উত্তরাঞ্চলের সীমান্তঘেঁষা জেলা পঞ্চগড়ের ভূ-রাজনৈতিক গুরুত্ব ও সীমান্ত নিরাপত্তা বিবেচনা করে সেখানে একটি নতুন সেনানিবাস (ক্যান্টনমেন্ট) স্থাপনের দাবি জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম। গতকাল বুধবার (১৭ জুন) রাত সাড়ে ৯টার দিকে নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক সংক্ষিপ্ত পোস্টে সরকারের উচ্চপর্যায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করে তিনি এই দাবি উত্থাপন করেন।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া ওই সংক্ষিপ্ত পোস্টে সারজিস আলম লেখেন, “মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, পঞ্চগড়ে ক্যান্টনমেন্ট চাই।”
বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের তিন দিক দিয়ে বেষ্টিত এবং কৌশলগতভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল জেলা পঞ্চগড়ের সার্বিক নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার প্রেক্ষাপটে সারজিস আলমের এই পোস্টটি ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মুহূর্তের মধ্যেই ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। বিশেষ করে উত্তরাঞ্চলের সাধারণ নাগরিক ও নেটিজেনরা এই দাবিকে অত্যন্ত সময়োপযোগী বলে স্বাগত জানিয়েছেন। পোস্টের নিচে সাধারণ ব্যবহারকারীদের ইতিবাচক মন্তব্য, শেয়ার ও অকুণ্ঠ সমর্থন এখন চোখে পড়ার মতো।
সারজিস আলমের এই দাবির পক্ষে সহমত পোষণ করে রবিউল ইসলাম পুলক নামে একজন ফেসবুক ব্যবহারকারী মন্তব্য করেছেন, “গুড আইডিয়া সারজিস। দেশের সার্বভৌমত্ব অক্ষুণ্ন রাখতে এর বিকল্প নাই।” মুনতাসির ই জান্নাত নামে স্থানীয় আরেকজন লিখেছেন, “দারুণ একটা সিদ্ধান্ত হবে যদি নেওয়া হয়। আমাদের এখানে ক্যান্টনমেন্ট খুবই জরুরি।” অন্যদিকে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করে ইয়াসিন এইচ শিকদার নামের একজন লিখেছেন, “বিরোধিতা না করে সহযোগিতা করে পাশে থেকো, সব হয়ে যাবে ইনশাআল্লাহ।” এছাড়া মুক্তা খাতুন নামের অপর এক ব্যবহারকারী লিখেছেন, “অবশ্যই দরকার।”
ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, পঞ্চগড় জেলাটি ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সংলগ্ন দীর্ঘ সীমান্ত এলাকায় অবস্থিত। সাম্প্রতিক সময়ে ভারতের আসাম ও পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন এবং সীমান্ত এলাকায় উদ্ভূত বিভিন্ন অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে দেশের এই উত্তর জনপদের সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার করার বিষয়টি বেশ গুরুত্ব পাচ্ছে। সারজিস আলমের এই প্রকাশ্য দাবির পর পঞ্চগড়সহ সামগ্রিক উত্তরাঞ্চলের সীমান্ত নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সেখানে একটি স্থায়ী নতুন সেনানিবাস স্থাপনের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে নীতি-নির্ধারক ও সাধারণ মহলে নতুন করে আলোচনা ও বিতর্কের ঝড় উঠেছে।