• শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬, ০৭:২৯ অপরাহ্ন
Headline
টাকা ধার না দেওয়ায় সেই শিশুকে হত্যা স্লিপ ডিভোর্স নওগাঁয় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন: ৫ বছরে ২৫ কোটি গাছ লাগানোর লক্ষ্য ‘হতে পারে কোয়েল ভুল সিঁড়িতে পা দিয়েছিলেন’: রুদ্রনীল ঘোষ ফ্রিজ ছাড়াই দীর্ঘদিন আম তাজা রাখার দারুণ কিছু কৌশল যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি ইরানের কোনো আস্থা নেই, জানালেন প্রধান বিচারপতি পতাকা বৈঠকেও হয়নি সমাধান, দুই দিন ধরে সীমান্তে শিশুসহ ১২ জনের মানবেতর জীবন সৌদিতে ফেলে আসা লাগেজ নিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় তুমুল সংঘর্ষ, আহত ১৫ রাউজানে যুবদল নেতাকে মাথায় গুলি করে হত্যা: কাপ্তাই সড়ক অবরোধ করে তুমুল বিক্ষোভ ভারতীয় হাইকমিশনারের ‘এক হয়ে যাওয়া’ বক্তব্যের ব্যাখ্যা চাইলেন জামায়াত আমির

প্রেমিকাকে ‘ধর্ষণে অভিযুক্ত’ শিবিরের সেই কেন্দ্রীয় নেতা দল থেকে বহিষ্কার

Reporter Name / ৩ Time View
Update : শনিবার, ১৩ জুন, ২০২৬

কুমিল্লার দাউদকান্দি থানায় এক বিধবা নারীর দায়ের করা ধর্ষণ মামলায় গ্রেপ্তার বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় নেতা মো. জিসান আহম্মেদ প্রধানকে সংগঠন থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। ভুক্তভোগী নারীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কের প্রাথমিক সত্যতা মেলায় শনিবার (১৩ জুন) তাকে দল থেকে বহিষ্কারের এই সিদ্ধান্ত জানায় ছাত্রশিবির।

জিসান আহম্মেদ প্রধান ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় কমিটির সহকারী আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক এবং কুমিল্লা জেলা পশ্চিম শাখার সাবেক সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক এস এম ফরহাদ বহিষ্কারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, অভিযুক্ত জিসান আহম্মেদের সঙ্গে ভুক্তভোগী নারীর প্রেমের সম্পর্কের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে। তাই সংগঠনের নিজস্ব শৃঙ্খলা ও বিধিমালা অনুসারে তাকে পদ ও সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এস এম ফরহাদ আরও বলেন, “সাংগঠনিক নিয়ম অনুযায়ী জিসানকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তবে পরবর্তীতে তাঁর বিরুদ্ধে আনীত ধর্ষণের অভিযোগের কোনোটি যদি আইনগতভাবে প্রমাণিত হয়, তবে ভুক্তভোগী নারীকে সংগঠনটির পক্ষ থেকে সব ধরনের আইনি সহায়তা দেওয়া হবে।”

জিসানের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিলেও পুরো নিখোঁজ ও মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া নিয়ে বিবৃতিতে কিছু আপত্তির কথা তুলেছে ছাত্রশিবির। সংগঠনের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, গত রাতে পুলিশ জিসানকে ‘উদ্ধার’ করার পর থেকে শনিবার দুপুর ১টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত তাঁর সঙ্গে ছাত্রশিবিরের কোনো প্রতিনিধি কিংবা পরিবারের সদস্যদের দেখা করতে দেওয়া হয়নি। জিসান এখনো পুলিশ হেফাজতে থাকায় নিখোঁজ হওয়া এবং মামলার বিষয়ে তাঁর নিজস্ব বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি। ফলে পুরো ঘটনায় কেবল পুলিশের বক্তব্য ছাড়া অন্য কোনো নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না।

বিবৃতিতে মামলা দায়েরকারী নারীর বড় বোন সাবিকুন্নাহারের বরাত দিয়ে বলা হয়, শুক্রবার বিকেলে ১৫ থেকে ২০ জন পুলিশ বা প্রশাসন সদস্য তাঁদের বাড়ি থেকে ওই নারীকে নিয়ে যান এবং সে সময় পরিবারের কাউকে সঙ্গে যেতে দেওয়া হয়নি। বর্তমানে ওই নারী ও তাঁর বাবাকে পুলিশের জিম্মায় আলাদা করে রাখা হয়েছে এবং পরিবারের সদস্যরা তাঁদের সাথে কোনো যোগাযোগ করতে পারছেন না। ভুক্তভোগীর বোন দুইজনের মধ্যে প্রেমের সম্পর্কের বিষয়টি জানতেন, তবে বাড়ি থেকে হুট করে নিয়ে যাওয়া, থানায় মামলা দায়ের এবং বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানেন না বলে শিবিরের বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়। সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের সুযোগ না থাকায় ঘটনার প্রকৃত অবস্থা এখনো অস্পষ্ট বলে দাবি ছাত্রশিবিরের।

উল্লেখ্য, বিয়ের আগের দিন বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণ ও জোরপূর্বক গর্ভপাতের অভিযোগ এনে এক বিধবা নারী জিসান আহম্মেদ প্রধানকে প্রধান আসামি করে দাউদকান্দি থানায় এই মামলাটি দায়ের করেন। মামলার পর জিসান আত্মগোপনে গিয়ে অপহরণের নাটক সাজিয়েছিলেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।

দাউদকান্দি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল বারী জানান, ভুক্তভোগী নারীর সুনির্দিষ্ট ধর্ষণ ও নির্যাতনের মামলায় জিসান আহম্মেদকে নিয়ম অনুযায়ী গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তাঁর বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category