পহেলা বৈশাখ মানেই পান্তা-ইলিশের চিরচেনা আয়োজন। আর বাঙালির এই আবেগকে পুঁজি করেই নববর্ষের মুখে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জাল বিছিয়েছে একদল চতুর সাইবার প্রতারক চক্র। ‘পানির দামে’ ইলিশ বিক্রির লোভনীয় বিজ্ঞাপন দিয়ে সাধারণ মানুষের পকেট কাটছে তারা। গত কয়েক দিনে ফেসবুক ও হোয়াটসঅ্যাপের বিভিন্ন পেজ থেকে হাজার হাজার টাকা খুইয়েছেন অসংখ্য ক্রেতা।
প্রতারক চক্রটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চোখধাঁধানো সব অফার দিচ্ছে। একটি বিজ্ঞাপনে দেখা যায়, দুই কেজি ওজনের ৪টি তাজা ইলিশের দাম ধরা হয়েছে মাত্র ৪,৮০০ টাকা। অথচ বর্তমানে বাজারে এই আকারের মাত্র এক জোড়া ইলিশের দামই এর তিন গুণেরও বেশি। পেজের সুন্দর ছবি আর ‘লিমিটেড টাইম অফার’-এর চটকদার কথা দেখে বিভ্রান্ত হচ্ছেন সাধারণ ক্রেতারা।
তদন্তে দেখা গেছে, এই চক্রগুলো মূলত অগ্রিম টাকা হাতিয়ে নেওয়ার কৌশল অবলম্বন করে। তাদের কার্যক্রমের ধাপগুলো নিম্নরূপ:
আকর্ষণীয় বিজ্ঞাপন: বাজারের চেয়ে অস্বাভাবিক কম দামে ইলিশের ছবি দিয়ে স্পন্সরড পোস্ট করা।
অগ্রিম পেমেন্ট: অর্ডার নিশ্চিত করতে বিকাশ বা নগদের মাধ্যমে পুরো টাকা অথবা বড় একটি অংশ অগ্রিম দাবি করা।
ব্লক ও উধাও: টাকা বুঝে পাওয়ার পরপরই ক্রেতাকে সোশ্যাল মিডিয়া থেকে ব্লক করে দেওয়া হয়। এরপর ওই পেজ বা সংশ্লিষ্ট ফোন নম্বরে যোগাযোগ করার আর কোনো উপায় থাকে না।
সাইবার বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বৈশাখী আমেজকে সামনে রেখে এই ধরণের প্রতারণা প্রতি বছরই বাড়ে। নিরাপদ কেনাকাটার জন্য তারা কিছু জরুরি পরামর্শ দিয়েছেন:
১. অস্বাভাবিক দাম দেখলেই সাবধান: বাজারে যে ইলিশের দাম ১২-১৫ হাজার টাকা, তা কেউ ৫ হাজার টাকায় দেবে না—এই সাধারণ যুক্তিটি মাথায় রাখতে হবে।
২. পেজের স্বচ্ছতা যাচাই: কোনো অপরিচিত ফেসবুক পেজ থেকে কেনাকাটার আগে পেজটি কতদিন আগে খোলা হয়েছে এবং তাদের রিভিউ ও ঠিকানা সঠিক কি না তা যাচাই করুন।
৩. ক্যাশ অন ডেলিভারি: পণ্য হাতে পাওয়ার আগে টাকা পরিশোধের (Cash on Delivery) অপশন না থাকলে সেখান থেকে কেনাকাটা এড়িয়ে চলাই বুদ্ধিমানের কাজ।
৪. ব্যক্তিগত তথ্য শেয়ার না করা: পেমেন্টের সময় কোনো ওটিপি (OTP) বা পিন নম্বর অপরিচিত কাউকে দেবেন না।
নববর্ষের আনন্দ যেন বিষাদে পরিণত না হয়, সেজন্য অনলাইনে কেনাকাটায় বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন। সস্তায় ভালো কিছু পাওয়ার নেশায় অপরিচিত লিঙ্কে ক্লিক বা অগ্রিম টাকা লেনদেন করা থেকে বিরত থাকুন। মনে রাখবেন, আপনার সচেতনতাই পারে সাইবার অপরাধীদের এই অপতৎপরতা রুখে দিতে।