• বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬, ০৫:৩২ অপরাহ্ন
Headline
চল্লিশের পর নারীর সৌন্দর্য ও স্বাস্থ্য রক্ষা: ৮টি পরামর্শ ফাহাদ রহমানের মুকুটে যুক্ত হলো দ্বিতীয় গ্র্যান্ডমাস্টার নর্ম সায়নীর শিরশ্ছেদের জন্য ১ কোটি রুপি পুরস্কার ঘোষণা, বিজেপি নেতার বিরুদ্ধে অভিযোগ রামিসা হত্যা: দ্রুত তদন্ত প্রতিবেদন জমার আশ্বাস স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কোরবানির পশু উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ বাংলাদেশ: কৃষিমন্ত্রী গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম বাড়াতে বিতরণ কোম্পানিগুলোর প্রস্তাব সরকার যতদিন চাইবে, মাঠে থেকে কাজ করবে সেনাবাহিনী: সেনাপ্রধান সরকারি বিদ্যালয় সংকট: ঢাকায় স্বল্পব্যয়ে মাদরাসায় ঝুঁকছে নিম্ন-মধ্যবিত্ত ইবোলার টিকা আসতে ৯ মাস লাগতে পারে: ডব্লিউএইচও আড়াইহাজারে চাঁদা দাবির জেরে বিএনপি নেতাকে কুপিয়ে হত্যা: স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতাসহ আটক ৩

যুবদলের পূর্ণাঙ্গ কমিটি নিয়ে অসন্তোষ, নেতৃত্বে আসছেন কারা?

Reporter Name / ৩ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ২১ মে, ২০২৬

জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির অন্যতম প্রধান ও শক্তিশালী ভ্যানগার্ড হিসেবে পরিচিত সহযোগী সংগঠন জাতীয়তাবাদী যুবদলের নেতৃত্ব নিয়ে বর্তমানে চরম টানাপোড়েন ও অস্থিরতা বিরাজ করছে। তিন বছর মেয়াদি একটি কমিটির প্রায় দুই বছর অতিবাহিত হয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত কোনো পূর্ণাঙ্গ কমিটি আলোর মুখ দেখেনি। মাত্র সাত সদস্যের একটি আংশিক কমিটি দিয়ে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে এই বিশাল সংগঠনের কার্যক্রম। দীর্ঘদিনের এই স্থবিরতার কারণে পদপ্রত্যাশী এবং তৃণমূলের ত্যাগী নেতাকর্মীদের মধ্যে চরম ক্ষোভ, হতাশা ও অসন্তোষ পুঞ্জীভূত হয়েছে। তবে সম্প্রতি বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বের হস্তক্ষেপে সংগঠনটিতে বড় ধরনের রদবদল ও নতুন নেতৃত্বের আভাস পাওয়া যাচ্ছে, যা নিয়ে রাজনীতির মাঠে এখন চলছে জোর আলোচনা।

আংশিক কমিটির স্থবিরতা ও একক আধিপত্যের অভিযোগ

গত ২০২৪ সালের ৯ জুলাই মোনায়েম মুন্নাকে সভাপতি এবং নুরুল ইসলাম নয়নকে সাধারণ সম্পাদক করে জাতীয়তাবাদী যুবদলের সাত সদস্যবিশিষ্ট একটি আংশিক কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা করা হয়েছিল। দায়িত্ব গ্রহণের সময় খুব দ্রুততম সময়ের মধ্যে একটি পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও, বাস্তবে প্রায় দুই বছর পেরিয়ে গেলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি।

সংগঠনের ভেতরের একাধিক নেতার গুরুতর অভিযোগ, পূর্ণাঙ্গ কমিটি না থাকার সুযোগ নিয়ে বর্তমান আংশিক কমিটিতে সভাপতি মোনায়েম মুন্নার একচ্ছত্র ও একক আধিপত্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এই আধিপত্য বিস্তারের প্রবণতা আরও প্রকট আকার ধারণ করে যখন গত ১২ ফেব্রুয়ারির সংসদ নির্বাচনে সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নয়ন সংসদ সদস্য (এমপি) হিসেবে নির্বাচিত হন। সাধারণ সম্পাদক রাষ্ট্রীয় ও সংসদীয় কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়ায় সংগঠনের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে সভাপতির নিয়ন্ত্রণ আরও নিরঙ্কুশ হয়েছে বলে দাবি করছেন তৃণমূলের নেতারা।

প্রতিষ্ঠাকালীন আদর্শ থেকে বিচ্যুতি ও ভাবমূর্তির সংকট

সৎ, মেধাবী ও নিঃস্বার্থ যুবকদের সমন্বয়ে একটি আদর্শবান নেতৃত্ব গড়ে তোলার মহান লক্ষ্য নিয়ে ১৯৭৮ সালের ২৭ অক্টোবর বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান যুবদল প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। উৎপাদনমুখী রাজনীতি, মুক্তবাজার অর্থনীতি এবং গণতন্ত্রের মাধ্যমে সামাজিক ন্যায়বিচারভিত্তিক সমাজ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠাই ছিল এই সংগঠনের মূল দর্শন।

কিন্তু বিএনপির অনেক জ্যেষ্ঠ নেতা ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা আক্ষেপ করে বলছেন, যুবদল তার সেই মূল আদর্শ ও লক্ষ্য থেকে এখন অনেকটাই বিচ্যুত হয়ে পড়েছে। দেশের যুবসমাজের সার্বিক উন্নয়নে এই সংগঠনটি বর্তমানে দৃশ্যমান বা কার্যকর কোনো ভূমিকাই রাখতে পারছে না। এমনকি ভবিষ্যতের জন্য আদর্শভিত্তিক ও পরীক্ষিত নেতৃত্ব তৈরিতেও চরম ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছে বর্তমান কমিটি। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে গত ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরবর্তী সময়ের কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা। অভিযোগ উঠেছে, রাজনৈতিক পালাবদলের পর যুবদলের কিছু নেতাকর্মী নানা ধরনের অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েছেন, যার ফলে সংগঠনের দীর্ঘদিনের গৌরবোজ্জ্বল ঐতিহ্য ও সামগ্রিক ভাবমূর্তি আজ বড় ধরনের প্রশ্নের সম্মুখীন।

খসড়া কমিটি নিয়ে বিতর্ক ও নতুন নেতৃত্বের দাবি

সংগঠনের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্রের তথ্যমতে, পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের জন্য ইতোমধ্যে ১৫১ ও ২৫১ সদস্যবিশিষ্ট দুটি সম্ভাব্য খসড়া তালিকা প্রস্তুত করে অনুমোদনের জন্য বিএনপির হাইকমান্ডের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এই তালিকা জানাজানি হওয়ার পর পদপ্রত্যাশী নেতাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

বঞ্চিত নেতাদের সুস্পষ্ট অভিযোগ, প্রস্তাবিত এই খসড়া তালিকায় বিগত দিনের আন্দোলন-সংগ্রামে যারা ত্যাগ স্বীকার করেছেন, সেই যোগ্য নেতাদের চরমভাবে অবমূল্যায়ন করা হয়েছে। বর্তমান আংশিক কমিটির শীর্ষ নেতারা দলের বৃহত্তর স্বার্থের চেয়ে নিজেদের ব্যক্তিগত অনুসারী ও ঘনিষ্ঠদের প্রাধান্য দিয়েই এই তালিকা তৈরি করেছেন। এই চরম হতাশা ও অনাস্থার জায়গা থেকে সংগঠনটির একটি বিশাল অংশের দাবি—বর্তমান ব্যর্থ আংশিক কমিটিকে অবিলম্বে ভেঙে দিয়ে সম্পূর্ণ নতুন ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটি পুনর্গঠন করা হোক।

তারেক রহমানের সরাসরি হস্তক্ষেপ ও মতবিনিময়

যুবদলের এই অভ্যন্তরীণ বিশৃঙ্খলা দূর করতে সরাসরি হস্তক্ষেপ করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও সংগঠনের প্রধান অভিভাবক তারেক রহমান। তিনি ইতোমধ্যে অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোতে বড় ধরনের কাঠামোগত পরিবর্তনের স্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়েছেন।

দলীয় সূত্রে জানা যায়, গত ৯ মে রাজধানীর খামারবাড়িতে অবস্থিত কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটে (কেআইবি) যুবদলের বিভিন্ন সাংগঠনিক ইউনিটের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভা করেছেন তিনি। ওই বৈঠকে অংশ নেওয়া এক নেতার মতে, যুবদলের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব নির্ধারণ করতে দলের চেয়ারম্যান বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সঙ্গে ‘ওয়ান-টু-ওয়ান’ (এককভাবে) কথা বলেছেন। তিনি স্পষ্ট আভাস দিয়েছেন যে, বিগত দিনের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন-সংগ্রামে যারা মাঠে সক্রিয় ছিলেন এবং আগামী দিনের কঠিন রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে দলকে সামনের দিকে এগিয়ে নেওয়ার সক্ষমতা রাখেন, তাদের হাতেই আগামীতে যুবদলের নেতৃত্ব তুলে দেওয়া হবে।

শীর্ষ নেতাদের বক্তব্য ও হাইকমান্ডের অবস্থান

সার্বিক এই পরিস্থিতি নিয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির জ্যেষ্ঠ সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, “সহযোগী সংগঠনগুলোর পুনর্গঠনের কার্যক্রম বর্তমানে চলমান রয়েছে। কবে নাগাদ নতুন কমিটি আসবে, তা এখনই সুনির্দিষ্ট করে বলা যাচ্ছে না। তবে দলের চেয়ারম্যান দায়িত্বশীল নেতাদের নিয়ে অত্যন্ত নিবিড়ভাবে কাজ করছেন। আমরা আশা করি, খুব দ্রুত সময়ের মধ্যেই অঙ্গ সংগঠনগুলো পুনর্গঠন করা হবে।”

অন্যদিকে, বর্তমান কমিটির সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নয়ন তার অবস্থান পরিষ্কার করে বলেছেন, “আমি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছি। এখন দল যদি আমাকে সংগঠনে না রেখে অন্য কোথাও নতুন কোনো দায়িত্ব দিতে চায়, আমি তা সানন্দে মেনে নেব। আবার যদি তারা আমাকে সংগঠনে রাখতে চায়, তাতেও আমার কোনো সমস্যা নেই। মোটকথা, দলের সিদ্ধান্তই আমার কাছে চূড়ান্ত।”

যুবদলের সাবেক সহ-সভাপতি কামরুজ্জামান দুলাল বর্তমান কমিটির তীব্র সমালোচনা করে বলেন, “সংগঠনকে গতিশীল করা এবং সাংগঠনিক শৃঙ্খলা বজায় রাখার ক্ষেত্রে বর্তমান কমিটি পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে। যার ফলে দেশের সব ইউনিটে সাংগঠনিক কাঠামো প্রায় ভেঙে পড়েছে। তৃণমূল নেতাকর্মীরা বিশ্বাস করেন, দলের চেয়ারম্যান ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে দীর্ঘ আন্দোলনে নেতৃত্বদানকারী ত্যাগী নেতাদের মূল্যায়ন করে একটি সুচিন্তিত সিদ্ধান্ত নেবেন।”

শীর্ষ পদের দৌড়ে আলোচনায় রয়েছেন যারা

নতুন কমিটিতে নিজেদের স্থান পাকা করতে সাবেক ছাত্রনেতা ও যুবদলের সাবেক শীর্ষ পদধারী একঝাঁক নেতা ইতোমধ্যে জোর লবিং ও তদবির শুরু করেছেন। বিশেষ করে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ শীর্ষ পাঁচটি পদের জন্য বেশ কয়েকজন হেভিওয়েট নেতার নাম রাজনীতির মাঠে জোরেশোরে উচ্চারিত হচ্ছে।

আলোচনায় থাকা নেতাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন—যুবদলের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মামুন হাসান, সাবেক প্রথম যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক গোলাম মাওলা শাহীন, সাবেক সহ-সভাপতি রুহুল আমিন আকিল, সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাইদ ইকবাল টিটো, মাহবুবুল হাসান পিংকু, দীপু সরকার, এবং কামরুজ্জামান দুলাল।

এছাড়া ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদলের আহ্বায়ক এনামুল হক এনাম, সিনিয়র সহ-সভাপতি রেজাউল কবীর পল, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বিল্লাল হোসেন তারেক, সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মামুনুর রশীদ মামুন, সাবেক সহ-শিল্প বিষয়ক সম্পাদক আসাদুল আলম টিটু, ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক শরীফ উদ্দিন জুয়েল এবং দক্ষিণের সদস্য সচিব রবিউল ইসলাম নয়নের নামও শক্তভাবে শোনা যাচ্ছে।

পাশাপাশি ছাত্রদলের সাবেক নেতাদের মধ্য থেকেও অনেকেই যুবদলের নেতৃত্বে আসার দৌড়ে রয়েছেন। এদের মধ্যে ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ফজলুর রহমান খোকন, সাবেক সাধারণ সম্পাদক আকরামুল হাসান, ইকবাল হোসেন শ্যামল এবং সাইফ মাহমুদ জুয়েল অন্যতম।

পদপ্রত্যাশী এই নেতারা সকলেই দলের হাইকমান্ডের যেকোনো সিদ্ধান্ত মেনে নেওয়ার কথা জানিয়েছেন। ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাইফ মাহমুদ জুয়েল বলেন, “সব সময় আন্দোলন-সংগ্রামের অগ্রভাগে অবস্থান নিয়েছি। এখন সংগঠনের অভিভাবক যে দিকনির্দেশনা দেবেন বা যে দায়িত্ব দেবেন, তা মাথা পেতে নেব।”

সব মিলিয়ে, বিএনপির হাইকমান্ডের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের দিকেই এখন তাকিয়ে আছেন যুবদলের হাজারো নেতাকর্মী। আগামী দিনের কঠিন রাজনৈতিক বাস্তবতায় কারা সংগঠনের হাল ধরবেন, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

তথ্যসূত্র: ঢাকা পোস্ট


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category