• বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:৫২ পূর্বাহ্ন

পরিকল্পিত জাকাত ব্যবস্থাপনা দারিদ্র্য বিমোচনে যুগান্তকারী ভূমিকা রাখতে পারে: প্রধানমন্ত্রী

Reporter Name / ৪৭ Time View
Update : শনিবার, ৭ মার্চ, ২০২৬

সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য ও পরিকল্পনার মাধ্যমে জাকাত বণ্টন করা হলে আগামী ১০ থেকে ১৫ বছরের মধ্যে দেশ থেকে দারিদ্র্য বিমোচন সম্ভব বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, “প্রতি বছর পর্যায়ক্রমে ৫ লাখ দরিদ্র পরিবারকে ১ লাখ টাকা করে জাকাত দেওয়া হলে, আমার বিশ্বাস—এসব পরিবারের বেশিরভাগকে পরের বছর আর জাকাত নিতে হবে না।”

শনিবার (৭ মার্চ) রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় এতিম শিশু ও ওলামা-মাশায়েখদের সম্মানে আয়োজিত এক ইফতার মাহফিলে তিনি এসব কথা বলেন।

জাকাত ব্যবস্থাপনায় নতুন পরিকল্পনা

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশে প্রতি বছর ২০ থেকে ২৫ হাজার কোটি টাকার বেশি জাকাত আদায় হয়। কিন্তু সুসংগঠিতভাবে বণ্টন না হওয়ায় তা দারিদ্র্য বিমোচনে কাঙ্ক্ষিত ভূমিকা রাখতে পারছে না। তিনি উল্লেখ করেন, ইসলামী বিধান অনুযায়ী জাকাত এমনভাবে দেওয়া উচিত যাতে গ্রহীতা স্বাবলম্বী হয়ে ওঠেন। সরকার এখন জাকাত ব্যবস্থাপনাকে আরও কার্যকর ও লক্ষ্যভিত্তিক করার পরিকল্পনা নিয়েছে।

ব্যয় সংকোচন ও কৃচ্ছ্রতাসাধন

বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে এবারের রমজানে ইফতার মাহফিলের সংখ্যা কমিয়ে মাত্র দুটিতে নামিয়ে আনা হয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, “গ্যাস, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটের এই সময়ে ব্যয় সংকোচন ও কৃচ্ছ্রতাসাধনের অংশ হিসেবে আমরা সীমিত পরিসরে আয়োজন করেছি। পরিস্থিতির উন্নতি না হলে এবারের রমজানে এটিই হয়তো শেষ ইফতার মাহফিল।”

এতিমদের প্রতি দায়বদ্ধতা

আজকের আয়োজনের মূল আকর্ষণ ছিল এতিম শিশুরা। প্রধানমন্ত্রী বলেন, “এতিমদের হক আদায়ের ব্যাপারে ইসলামে কঠোর নির্দেশনা রয়েছে। এই ইফতার মাহফিল বিত্তবানদের প্রতি একটি ইতিবাচক বার্তা দেবে যাতে তারা এতিমদের পাশে দাঁড়াতে অনুপ্রাণিত হন।”

অসাধু ব্যবসায়ীদের প্রতি হুঁশিয়ারি

রমজানে নিত্যপণ্যের দাম বাড়ানো অসাধু ব্যবসায়ীদের প্রতি বিনীত আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “রমজান ত্যাগ ও সংযমের মাস, একে লোভ-লাভের মাসে পরিণত করবেন না। অনুগ্রহ করে মানুষের কষ্টের কারণ হবেন না।”

ইফতার মাহফিলে ধর্মমন্ত্রী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদসহ সরকারের উর্ধ্বতন মন্ত্রী, আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শায়খ আহমাদুল্লাহ এবং বায়তুল মোকাররমের খতিব মুফতি আব্দুল মালেক উপস্থিত ছিলেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category