• মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ০১:৪৫ অপরাহ্ন
Headline
গণমাধ্যম রাষ্ট্র ও সমাজে আয়নার দায়িত্ব পালন করে : তথ্যমন্ত্রী স্বাধীন গণমাধ্যমের জন্য নীতিমালা প্রণয়নে সম্পাদকদের সহযোগিতা চান প্রধানমন্ত্রী সিআইডি-ডিএমপিসহ বিভিন্ন ইউনিটে ৯৩ শিক্ষানবিশ এএসপির পদায়ন শাপলা চত্বরে ‘গণহত্যা’ হয়েছে: চিফ প্রসিকিউটর ২৬ টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিক: তদন্তে হাইকোর্টে রিট ধর্ষণ মামলায় মাগুরার সাবেক এসপি জহিরুলের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা খেলাপি ঋণের দুই মামলায় রিজেন্ট সাহেদ ফের গ্রেপ্তার চট্টগ্রামে পিস্তল-গুলিসহ ডেভিড ইমনের ২ সহযোগী গ্রেপ্তার প্রশাসনে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ ঘিরে কর্মকর্তাদের মাঝে অসন্তোষ নিজের বেতন নিজেই মেটান ভিনি!

দেশে ১৬ মাসে ৫৮০ শিশু ধর্ষণ, ৪৮৩ জনকে হত্যা: এইচআরএসএস

Reporter Name / ৬৫ Time View
Update : শুক্রবার, ২২ মে, ২০২৬

দেশে শিশু নির্যাতনের ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরেছে হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি (এইচআরএসএস)। সংগঠনটির দেওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ১৬ মাসে দেশে অন্তত ৫৮০ জন শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে এবং ৪৮৩ জন শিশুকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২১ মে) এইচআরএসএসের নির্বাহী পরিচালক ইজাজুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এই উদ্বেগজনক তথ্য প্রকাশ করা হয়। বিবৃতিতে জানানো হয়, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের এপ্রিল পর্যন্ত দেশে সর্বমোট ১ হাজার ৮৯০ জন শিশু ও কিশোরী নানাভাবে নির্যাতনের শিকার হয়েছে।

সংগঠনটির সংগৃহীত তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, উল্লেখিত সময়ে ৪৮৩ জন শিশু নিহত হওয়ার পাশাপাশি ১ হাজার ৪০৭ জন শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়েছে। এর বাইরে আরও অন্তত ৩১৮ জন শিশু যৌন নিপীড়নের শিকার হয়েছে বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়। এইচআরএসএস তাদের পর্যবেক্ষণে জানিয়েছে, শিশু হত্যা, ধর্ষণ ও নির্যাতনের মতো সহিংসতা প্রতিরোধ করা রাষ্ট্রের সাংবিধানিক ও আইনগত দায়িত্ব। কিন্তু ধারাবাহিক এসব ঘটনা প্রমাণ করে যে, শিশু সুরক্ষায় দেশের বিদ্যমান ব্যবস্থা যথেষ্ট কার্যকর নয়। বরং বিচারহীনতার সংস্কৃতি, দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া এবং আইনের দুর্বল প্রয়োগ সার্বিক পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তুলছে।

বিবৃতিতে দেশের সাম্প্রতিক কয়েকটি মর্মান্তিক ঘটনার উদাহরণ টেনে আনা হয়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো গত ১৯ মে রাজধানীর পল্লবীতে দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী সাত বছরের শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর নির্মমভাবে হত্যা। এছাড়া গত ১৬ মে মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখানে ১০ বছরের আছিয়া আক্তারকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যা, ১৪ মে ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈলে চার বছরের শিশু লামিয়া আক্তারকে ধর্ষণের পর হত্যা করে ভুট্টাক্ষেতে ফেলে রাখা এবং ৬ মে সিলেটের জালালাবাদে চার বছরের শিশু ফাহিমা আক্তারকে ধর্ষণচেষ্টার পর হত্যার ঘটনা তুলে ধরা হয়।

এই ভয়াবহ পরিস্থিতির উত্তরণে অবিলম্বে সকল শিশু হত্যা ও ধর্ষণের ঘটনার দ্রুত, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার জোর দাবি জানিয়েছে এইচআরএসএস। একই সঙ্গে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করে ভুক্তভোগী পরিবারগুলোকে নিরাপত্তা, বিনামূল্যে আইনি সহায়তা, ক্ষতিপূরণ, চিকিৎসা এবং মানসিক স্বাস্থ্যসেবা প্রদানের আহ্বান জানানো হয়েছে। শিশুদের জন্য একটি নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে কেবল আইনের প্রয়োগই যথেষ্ট নয়, বরং সামাজিক প্রতিরোধ ও মানবিক মূল্যবোধের পুনর্জাগরণ অত্যন্ত জরুরি উল্লেখ করে সরকার, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান, গণমাধ্যম এবং সাধারণ নাগরিকদের সম্মিলিতভাবে কাজ করার তাগিদ দিয়েছে সংগঠনটি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category