আসন্ন পহেলা বৈশাখের শোভাযাত্রার নামকরণ নিয়ে চলমান বিতর্কের অবসান ঘটিয়েছেন সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী। তিনি জানিয়েছেন, এবার থেকে শোভাযাত্রার নাম হবে ‘বৈশাখী শোভাযাত্রা’। নামের এই পরিবর্তনের ফলে ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যের (Intangible Cultural Heritage) স্বীকৃতি নিয়ে কোনো আইনি বা প্রযুক্তিগত সমস্যা হবে না বলেও আশ্বস্ত করেছেন তিনি।
রোববার (৫ এপ্রিল) দুপুরে সচিবালয়ে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, “পহেলা বৈশাখ উদ্যাপনের লক্ষ্যে শোভাযাত্রার নাম ‘আনন্দ’ না ‘মঙ্গল’ হবে—এটি নিয়ে অহেতুক বিতর্ক হচ্ছে। এই বিতর্কের কোনো মানে হয় না। আমরা কোনো বিভাজন চাই না; বরং বৈচিত্র্যের মাঝে ঐক্য চাই।”
মন্ত্রী ঘোষণা করেন, সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবারের পহেলা বৈশাখে শোভাযাত্রা কোনো বিশেষ তকমা নয়, বরং সর্বজনীন ‘বৈশাখী শোভাযাত্রা’ নামে অনুষ্ঠিত হবে এবং ভবিষ্যতেও এই নামই বহাল থাকবে।
সারাদেশে নববর্ষ উদ্যাপনে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কথা জানিয়ে সংস্কৃতিমন্ত্রী বলেন, “নিরাপত্তার বিষয়ে আমরা অত্যন্ত সচেতন। পুলিশ ও র্যাবের পাশাপাশি বিএনসিসি এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব নিরাপত্তা স্বেচ্ছাসেবীরাও মাঠে থাকবে।”
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, ‘জুলাই স্মৃতি জাদুঘর’ চালুর কাজ দ্রুত গতিতে এগোচ্ছে। কিছু টেকনিক্যাল কাজ বাকি রয়েছে, যা শেষ হলেই জনসাধারণের জন্য এটি উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে।
উল্লেখ্য যে, ২০১৬ সালে ইউনেস্কো বাংলাদেশের ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’কে বিশ্ব সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছিল। সরকারের এই নতুন নামকরণের সিদ্ধান্ত সর্বজনীন গ্রহণযোগ্যতা তৈরির একটি প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে।