জনপ্রিয় চিত্রনায়ক সালমান শাহ’র মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনে দীর্ঘ তিন দশক পর আবারও তাঁর মরদেহ কবর থেকে পুনরায় উত্তোলনের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। গত ২৪ মে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সিআইডি পুলিশের পরিদর্শক জিয়াউল মোর্শেদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে এই আদেশ দেন। বুধবার (১০ জুন) বিষয়টি নিশ্চিত করে তদন্ত কর্মকর্তা জানান, প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষ করে সিলেটের হযরত শাহজালাল (র.) এর মাজার প্রাঙ্গণ কবরস্থান থেকে লাশ উত্তোলন করা হবে এবং এরপর নতুন করে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি ও ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করা হবে। এর আগে ১৯৯৬ সালে দাফনের মাত্র ৯ দিনের মাথায় প্রথমবার লাশ তোলা হলেও পচন ধরার কারণে মেডিকেল বোর্ড মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ নির্ধারণ করতে পারেনি।
দীর্ঘ ২৯ বছর ধরে ঝুলে থাকা এই মৃত্যুর রহস্য উদঘাটনে সম্প্রতি আইনি প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের নতুন মোড় এসেছে। গত ২০ অক্টোবর আদালত সালমান শাহ’র মৃত্যুর ঘটনায় হওয়া ‘অপমৃত্যু’ মামলাটি ‘হত্যা মামলা’ হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দেন। এর পরদিনই (২১ অক্টোবর) রাজধানীর রমনা থানায় সালমান শাহ’র মামা মোহাম্মদ আলমগীর কুমকুম বাদী হয়ে দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। এই মামলায় সালমান শাহ’র স্ত্রী সামীরা হক, সাবেক চলচ্চিত্র প্রযোজক আজিজ মোহাম্মদ ভাই, খলনায়ক ডন, লতিফা হক লুছি, ডেবিট, জাভেদ, ফারুক, মে-ফেয়ার বিউটি সেন্টারের রুবি, আব্দুস সাত্তার, সাজু ও রেজভি আহমেদ ফরহাদসহ অজ্ঞাতনামা আরও অনেককে আসামি করা হয়েছে।
লাশ উত্তোলনের আবেদন ও মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর সকাল সাড়ে ৯টার দিকে সালমান শাহ’র মা নিলুফা জামান চৌধুরী (নীলা চৌধুরী), বাবা মৃত কমর উদ্দিন আহমদ চৌধুরী এবং ছোট ভাই শাহরান শাহ নিউ ইস্কাটন রোডের বাসায় সালমানের সঙ্গে দেখা করতে যান। তখন স্ত্রী সামীরা ও কর্মচারী আবুল তাঁদের জানান যে সালমান শাহ ঘুমিয়ে আছেন। এরপর তাঁরা গ্রিন রোডের বাসায় ফিরে যাওয়ার পর বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ফোন পেয়ে পুনরায় ইস্কাটনের বাসায় এসে সালমান শাহকে শয়নকক্ষে খাটের ওপর অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। তাৎক্ষণিকভাবে তাঁকে হলি ফ্যামিলি ও পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। যদিও প্রথম ময়নাতদন্তে এটিকে আত্মহত্যা বলা হয়েছিল, তবে নতুন করে হত্যা মামলার পুনঃতদন্তের অংশ হিসেবে এই সুরতহাল ও ময়নাতদন্তের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের আলোচিত এই মৃত্যুরহস্যের আসল সত্য বেরিয়ে আসবে বলে আশা করছেন তদন্তসংশ্লিষ্টরা।