• সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬, ০৫:১৭ অপরাহ্ন
Headline
নয়াদিল্লিতে বিমসটেক বৈঠকে অংশ নিচ্ছে বাংলাদেশ ফ্রান্স বনাম স্পেন : ৩৭ হাজার কোটি টাকার সেমিফাইনাল শিশুদের স্কুল নির্বাচনঃ ১০টি পরামর্শ ইরানে এক ঘণ্টায় ৮ শহরে হামলা চালাল যুক্তরাষ্ট্র আইএমএফ প্রতিনিধিদের সঙ্গে পে স্কেলের বিষয়ে আলোচনা হয়নি: অর্থমন্ত্রী সেনা পরিবারে বড় হয়েছি, তাই সেনাসদস্যদের কাছে এলে শৈশবের স্মৃতি মনে পড়ে পরিবেশের যত্ন নিতে, যেখানে–সেখানে ময়লা–আবর্জনা না ফেলতে আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর প্রতিটি উপজেলা হাসপাতালে কিডনি ডায়ালাইসিস সেবা চালু করা হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী দক্ষিণ এশিয়ায় স্টারলিংকের নতুন ট্রানজিট হাব বাংলাদেশ ফ্লাইট এক্সপার্টের বিরুদ্ধে প্রায় ৩৫ কোটি টাকার মানিলন্ডারিং মামলা

শিশুদের স্কুল নির্বাচনঃ ১০টি পরামর্শ

বাদল সৈয়দ / ২ Time View
Update : সোমবার, ১৩ জুলাই, ২০২৬

১৯৭৩ সাল।
আমাকে স্কুলে ভর্তি করানো হবে। এটা নিয়ে বাসায় বিশাল উত্তেজনা। আব্বা-আম্মার তো উত্তেজনা ছিলই তার চেয়ে বেশি ছিল চার আপার। আদরের ছোটভাইকে কোন স্কুলে ভর্তি করানো যায়?
আব্বা তখন একটি কাজ করলেন। তা হলো, আশেপাশের কয়েকটি স্কুল আমাকে দেখালেন। সব মোটামুটি একই মানের। তবে কিছুটা পার্থক্যও ছিল। কোনোটা দালান, কোনোটা টিন শেড, কোথাও বিশাল মাঠ, কোথাও মাঠ নেই।
সব বাদ দিয়ে আমি পছন্দ করলাম আগ্রাবাদ সরকারি কলোনি প্রাইমারি স্কুল। কারণ দেখলাম এখানকার ছেলেমেয়েরা মোটামুটি স্বাধীন রাজ্যে বসবাস করছে। ড্রেসের বালাই নাই। কেউ কেউ খালি পায়েও এসেছে! ক্লাসে যতজন পড়ছে, মাঠে খেলছে তার চেয়ে বেশি। কয়েকজন আবার লাইন ধরে রেলগাড়ির মতো ছুটছে, আর কুউউউউ করে ট্রেনের হুইসেল বাজাচ্ছে।
পুরো স্কুল জুড়ে তাদের হাসি-আনন্দের উল্লাস। এই উল্লাসের শব্দ অনেকটা কাকের কা কা শব্দের মতো। তাই স্কুলটিকে ডাকা হয়-‘কাউয়া স্কুল’।
আমি জেদ ধরলাম এ স্কুলেই ভর্তি হবো। আব্বা তেমন আপত্তি করলেন না- কিন্তু আপারা রেগে কাঁই। অনেক বোঝালেন। আমি কিন্তু নট নড়নচড়ন। শেষ পর্যন্ত মেজ আপা কড়া ধমক দিয়ে বললেন-‘ওখানে পড়লে সবাই তোকে কাউয়া ডাকবে।‘
আমি কাঠি লেজুন্স চাটতে চাটতে বললাম- ‘ডাকুক।‘
এই কাউয়া স্কুলেই আমার স্কুল জীবনের শুরু। এখানে ক্লাস ফাইভ পর্যন্ত পড়েছিলাম এবং এটি আমার জীবনের অন্যতম সেরা স্কুল।
আপনার সন্তানের প্রথম স্কুল নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই তার জন্য সেরা স্কুলটি খুঁজে বের করতে হয়।
প্রশ্ন হচ্ছে সেরা স্কুল কীভাবে খুঁজবেন?
নিচে উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করলাম…
১) ভর্তি করার আগে স্কুলের পরিবেশ নিজে গিয়ে দেখে আসুন। নিশ্চিত হন, সেখানকার পরিবেশ বাচ্চার জন্য আনন্দদায়ক হবে কিনা? দুটো ব্যাপার খেয়াল করার মধ্য দিয়ে ব্যাপারটি সহজে বোঝা যায়।
তা হলো-
ক। সেখানে শিশুরা হাসি-আনন্দে আছে, না ভয়ে কাঠ কাঠ হয়ে আছে।
খ। স্কুল ছুটির পর তারা হাসতে হাসতে বের হচ্ছে, না তাদের হতোদ্যম মনে হচ্ছে?
স্কুলের পরিবেশ কেমন তা এ দুটো প্রশ্নের উত্তরে লুকিয়ে আছে।
২) স্কুলের পরিবেশ ছাড়াও এলাকাটি কেমন তাও বিবেচনায় রাখুন। ঘিঞ্জি, খিস্তি-খেউড়ে ভরা এলাকার স্কুল এড়িয়ে চলুন। স্কুল যতই ভালো হোক, এলাকা খারাপ হলে তার বিরূপ প্রতিক্রিয়া শিশুর উপর পড়তে বাধ্য। আমার এক আত্মীয় তার বাচ্চাকে স্কুল থেকে ছাড়িয়ে এনেছিলো, কারণ সে যাওয়া-আসার পথে শুনতে শুনতে অশ্লীল গালি শিখেছিল।
৩) স্কুলের নাম-যশ নয়, শিক্ষক কেমন তা দেখুন। অনেক স্কুলের শিক্ষক অতোটা আন্তরিক নন। বিশেষ করে শিক্ষক রুক্ষ হলে সে স্কুল থেকে শত হাত দূরে থাকুন। এরা শিশুদের মনে শিক্ষার ব্যাপারে স্থায়ী ভীতি তৈরি করেন।
৪) মনে রাখবেন, ঝকঝকে দালান, চমৎকার ক্লাসরুম, চকমকে শিক্ষক মানেই ভালো স্কুল নয়। সেই স্কুলই ভালো, যেটি শিশুর যত্ন নেয়। এ বয়সে পড়াশোনার চেয়েও দরকার আদর-যত্ন। তাই যেখানে সে যত্ন পাবে সেখানেই ভর্তি করুন।
৫) শিশু বয়সে খেলাধুলা খুব গুরুত্বপূর্ণ। তাই যে স্কুলে পড়াশোনার বাইরে খেলাধুলার ব্যবস্থা আছে সেদিকে গুরুত্ব দিন। বাস্তব সত্য হলো, অধিকাংশ স্কুলে এখন খেলার মাঠ নেই। কিন্তু তারপরও অনেক স্কুল বাচ্চাদের ইনডোর অ্যাকটিভিটিস করায়। এগুলো শিশুর বিকাশে খুব কাজে লাগে।
৬) আমার মতে প্লে গ্রুপ থেকে ক্লাস ফাইভ পর্যন্ত শিশুদের ওপর খুব বেশি পড়াশোনার চাপ দেওয়া উচিত নয়। বয়সটি খেলতে খেলতে শেখার। তাই যে স্কুলে তার ওজনের চাইতে স্কুল ব্যাগের ওজন বেশি সে স্কুলে দেবেন না। শিশুদের এ বয়সে বেশি চাপ দিলে তাদের মস্তিষ্ক স্থায়ীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এছাড়া খুব গোঁড়া স্কুলেও ভর্তি না করানোই ভালো। তাতে শিশুর মুক্ত চিন্তার উম্মেষ হবে না।
৭) সম্ভব হলে তাকে কয়েকটি স্কুল দেখান। তার মতামতকে গুরুত্ব দিন। পছন্দের জায়গায় ভর্তি করালে সে পড়াশোনাটা উপভোগ করবে। আমার ক্ষেত্রে তা-ই হয়েছিল।
৮) স্কুলের ভেতরের পরিবেশ যেমন গুরুত্বপূর্ণ বাইরে অভিভাবকদের সঙ্গও খুব গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে মায়েরা বাচ্চাকে স্কুলে দিতে গিয়ে, আনতে গিয়ে অনেকের সাথে পরিচিত হন। বাচ্চার জন্য স্কুল যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তার সহপাঠিদের মা-বাবার সঙ্গও আপনার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। সেখানে যান যেখানে অভিভাবকরা পরিশীলিত।
৯ ) আপনার যদি সামর্থ্য না থাকে শুধু শখ পূরণ বা অন্যকে দেখানোর জন্য বাচ্চাকে খুব দামি স্কুলে ভর্তি করাবেন না। সে তার ধনী সহপাঠীদের দামি দামি জিনিস দেখে সেগুলোর আবদার করবে। না পেলে সে হীনমন্যতায় ভুগবে। আপনার একই অবস্থানের গার্ডিয়ানদের বাচ্চা যে স্কুলে পড়ে সে স্কুলে বাচ্চাকে পড়ান।
১০) প্রয়োজনে শিক্ষকের নাগাল পাবেন কিনা বিবেচনায় নিন। এখনকার অনেক স্কুলে অভিভাবকরা সহজে স্কুলের শিক্ষকদের সাথে দেখা করতে পারেন না। অথচ বাচ্চার ব্যাপারে টিচারের সঙ্গে যখন-তখন আলোচনা করার দরকার হতে পারে। তাই শিক্ষকের সাথে দরকারে দেখা করতে পারবেন কিনা তা মাথায় রাখুন।
আমার প্রথম স্কুলের প্রধান শিক্ষক ছিলেন হাবিবুর রহমান স্যার। সবাই তাঁকে পাগলাটে বলতো। কিন্তু বড় হয়ে বুঝেছি, তিনি ছিলেন যাদুকর। তাই স্কুলের পরিবেশ খুব হালকা রেখে তিনি শিশুদের শিক্ষাজীবনকে আনন্দ-ভূবন বানিয়ে ফেলতেন। তাই তারা সারাদিন কাকের মতো কা কা করেও ডজনে ডজনে প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় ট্যালেন্ট পুলে বৃত্তি পেতো।
#আসুন মায়া ছড়াই


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category