• সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬, ০৬:১৮ অপরাহ্ন
Headline
মধ্যবয়সী নারীর সংকট: ভিন্ন ভাবনা যুক্তরাষ্ট্র-ইরান ঐতিহাসিক চুক্তি: সমঝোতার মূল শর্তাবলি ও মধ্যপ্রাচ্যের ভবিষ্যৎ শূন্যরেখায় ৩ দিন আটকে থাকার পর ১২ জনকে ফেরত নিল বিএসএফ অনলাইন প্রতারণা মামলায় কনটেন্ট ক্রিয়েটর তৌহিদ আফ্রিদিকে গ্রেফতার দেখাল আদালত স্থানীয় নির্বাচনে প্রার্থী বাছাইয়ে বিএনপির তিন মানদণ্ড, জোটবদ্ধ ভোটের চিন্তা বেনজীরের বিরুদ্ধে ৩টি গ্রেফতারি পরোয়ানা, দেশে ফিরলেই রিমান্ড চাইবে ট্রাইব্যুনাল ইসলামী ব্যাংককে আরও ২৫০০ কোটি টাকা বিশেষ ধার দিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক, পর্ষদ বাতিল আদ-দ্বীন মেডিক্যালের শিক্ষার্থীদের প্রশিক্ষণ নিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর আশ্বাস দেড় বছরে নতুন রোহিঙ্গা এসেছে এক লাখ ৫২ হাজার দিল্লির ঘটনায় ভারতীয় দূতকে তলব করল পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়

দেড় বছরে নতুন রোহিঙ্গা এসেছে এক লাখ ৫২ হাজার

Reporter Name / ২ Time View
Update : সোমবার, ১৫ জুন, ২০২৬

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে দেশটির সামরিক জান্তা ও সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে চলমান তীব্র সংঘাতের জেরে বাংলাদেশ সীমান্তে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের ঢল কোনোভাবেই থামানো যাচ্ছে না। গত ২০২৪ সালের ডিসেম্বর থেকে চলতি বছরের (২০২৬) ৩১শে মে পর্যন্ত মাত্র দেড় বছরে নতুন করে বাংলাদেশে প্রবেশ করা ও নিবন্ধিত হওয়া রোহিঙ্গার সংখ্যা ১ লাখ ৫২ হাজার ২৯ জনে দাঁড়িয়েছে। জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর (UNHCR) আজ সোমবার (১৫ই জুন) তাদের সর্বশেষ মাসিক প্রতিবেদনে এই উদ্বেগজনক তথ্য প্রকাশ করেছে। সংস্থাটির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, কেবল গত মে মাসেই নতুন করে ২ হাজার ২৬০ জন রোহিঙ্গা সীমান্ত গলে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে এবং তাদের শরণার্থী হিসেবে সফলভাবে নিবন্ধন করা হয়েছে।

ইউএনএইচসিআর-এর পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, চলতি বছরের গত মার্চ মাস পর্যন্ত নতুন অনুপ্রবেশকারী নিবন্ধিত রোহিঙ্গার মোট সংখ্যা ছিল ১ লাখ ৪৯ হাজার ৭৬৯ জন, যা মে মাসের শেষ নাগাদ ১ লাখ ৫২ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। এর বাইরে বর্তমানে কক্সবাজার ও ভাসানচরের বিভিন্ন ক্যাম্পে অবস্থানরত মোট নিবন্ধিত ও চিহ্নিত রোহিঙ্গার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১১ লাখ ৯৭ হাজার ৪১১ জনে, যা বাংলাদেশের অর্থনীতি, পরিবেশ ও সার্বিক নিরাপত্তার ওপর এক বিশাল নতুন চাপ তৈরি করেছে।

জাতিসংঘের সংস্থাটি তাদের প্রতিবেদনে স্পষ্ট করে জানিয়েছে, ২০২৪ সালের শুরু থেকে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে লক্ষ্য করে তীব্র জাতিগত সহিংসতা, দমন-পীড়ন, বিমান হামলা ও ঘরবাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনা বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। রাখাইনে চলমান এই ভয়াবহ যুদ্ধের কারণে হাজার হাজার বেসামরিক রোহিঙ্গা নাগরিক নিহত ও পঙ্গু হয়েছেন। জীবন বাঁচানোর আর কোনো পথ না পেয়ে আন্তর্জাতিক আইন ও সীমান্ত কড়াকড়ি উপেক্ষা করে প্রাণভয়ে হাজার হাজার রোহিঙ্গা পরিবার প্রতিনিয়ত বাংলাদেশে এসে নিরাপত্তার সন্ধান করছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের শেষের দিকে সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে নতুন আগত শরণার্থীদের একটি বিশাল ঢেউ বা আকস্মিক আগমন লক্ষ্য করা গিয়েছিল। বর্তমানে কক্সবাজারের শরণার্থী ক্যাম্পগুলোতে আশ্রয় নেওয়া এই বিপুল সংখ্যক নতুন অনুপ্রবেশকারীদের আইনি সুরক্ষার আওতায় আনতে এবং তাদের রেশন নিশ্চিত করতে বায়োমেট্রিক আইডেন্টিফিকেশন (আঙুলের ছাপ ও চোখের মণি স্ক্যান) বা নিবন্ধনের কাজ দ্রুতগতিতে চালিয়ে যাচ্ছে সংস্থাটি।

গত ৩১শে মে ২০২৬ পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ইউএনএইচসিআর এবং বাংলাদেশ সরকার যৌথভাবে মোট ১০ লাখ ৪৫ হাজার ৩৮২ জন রোহিঙ্গাকে আনুষ্ঠানিকভাবে তালিকাভুক্ত বা বায়োমেট্রিক নিবন্ধন সম্পন্ন করেছে—যারা মূলত ১৯৯০ এবং ২০১৭ সালের বড় দুটি সামরিক অভিযানের পর মিয়ানমার থেকে স্থায়ীভাবে বাস্তুচ্যুত হয়েছে। এই সরকারি নিবন্ধনের প্রধান দুটি বিভাগ হলো:

  • ১৯৯০ সালের পর আগত রোহিঙ্গা: ৩৯ হাজার ৭৩৭ জন।

  • ২০১৭ সালের সেনা অভিযানের পর আগত রোহিঙ্গা: ১০ লাখ ৫ হাজার ৬৪৫ জন।

এর বাইরে গত দেড় বছরে আসা নতুন ১ লাখ ৫২ হাজার রোহিঙ্গার নিবন্ধন ও ডাটাবেজ তৈরির প্রক্রিয়াটি পৃথকভাবে সম্পন্ন করা হচ্ছে।

ইউএনএইচসিআর-এর মানবিক সহায়তার প্রতিবেদনে নতুন আসা ও ক্যাম্পে থাকা শরণার্থীদের ভেতর এক আশঙ্কাজনক জনসংখ্যার চিত্র উঠে এসেছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, মোট রোহিঙ্গা শরণার্থীদের মধ্যে প্রায় ৭৮ শতাংশই হচ্ছে নারী এবং শিশু। পুরুষদের একটি বড় অংশ রাখাইনে নিখোঁজ বা নিহত হওয়ায় নারীরা একা সন্তানদের নিয়ে বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছেন।

এছাড়া মোট শরণার্থীর মধ্যে ১২ শতাংশ মানুষ অত্যন্ত নাজুক ও বিশেষ ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছেন শারীরিক ও মানসিক প্রতিবন্ধী ব্যক্তি, একা সন্তান লালন-পালন করা একক পিতা বা মাতা (Single Parents), জটিল ও দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্ত রোগী, পরিবার বা অভিভাবকহীন একা চলে আসা অপ্রাপ্তবয়স্ক শিশু, চরম ঝুঁকিতে থাকা প্রবীণ বা বয়োবৃদ্ধ মানুষ এবং এমন ব্যক্তি যাদের অনতিবিলম্বে বিশেষ আইনি এবং শারীরিক নিরাপত্তা প্রয়োজন। আন্তর্জাতিক সংস্থাটি সতর্ক করে জানিয়েছে, বিপুল সংখ্যক এই বিশেষ জনগোষ্ঠীর জন্য পর্যাপ্ত খাদ্য, স্যানিটেশন, চিকিৎসা এবং আন্তর্জাতিক মানবিক সাহায্য নিশ্চিত করা না গেলে ক্যাম্পগুলোর সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে।

তথ্যসূত্র: ঢাকা ট্রিবিউন


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category