পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে শুরু হলো আনুষ্ঠানিক ঈদযাত্রা। রাজধানী ঢাকার ব্যস্ত কর্মব্যস্ততাকে বিদায় জানিয়ে নাড়ির টানে প্রিয়জনদের কাছে ফিরতে শুরু করেছে লাখো মানুষ। আজ সকাল ৬টায় কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন থেকে রাজশাহীর উদ্দেশ্যে ‘ধূমকেতু এক্সপ্রেস’ ছেড়ে যাওয়ার মধ্য দিয়ে রেলপথে এবারের ঈদযাত্রার সূচনা হয়েছে। সরকারি হিসেব অনুযায়ী, এবারের ঈদে রেকর্ড প্রায় দেড় কোটি মানুষ ঢাকা ছাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ঈদে যাতায়াতের জন্য ঘরমুখো মানুষের প্রথম পছন্দ রেল। প্রতিদিন গড়ে দেড়-দুই লাখ টিকিট ইস্যু করা হলেও চাহিদা থাকে তার চেয়ে ১০ গুণ বেশি।
বিশেষ ট্রেন: ঈদ উপলক্ষে পাঁচ জোড়া বিশেষ ট্রেন নামিয়েছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।
আসনবিহীন টিকিট: মোট টিকিটের ২৫ শতাংশ স্ট্যান্ডিং বা আসনবিহীন টিকিট বিক্রি করা হচ্ছে।
নিরাপত্তা: ছাদে ভ্রমণ রোধে এবং কালোবাজারি রুখতে কমলাপুর ও বিমানবন্দর স্টেশনে বিশেষ তদারকি ও মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হচ্ছে।
সড়কপথে নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিতে জাতীয় মহাসড়কগুলো সংস্কার করা হলেও ২০৭টি স্পটে যানজটের তীব্র শঙ্কা করছে হাইওয়ে পুলিশ।
ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা: সবচেয়ে বেশি ৫৫টি ঝুঁকিপূর্ণ স্পট রয়েছে ঢাকা-টাঙ্গাইল-রংপুর মহাসড়কে। এরপরই আছে ঢাকা-চট্টগ্রাম (৪৫টি) ও ঢাকা-সিলেট (৪৩টি) মহাসড়ক।
বাস টার্মিনাল: মহাখালী, সায়েদাবাদ ও গাবতলী টার্মিনালে সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে পুলিশের কন্ট্রোল রুম থেকে সার্বক্ষণিক মনিটরিং করা হচ্ছে।
নৌ-দুর্ঘটনা এড়াতে ১৬ থেকে ২৫ মার্চ পর্যন্ত বাল্কহেড ও ডিঙি নৌকা চলাচল নিষিদ্ধ করা হয়েছে। সদরঘাট এলাকায় যানজট কমাতে জিরো পয়েন্ট থেকে টার্মিনাল পর্যন্ত বিশেষ ট্রাফিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ফেরিতে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে দ্রুত পচনশীল পণ্যবাহী গাড়ি পারাপারের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
প্রতি বছরের মতো এবারও রেলের ইঞ্জিন সংকট এবং মহাসড়কের ঝুঁকিপূর্ণ স্পটগুলো কিছুটা দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে সরকারের তিন মন্ত্রণালয়ের সমন্বিত তৎপরতা এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারি যদি সঠিক থাকে, তবে এবার দেড় কোটি মানুষের ঘরে ফেরা আগের চেয়ে কিছুটা স্বস্তিদায়ক হতে পারে।