যুক্তরাজ্যের রাজধানী লন্ডনে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শীর্ষ নেতা এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহর রাজনৈতিক অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে তীব্র উত্তেজনা, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া এবং বিক্ষোভের ঘটনা ঘটেছে। বাংলাদেশে সাংগঠনিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত দল আওয়ামী লীগের যুক্তরাজ্য শাখার নেতা-কর্মীরা হাসনাত আবদুল্লাহ ও তাঁর সঙ্গীদের লক্ষ্য করে ডিম নিক্ষেপ করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
সোমবার (১৫ জুন) পূর্ব লন্ডনের হোয়াইটচ্যাপেল ও এলেম পার্ক এলাকায় পৃথক দুটি স্থানে এই অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ব্রিটিশ পুলিশের শতাধিক সদস্যকে মোতায়েন করতে হয়। এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে লন্ডন মহানগর আওয়ামী লীগের এক শীর্ষ নেতাসহ অন্তত তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ।
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ইউকে অ্যালায়েন্সের উদ্যোগে পূর্ব লন্ডনের হোয়াইটচ্যাপেল এলাকার ইস্ট লন্ডন মসজিদ-সংলগ্ন মায়েদা ব্যাঙ্কুয়েটিং হলে (মায়েদা গ্রিল রেস্টুরেন্ট) এক বিশেষ মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়। জুলাই বিপ্লবের ওপর আয়োজিত একটি সেমিনারে যোগ দিতে বর্তমানে লন্ডনে অবস্থানরত এনসিপির দক্ষিণ অঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ সেখানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা ছিল।
দলীয় সূত্র জানায়, হাসনাত আবদুল্লাহর অনুষ্ঠানস্থলে আসার খবর ছড়িয়ে পড়লে বিকেল থেকেই ভেন্যুর বাইরে যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগ ও তার সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা ব্যানার-ফেস্টুন নিয়ে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন। অন্যদিকে, এনসিপির বিপুল সংখ্যক সমর্থকও অনুষ্ঠানস্থলের সামনে পাল্টা অবস্থান নেন। একপর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা ও উত্তেজনা তৈরি হয় এবং আওয়ামী লীগের কর্মীরা এনসিপি কর্মীদের লক্ষ্য করে অনবরত ডিম ছুড়তে শুরু করে।
স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টায় অনুষ্ঠানটি শুরু হওয়ার কথা থাকলেও নিরাপত্তার স্বার্থে ও উদ্ভূত পরিস্থিতির কারণে হাসনাত আবদুল্লাহ রাত ৯টার দিকে ভেন্যুতে পৌঁছান। এ সময় কয়েক ডজন ব্রিটিশ পুলিশের কঠোর পাহারার মধ্যে তিনি দৌড়ে একটি বিকল্প পকেট দরজা দিয়ে রেস্তোরাঁর ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করেন। তখন বাইরে দাঁড়িয়ে থাকা আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা তাঁকে লক্ষ্য করে সরাসরি ডিম ছুড়ে মারে। ডিমের আঘাত এড়িয়ে তিনি দ্রুত ভেতরে প্রবেশ করেন। পরবর্তীতে সভা শেষেও তিনি পুলিশের বিশেষ নিরাপত্তা বলয়ের মধ্যেই স্থান ত্যাগ করতে বাধ্য হন।
হোয়াইটচ্যাপেল এলাকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে মায়েদা ব্যাঙ্কুয়েটিং হলের চারপাশ ঘিরে শতাধিক পুলিশ সদস্য মোতায়েন করে লন্ডন মেট্রোপলিটন পুলিশ। দুই পক্ষের মারমুখী অবস্থানের মাঝে সহিংসতা ছড়ানোর দায়ে পুলিশ অনুষ্ঠানস্থলের বাইরে থেকে তিনজনকে হাতেনাতে আটক করে। এনসিপি ইউকে শাখার নেতারা জানিয়েছেন, আটক ব্যক্তিদের মধ্যে লন্ডন মহানগর আওয়ামী লীগের বর্তমান যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আফসার খান সাদেক রয়েছেন।
মায়েদা ব্যাঙ্কুয়েটিং হলের এই ঘটনার ঠিক আগে, সোমবার বিকেল সাড়ে চারটার দিকে পূর্ব লন্ডনের রমফোর্ড এলাকার এলেম পার্কে হাসনাত আবদুল্লাহকে ঘিরে প্রথম দফা উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছিল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একাধিক ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, হাসনাত আবদুল্লাহ ও তাঁর সহযোগীরা পার্কের ভেতর দিয়ে হাঁটার সময় কয়েকজন ব্যক্তি দূর থেকে চিৎকার করে তাঁদের অনুসরণ করতে থাকেন এবং নানা আপত্তিকর মন্তব্য করতে থাকেন।
সেখানেও হঠাৎ করেই হাসনাত আবদুল্লাহর সাথে থাকা ব্যক্তিদের লক্ষ্য করে ডিম ছুড়ে মারা হয়, যার একটি এনসিপির কেন্দ্রীয় এক নেতার গায়ে গিয়ে লাগে। এই ঘটনার পরপরই এনসিপি কর্মীদের সাথে বিক্ষোভকারীদের তীব্র কথা কাটাকাটি এবং একপর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে সরাসরি হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরে পার্কে উপস্থিত সাধারণ নাগরিক ও অন্যান্যরা এসে মধ্যস্থতা করে পরিস্থিতি সাময়িকভাবে শান্ত করেন। এই ঘটনার পর লন্ডনে অবস্থানরত জুলাই আন্দোলনের নেতাকর্মীদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে।