পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক ইতিহাসে আজ এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে চলেছে। দীর্ঘদিনের জল্পনা ও রুদ্ধশ্বাস অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে আজ শনিবার (৯ মে) রাজ্যের নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিতে যাচ্ছেন দাপুটে বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী। কলকাতার ঐতিহাসিক ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে আয়োজিত এক বিশাল ও বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে রাজ্যপাল আর. এন. রবি তাকে মুখ্যমন্ত্রী পদের শপথবাক্য পাঠ করাবেন।
এই ঐতিহাসিক শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে আজ উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে গোটা পশ্চিমবঙ্গে। গতকাল শুক্রবার কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের উপস্থিতিতে নবনির্বাচিত বিজেপি বিধায়কদের বৈঠকে শুভেন্দু অধিকারীর নাম চূড়ান্ত হওয়ার পর থেকেই কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাস দেখা গেছে। আজ সকাল থেকেই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে লাখো মানুষ ও দলীয় সমর্থক এই শপথ অনুষ্ঠান চাক্ষুষ করতে ব্রিগেড ময়দানের দিকে ছুটে আসছেন। পুরো কলকাতা শহরকে এরই মধ্যে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে ফেলা হয়েছে।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, দুপুরে অনুষ্ঠিতব্য এই মেগা ইভেন্টে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহসহ কেন্দ্রীয় ও রাজ্য বিজেপির শীর্ষ নেতারা উপস্থিত থাকবেন। শুভেন্দু অধিকারীর পাশাপাশি আজ রাজ্য মন্ত্রিসভার আরও বেশ কয়েকজন জ্যেষ্ঠ ও গুরুত্বপূর্ণ সদস্যও মন্ত্রী হিসেবে শপথ নিতে পারেন বলে জোর ধারণা করা হচ্ছে।
একসময়ের তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছায়াসঙ্গী থেকে শুরু করে আজ রাজ্যের শীর্ষ পদে শুভেন্দুর এই আরোহণ রাজনৈতিক মহলে এক বড় বিস্ময়। ২০২১ সালে নন্দীগ্রামে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রীকে পরাজিত করে ‘জায়ান্ট কিলার’ তকমা পেয়েছিলেন তিনি। আর সদ্য সমাপ্ত ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে নিজের গড় নন্দীগ্রামের পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রীর খাসতালুক ভবানীপুর থেকেও বিশাল ব্যবধানে জয়লাভ করে তিনি প্রমাণ করেছেন নিজের রাজনৈতিক শ্রেষ্ঠত্ব। রাজ্যে ৯২ শতাংশেরও বেশি রেকর্ড ভোটদান এবং ভোটার তালিকা থেকে ৯১ লাখ ভুয়া ভোটার বাদ পড়ার এই নির্বাচনে বিজেপির ম্যাজিক ফিগার পার করার পেছনে তার দৃঢ় নেতৃত্বই মূল অনুঘটক হিসেবে কাজ করেছে।
শপথ গ্রহণের পর আজই রাজ্যের প্রশাসনিক ভবন নবান্নে গিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্বভার গ্রহণ করার কথা রয়েছে শুভেন্দু অধিকারীর। ক্ষমতা গ্রহণের পরপরই তিনি মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠক ডাকতে পারেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আজকের এই শপথ অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে শুধু ক্ষমতার পালাবদলই ঘটছে না, বরং পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতি ও প্রশাসনে সম্পূর্ণ নতুন এক ধারার সূচনা হতে যাচ্ছে।
মেদিনীপুরের অধিকারী পরিবারের ঐতিহ্য বহনকারী এই নেতা মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পুনরুদ্ধার, অর্থনীতি এবং সার্বিক উন্নয়নে এখন কী রূপরেখা দেন, সেদিকেই তাকিয়ে আছে গোটা পশ্চিমবঙ্গ।