চাকরির প্রলোভন এবং অনলাইন বিনিয়োগের নামে সাধারণ মানুষের সাথে প্রতারণা ও বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগে দায়ের করা একটি মামলায় দেশের আলোচিত কনটেন্ট ক্রিয়েটর তৌহিদ আফ্রিদিকে নতুন করে গ্রেফতার (শোন অ্যারেস্ট) দেখানো হয়েছে।
আজ সোমবার (১৫ জুন) কেরানীগঞ্জের কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে তৌহিদ আফ্রিদিকে কড়া নিরাপত্তায় ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতে হাজির করে পুলিশ। এরপর রাজধানীর ওয়ারী থানায় দায়ের করা এই প্রতারণা মামলায় তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেফতার দেখানোর জন্য আদালতের কাছে আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা। শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. হাসান শাহাদাত আফ্রিদিকে এই মামলায় গ্রেফতার দেখানোর আবেদন মঞ্জুর করেন। আইনি প্রক্রিয়া শেষে আদালত তাঁকে পুনরায় কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
আদালত ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫ সালের ১৩ই জানুয়ারি চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে একটি সংঘবদ্ধ অনলাইন প্রতারক চক্র ভুক্তভোগী বাদী সৈয়দা আশফাহ তোয়াহা দ্যুতির সঙ্গে হোয়াটসঅ্যাপ এবং টেলিগ্রামের মাধ্যমে যোগাযোগ করে। চক্রটি শুরুতে ভুক্তভোগীকে বিভিন্ন পার্ট-টাইম বা অনলাইন কাজের লোভ দেখিয়ে ধাপে ধাপে মোটা অঙ্কের টাকা বিনিয়োগ করতে প্রলুব্ধ করে।
বিশ্বাসযোগ্যতা অর্জনের জন্য প্রথম দিকে তারা অল্প কিছু টাকা লভ্যাংশ বা মুনাফাসহ ভুক্তভোগীকে ফেরত দেয়। এই ফাঁদে পা দিয়ে ভুক্তভোগী পরবর্তীতে বড় অঙ্কের মুনাফা পাওয়ার আশায় ধাপে ধাপে মোট ২ লাখ ৩৫ হাজার টাকা ওই চক্রের অ্যাকাউন্টে জমা দেন। এরপর আসল টাকা ও মুনাফা ফেরত দেওয়ার চূড়ান্ত আশ্বাস দিয়েও চক্রটি সম্পূর্ণ যোগাযোগ বন্ধ করে দেয় এবং মোট টাকা আত্মসাৎ করে। এই জালিয়াতির ঘটনায় সৈয়দা আশফাহ তোয়াহা দ্যুতি বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে ওয়ারী থানায় একটি মামলা দায়ের করেছিলেন। তদন্তে এই চক্রের সাথে তৌহিদ আফ্রিদির পরোক্ষ বা প্রত্যক্ষ সম্পৃক্ততা পাওয়ার পর তাঁকে এই মামলায় যুক্ত করা হয়।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ই আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর গত বছরের ২৪শে আগস্ট রাতে বরিশালের একটি গোপন আস্তানা থেকে তৌহিদ আফ্রিদিকে প্রথমবার গ্রেফতার করেছিল পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। তাঁর বিরুদ্ধে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন কেন্দ্রিক একাধিক মামলাসহ বিভিন্ন ফৌজদারি অপরাধের অভিযোগ রয়েছে। সেই গ্রেফতারের পর থেকেই তিনি আদালতের নির্দেশে টানা কারাগারে আটক রয়েছেন। এবার পুরোনো সেই সব মামলার পাশাপাশি নতুন করে এই অনলাইন আর্থিক প্রতারণার মামলায়ও তাঁকে গ্রেফতার দেখানো হলো, যা তাঁর আইনি জটিলতাকে আরও বাড়িয়ে দিল বলে মনে করছেন আইনজীবীরা।