জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে ‘বিরোধী দল ও মত দমন কমিশন’ হিসেবে অভিহিত করেছেন কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ। ২০০৯ সালের বিতর্কিত মানবাধিকার কমিশন আইনটি পুনরায় চালু করার সরকারি উদ্যোগের তীব্র বিরোধিতা করে তিনি বলেন, এই আইনটি জাতিকে সামনের দিকে নেওয়ার বদলে কয়েক ধাপ পিছিয়ে দেবে।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে জাতীয় সংসদের অধিবেশনে ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (রহিতকরণ ও পুনঃপ্রচলন) বিল-২০২৬’ উত্থাপনের পর এর ওপর আপত্তি জানিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। বিলটি উত্থাপন করেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।
বিলের বিরোধিতা করে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, “২০২৫ সালের অধ্যাদেশটিকে বিলুপ্ত করে ২০০৯ সালের কালো আইনে ফিরে যাওয়া এই সংসদের জন্য একটি ‘ব্যাকওয়ার্ড মুভ’ বা পশ্চাৎমুখী পদক্ষেপ। এটি জাতি পিছিয়ে পড়ার একটি টেক্সটবুক উদাহরণ হয়ে থাকবে।” তিনি অভিযোগ করেন, বিগত বছরগুলোতে এই কমিশনকে ব্যবহার করে বিএনপি ও বিরোধী মতকে দমন করার বৈধতা দেওয়া হয়েছে।
কমিশনের সিলেকশন কমিটির নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, “কমিশন গঠনের ৬ সদস্যের কমিটির ৫ জনই সরকারদলীয় ব্যক্তি। স্পিকারের নেতৃত্বে সেই কমিটিতে থাকেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, আইনমন্ত্রী, সরকারি দলের একজন এমপি ও একজন সচিব। এমন কমিটির মাধ্যমে গঠিত কমিশন কীভাবে নিরপেক্ষ কাজ করবে? মূলত এটি একটি সরকারি দপ্তরে পরিণত হয়েছে।”
হাসনাত আবদুল্লাহ আরও উল্লেখ করেন, যেখানে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী সরাসরি মানবাধিকার লঙ্ঘনের সঙ্গে জড়িত থাকে, সেখানে ২০০৯ সালের আইন অনুযায়ী তদন্ত করতে বাহিনীর বা সরকারের পূর্বানুমতি লাগে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, সরকার নিজেই যেখানে মানবাধিকার ক্ষুণ্ন করবে, সেখানে তাদের অনুমতি নিয়ে কতটা স্বচ্ছ তদন্ত সম্ভব?
উল্লেখ্য, আইনমন্ত্রী বিলটি উত্থাপন করলে বিরোধী দলের পক্ষ থেকে তীব্র আপত্তি জানানো হয়। হাসনাত আবদুল্লাহ অভিযোগ করেন যে, জাতির গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়ে আলোচনার জন্য তাকে মাত্র ২ মিনিট সময় দেওয়া হয়েছে, যা অত্যন্ত অপ্রতুল।