• শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬, ০১:২২ পূর্বাহ্ন
Headline
নবদম্পতিদের ৭টি ভুল অন্তঃসত্ত্বা মায়েদের সিজারে নিরুৎসাহিত করতে চিকিৎসকদের প্রতি আহ্বান জুলাইয়ের আত্মত্যাগের চেতনাকে লাভজনক চেতনা বানাবেন না : তথ্যমন্ত্রী আত্মসমর্পণের আগেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী শেখ হাসিনাকে গ্রেপ্তার করতে পারে: আইনমন্ত্রী ৮৬ ডেপুটি ও ১৭৯ জন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল নিয়োগ আগস্টেই মালয়েশিয়া যাওয়া শুরু করবে বাংলাদেশি শ্রমিকরা সন্তানকে সম্পত্তি লিখে দিলেও ভোগ-দখল থাকবে বাবা-মায়ের: আইনমন্ত্রী তিন দিনের সফরে ঢাকায় মার্কিন প্রেসিডেন্টের বিশেষ দূত সার্জিও গোর ব্রাজিলের সঙ্গে আমার সময় শেষ: নেইমার সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংককে সম্পদ ও দায় বুঝিয়ে দিয়েছে এক্সিম ব্যাংক

সরকার বা পদ কোনোটিই চিরস্থায়ী নয়: পুলিশ সপ্তাহে পেশাদারিত্ব ও নিরপেক্ষতার কড়া বার্তা প্রধানমন্ত্রীর

Reporter Name / ৭১ Time View
Update : সোমবার, ১১ মে, ২০২৬

গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় সরকার যেমন চিরস্থায়ী নয়, তেমনি পুলিশ প্রশাসনের কোনো পদও কারো জন্য চিরকাল সংরক্ষিত থাকে না বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সোমবার (১১ মে) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের শাপলা হলে ‘পুলিশ সপ্তাহ-২০২৬’ উপলক্ষে ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের উদ্দেশে দেওয়া এক দিকনির্দেশনামূলক ভাষণে তিনি এ কথা বলেন। এ সময় তিনি পুলিশ বাহিনীকে পেশাদারিত্ব বজায় রেখে সত্যিকারের জনবান্ধব এবং মানুষের আস্থার প্রতীক হিসেবে গড়ে তোলার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।

সমৃদ্ধ, স্বনির্ভর, নিরাপদ ও মানবিক একটি বাংলাদেশ গড়ার আকাঙ্ক্ষা ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ইউনিফর্মের বাইরে প্রতিটি পুলিশ কর্মকর্তাও দেশের একজন সাধারণ নাগরিক। একজন মানুষ ও বাংলাদেশি হিসেবে সবারই এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে ভূমিকা রাখা উচিত। মাঠপর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণের গুরুদায়িত্ব পুলিশ বাহিনীর কাঁধেই ন্যস্ত। তারা যদি এই দায়িত্ব সফলভাবে পালন করতে পারে, তবে একটি মানবিক ও নিরাপদ বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার পথে দেশ অনেক দূর এগিয়ে যাবে বলে তিনি বিশ্বাস করেন।

পদোন্নতি ও পোস্টিংয়ের বিষয়ে কর্মকর্তাদের পেশাদার হওয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পুলিশ প্রশাসনের প্রতিটি পদই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নির্দিষ্ট কোনো পদ বা পছন্দের জায়গায় পোস্টিংয়ের প্রত্যাশা করলে তা পেশাদারিত্বের পরিপন্থী হয়ে দাঁড়ায়। নিজের চাহিদা অনুযায়ী পোস্টিং পেলে সাময়িকভাবে হয়তো তুষ্ট হওয়া যায়, কিন্তু এতে সার্বিক শৃঙ্খলার সাথে আপস করা হয়। তাই যার যেখানে দায়িত্ব অর্পিত হয়েছে, তাকে সেখানেই গুরুত্বসহকারে কাজ করার নির্দেশ দেন তিনি। এর মাধ্যমেই কেবল একটি দক্ষ, গতিশীল এবং পেশাদার পুলিশ প্রশাসন গড়ে তোলা সম্ভব।

পুলিশের ওপর জনগণের আস্থা ও নির্ভরতা সৃষ্টির তাগিদ দিয়ে সরকারপ্রধান বলেন, কৌশলী ও ইতিবাচক কার্যক্রমের মাধ্যমে জনগণের বিশ্বাস অর্জন করা গেলে মব ভায়োলেন্স বা গণ-উত্তেজনার মতো সমস্যাগুলো সহজেই মোকাবিলা করা যায়। দুই দশকের বেশি সময়ের ফ্যাসিবাদী শাসনের পর ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে একটি জবাবদিহিমূলক সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। বর্তমান সরকার পুলিশকে এমন এক রূপে দেখতে চায়, যেখানে সাধারণ মানুষ পুলিশ প্রশাসনকে সরকারের দর্পণ বা আয়না হিসেবে বিবেচনা করবে। পুলিশ প্রশাসনের সাফল্য মানেই সরকারের সফলতা বলে তিনি উল্লেখ করেন।

দুর্নীতি, সন্ত্রাস ও অপশাসনের বিরুদ্ধে সরকারের জিরো টলারেন্স নীতির কথা পুনর্ব্যক্ত করে তারেক রহমান পুলিশ কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন যে, অপরাধ দমনে কোনো ব্যক্তির রাজনৈতিক পরিচয় যেন মুখ্য না হয়। যে বা যারা অপরাধে লিপ্ত হবে, তাদের কেবল অপরাধী হিসেবেই বিবেচনা করতে হবে। পুলিশ কোনো ব্যক্তি বা দলের নয়, বরং আইনের রক্ষক এবং জনগণের সেবক। বর্তমান সময়ে অপরাধের ধরন বদলে যাওয়ায় পুলিশের কাজের পরিধি অনেক বিস্তৃত হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ট্রান্সন্যাশনাল অর্গানাইজড ক্রাইমের মতো বৈশ্বিক বাস্তবতার সাথে মানিয়ে নিতে প্রতিটি পুলিশ কর্মকর্তাকে আরও বহুমুখী দক্ষতায় সমৃদ্ধ হতে হবে।

পুলিশ বাহিনীর কল্যাণ নিশ্চিতে সরকারের আন্তরিকতার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী জানান, এখন থেকে সততা, মেধা এবং দক্ষতাই হবে নিয়োগ, বদলি ও পদোন্নতির মূল ভিত্তি। দিন-রাত ও ছুটির দিনেও টানা কাজ করতে হয় বলে পুলিশ সদস্যদের শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা নিশ্চিত করার ব্যাপারেও সরকার সচেষ্ট রয়েছে। সবশেষে দেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখা এবং যেকোনো নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড দমনে পুলিশকে সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়ে তিনি বলেন, বর্তমান সরকার নির্বাচনী ইশতেহার এবং জনগণের সামনে স্বাক্ষরিত ‘জুলাই সনদ’-এর প্রতিটি অঙ্গীকার অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category