রোজার সময় অনেকেই মাথাব্যথার সমস্যায় ভোগেন। যাদের আগে থেকে
মাথাব্যথার রোগ রয়েছে, তাদের রোজার সময় ব্যথা বেড়ে যেতে পারে।
তবে যাদের মাথাব্যথার সমস্যা নেই, রোজার সময় তাদেরও ব্যথা বেড়ে
যায়। বিশেষ করে রোজার প্রথম দিকে। রোজার সময় মাথাব্যথা হয় কেন: রোজার সময় মাথাব্যথার কারণ
হলো পানিশূন্যতা, শরীরে গ্ল ুকোজের অভাব ও ঘুমের অসুবিধা।
যাদের আগে থেকে মাথাব্যথার রোগ নেই, তাদের মাথাব্যথা
হওয়ার কারণ আসলে এগুলো। এখন তো অনেক দীর্ঘসময় রোজা।
তাই শরীরে পানিশূন্যতা দেখা দেয়।
মস্তিষ্কে পানি সরবরাহ কমে যায়। এ কারণে ব্যথা হয়। আবার ১৪
থেকে ১৫ ঘণ্টা না খেয়ে থাকার কারণে শরীরের গ্লুকোজের ঘাটতি
হয়। এজন্য মস্তিষ্কেও গ্ল ুকোজ কমে যায়। যেহেতু গ্লুকোজ ছাড়া
মস্তিষ্ক চলতে পারে না, তাই এর অভাবে মাথাব্যথা দেখা দিতে
পারে।
প্রতিরোধ: ইফতার থেকে সেহরিতে পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি পান করতে
হবে। খেজুর মাথাব্যথা কমায়, ইফতারিতে বেশি করে খেজুর খেতে
হবে। পাশাপাশি অন্যান্য তরল খাবারও বেশি খেতে হবে। খাদ্য
তালিকায় শর্করাজাতীয় খাবার থাকতে হবে।
আমরা যে ধরনের মাথাব্যথার চিকিৎসা করি: আমরা যে মাথাব্যথার
চিকিৎসা করি সেটি হলো সার্ভিকোজেনিক হেডেক। সার্ভিকোজেনিক
হেডেক এমনি একটি মাথাব্যথা যার উৎপত্তি হয় ঘাড় থেকে। মাথার
এক্স-রে, সিটি স্ক্যান, এমআরআই-এ সাধারণত কোনো অসুবিধা
পাওয়া যায় না। কারণ, কষ্ট থাকে ঘাড়ের উপরিভাগে। ঘাড়ের
অন্যান্য স্ট্রাকচার যেমন: আপার সার্ভাইক্যাল ফ্যাসেট জয়েন্ট,
আপার সার্ভাইক্যাল মাসল, সি-২-৩ ইন্টারভার্টিব্রাল ডিস্ক,
কেরোটিড আর্টারি, ডুরামেটার, আপার স্পাইনাল কর্ড, ঘাড়ের
পিছনে ক্রেনিয়াল ফোছা এ ধরনের মাথাব্যথা সৃষ্টি করে থাকে।
এছাড়াও উইফ্লাস ইনজুরি, ঘাড়ের উপর অতিরিক্ত স্ট্রেস, ভুল
ভঙ্গিতে পড়াশোনা, কম্পিউটার ব্যবহার, মোবাইল ফোন ব্যবহার,
অফিসওয়ার্ক ও সামনের দিকে ঘাড় বাঁকা করে দীর্ঘসময় কাজ করা
থেকেও সার্ভিকোজেনিক হেডেক হতে পারে।
সার্ভিকোজেনিক মাথাব্যথায় ফিজিওথেরাপি চিকিৎসার কোনো জুড়ি
নেই, সঠিক ফিজিওথেরাপি চিকিৎসা নিলে খুব সহজে এ সমস্যা থেকে
আল্লাহপাক মুক্তি করবেন ইনশাআল্লাহ্। আমার ৪২ বছরের অভিজ্ঞতায়
দেখেছি, আমার কাছে যারা এ ধরনের মাথাব্যথার কষ্ট নিয়ে আসেন তাদের
মধ্যে অনেকেই ৫-১০ বছর এমনকি ২০ বছর ধরে এই কষ্টে ভুগে থাকেন। তার কারণ ব্যথার উৎপত্তি ঘাড় থেকে, সুতরাং চিকিৎসা ঘাড়ের যে স্ট্রাকচার
মাথাব্যথা তৈরি করছে সে স্ট্রাকচারের চিকিৎসা করতে হবে। তবে আমার
এ অত্যাধুনিক মাথাব্যথার চিকিৎসায়, দীর্ঘ ৪২ বছরের প্র্যাকটিসে দেখেছি
অধিক সময়ের কিংবা ১০-২০ বছরের মাথাব্যথার অধিকাংশ রোগীই বলে
থাকেন তারা ২-৩ সপ্তাহের মধ্যে আলহামদুলিল্লাহ্ কষ্টমুক্ত হয়েছেন।