রাশিয়ার সহায়তায় মিয়ানমারের দক্ষিণাঞ্চলে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল ও গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণের জন্য জোরপূর্বক এলাকা খালি করার অভিযোগ উঠেছে। প্রকল্প এলাকা থেকে মানুষ সরাতে শত শত সেনা মোতায়েন করে গ্রাম জ্বালিয়ে দেওয়া হচ্ছে বলে স্থানীয় অধিকারকর্মী ও প্রতিরোধযোদ্ধারা জানিয়েছেন।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আন্দামান সাগরের তীরে দাওয়েই বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলকে (এসইজেড) ঘিরে এই সামরিক অভিযান চলছে। সেখানে গভীর সমুদ্রবন্দর ও বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।
চলতি জুলাই থেকে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী থাইল্যান্ড সীমান্তবর্তী তানিনথারি অঞ্চলে শত শত সেনা মোতায়েন করেছে। এ সময় সরকারের বিরুদ্ধে লড়াইরত স্থানীয় প্রতিরোধ গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে সেনাদের সংঘর্ষও হয়েছে। দুটি সূত্র জানিয়েছে, সামরিক অভিযানের মুখে প্রতিরোধযোদ্ধারা কয়েকটি এলাকা থেকে পিছু হটতে বাধ্য হয়েছেন।
আরও পড়ুন: কালুখালীতে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে বাল্যবিবাহ বন্ধ
তানিনথারি রিজিয়ন পিপলস ডিফেন্স ফোর্সের সাও দাহ কো রয়টার্সকে বলেন, সেনারা বিভিন্ন দিক থেকে এগিয়ে এসে এলাকাগুলো খালি করার অভিযান চালাচ্ছে। কয়েকটি গ্রাম ও বাড়িঘরে আগুন দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
ন্যাশনাল ইউনিটি গভর্নমেন্টের অধীনে পরিচালিত দাওয়েই ডিস্ট্রিক্ট ১ নম্বর ব্যাটালিয়নের এক প্রতিরোধযোদ্ধা জানান, সেনারা অন্তত তিনটি গ্রামের বাড়িঘরে আগুন দিয়েছে। বাস্তুচ্যুতদের সহায়তা করা তিন ত্রাণকর্মীকেও হত্যা করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই যোদ্ধা বলেন, দাওয়েই বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল চালু করতেই সেনাবাহিনী এলাকাটি খালি করার উদ্যোগ নিয়েছে।
স্থানীয় নাগরিক সমাজের সংগঠন ম্যাগা ইনিশিয়েটিভ জানিয়েছে, গত ৯ জুলাই ইয়েবু টাউনশিপে সেনাদের একটি দলের মুখোমুখি হওয়ার পর তিন ত্রাণকর্মীকে আটক করা হয়। পরে তাদের হত্যা করা হয়েছে বলে সংগঠনটি দাবি করেছে।
এদিকে দাওয়েই প্রকল্প নিয়ে কূটনৈতিক তৎপরতাও বাড়িয়েছে মিয়ানমার। চলতি মাসে থাইল্যান্ড সফরে গিয়ে জান্তা প্রধান থেকে প্রেসিডেন্ট হওয়া মিন অং হ্লাইং দাওয়েইকে দক্ষিণ ও পশ্চিম এশিয়ার সম্ভাব্য প্রবেশদ্বার হিসেবে তুলে ধরেন। পরে রাশিয়া সফরে গিয়ে প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠকেও তিনি প্রকল্পটি নিয়ে আলোচনা করেন।
তবে এসব অভিযোগ স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি রয়টার্স। এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে মিয়ানমার সরকার ও দেশটিতে অবস্থিত রাশিয়ার দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।