিধানসভা নির্বাচন এবং সেখানে তৃণমূল কংগ্রেসের অবস্থান এই চুক্তির আলোচনায় প্রভাব ফেলতে পারে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category