• সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬, ০৭:৪৪ অপরাহ্ন
Headline
গণমাধ্যম রাষ্ট্র ও সমাজে আয়নার দায়িত্ব পালন করে : তথ্যমন্ত্রী স্বাধীন গণমাধ্যমের জন্য নীতিমালা প্রণয়নে সম্পাদকদের সহযোগিতা চান প্রধানমন্ত্রী সিআইডি-ডিএমপিসহ বিভিন্ন ইউনিটে ৯৩ শিক্ষানবিশ এএসপির পদায়ন শাপলা চত্বরে ‘গণহত্যা’ হয়েছে: চিফ প্রসিকিউটর ২৬ টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিক: তদন্তে হাইকোর্টে রিট ধর্ষণ মামলায় মাগুরার সাবেক এসপি জহিরুলের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা খেলাপি ঋণের দুই মামলায় রিজেন্ট সাহেদ ফের গ্রেপ্তার চট্টগ্রামে পিস্তল-গুলিসহ ডেভিড ইমনের ২ সহযোগী গ্রেপ্তার প্রশাসনে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ ঘিরে কর্মকর্তাদের মাঝে অসন্তোষ নিজের বেতন নিজেই মেটান ভিনি!

সাবেক রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনের দুর্নীতির তদন্তের দাবি জোরালো

Reporter Name / ১ Time View
Update : সোমবার, ২৭ জুলাই, ২০২৬

সদ্য পদত্যাগী রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের বিরুদ্ধে পদ ছাড়ার পর থেকেই একের পর এক গুরুতর অনিয়ম, জালিয়াতি এবং আর্থিক কেলেঙ্কারির চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে আসতে শুরু করেছে। ইসলামী ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ জোরপূর্বক ছিনিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে এস আলম গ্রুপকে অবৈধ সহায়তা প্রদান, ব্যাংক খাতের হাজার হাজার কোটি টাকা পাচার, ক্ষমতার চটজলদি অপব্যবহার এবং দেশ-বিদেশে অবৈধ অঢেল সম্পদের মালিক হওয়ার অভিযোগ ঘিরে রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে নতুন বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। এর পাশাপাশি গত চব্বিশের জুলাই অভ্যুত্থানের গণ-আন্দোলনে স্বৈরাচারী শাসনের নিরবচ্ছিন্ন সমর্থন দেওয়ার বিষয়েও তাঁর ভূমিকা প্রশ্নের মুখে পড়েছে। সম্প্রতি হাইকোর্টে পেশ করা বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) এক চাঞ্চল্যকর পর্যালোচনায় দেখা গেছে যে, ইসলামী ব্যাংকের প্রায় ৮০ হাজার কোটি টাকার শেয়ার হস্তান্তরের অবৈধ প্রক্রিয়ায় সাহাবুদ্দিন এবং তাঁর পারিবারিক বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান জেএমসি বিল্ডার্সের প্রত্যক্ষ সংশ্লিষ্টতা ছিল। এসব অভিযোগের প্রেক্ষিতে সংবিধানে বর্ণিত দায়মুক্তির সুবিধা তিনি পাবেন কি না, তা নিয়ে এখন নীতিগত ও আইনি তর্ক শুরু হয়েছে।

সংবিধানের ৫১ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি পদে অধিষ্ঠিত থাকাকালীন সময়ের কাজের আইনি দায়মুক্তি থাকলেও, সুশীল সমাজ ও অভিজ্ঞ পর্যবেক্ষক মহল মনে করছেন যে, দেশের শীর্ষ পদে আসীন হওয়ার পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সময়ের কাজের কোনো অনিয়ম বা দুর্নীতির তদন্তে কোনো আইনি বাধা থাকতে পারে না। রাষ্ট্রপতি পদ গ্রহণের আগে তিনি দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) প্রভাবশালী কমিশনার, ইসলামী ব্যাংকের ভাইস চেয়ারম্যান এবং বিচার ক্যাডারে দায়িত্ব পালন করেছেন। সেই সময়কার অঢেল অবৈধ সম্পদ অর্জন ও ব্যাংক খাতের ব্যাপক লুটপাটের দায় এড়িয়ে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। এমনকি স্বচ্ছতা ও নিজের ব্যক্তিগত ভাবমূর্তি সুরক্ষার স্বার্থে তাঁর নিজ থেকেই এসব অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত চেয়ে সরকারের কাছে আবেদন জানানো উচিত বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা। দায়িত্ব পাওয়ার আগে বিভিন্ন ব্যক্তিস্বার্থ বা ব্যবসায়ী গোষ্ঠীকে সোয়া দুই লাখ কোটি টাকা বিদেশে পাচারে সহায়তা করার যে মারাত্মক অভিযোগ রয়েছে, রাষ্ট্রযন্ত্র চাইলে তার পূর্ণাঙ্গ নিরপেক্ষ তদন্ত করে তাঁকে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে পারে।

এদিকে পদত্যাগী রাষ্ট্রপতির ব্যাপারে সরকারের নীতিনির্ধারকদের মধ্য থেকেই কিছুটা ভিন্নমুখী বক্তব্য উঠে এসেছে। সরকারের আইনমন্ত্রী স্পষ্ট করে জানিয়েছেন যে, সাহাবুদ্দিনের দুদক কমিশনার ও ইসলামী ব্যাংকের পরিচালক পদে থাকাকালীন সময়ের আর্থিক দুর্নীতির যে অভিযোগগুলো এসেছে, তা সরকার অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে পর্যালোচনা করছে এবং তদন্ত শেষে প্রচলিত আইন মোতাবেক কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তবে অন্যদিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান যে, রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালনকালে তিনি সাংবিধানিক নিয়ম অনুসরণ করেছেন এবং ওই বিশেষ সময়ের জন্য সংবিধানে নির্ধারিত দায়মুক্তি বা আইনি সুরক্ষা বলবৎ থাকবে। ফলে সরকার তাঁর আগের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক কর্মজীবনের অনিয়মের ওপর তদন্ত করবে কি না, তা শেষ পর্যন্ত নতুন রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের ওপরই ব্যাপকভাবে নির্ভর করছে।

আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী সংস্থা টিআইবি এবং বিশিষ্ট আইনজীবীরা জোর দিয়ে বলছেন যে, আইনের চোখে দেশের কোনো নাগরিকই বিশেষ ছাড় পাওয়ার যোগ্য নন। রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালনকালের বাইরে যে দীর্ঘ সময় তিনি নানা প্রশাসনিক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে ছিলেন, সেখানকার অনিয়ম ধামাচাপা দেওয়া হলে ব্যাংক খাতের মূল অপরাধীদের আড়াল করা হবে। আইনজীবী ও ব্যাংকিং বিশেষজ্ঞদের বরাতে জানা যায়, ২০১৭ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে তিনি জেএমসি বিল্ডার্সের প্রতিনিধি হয়ে ইসলামী ব্যাংকের শেয়ার হস্তান্তরে সরাসরি কলকাঠি নেড়েছিলেন এবং প্রায় ৮১ শতাংশের বেশি শেয়ার একচ্ছত্রভাবে নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর কাছে হস্তান্তরের অনুমোদন দেন। এর মাধ্যমে ব্যাংকিং খাতকে চরম বিপর্যয়ের দিকে ঠেলে দেওয়া হয়েছিল, যার সুনির্দিষ্ট আইনি বিচার হওয়া এখন সময়ের মূল দাবি।

শুধু ইসলামী ব্যাংকিং কেলেঙ্কারিই নয়, দেশের অন্যান্য আর্থিক খাতের হরিলুটেও তাঁর বিরুদ্ধে প্রত্যক্ষ মদদের অভিযোগ উঠেছে। ২০১৫ সালে বেসিক ব্যাংকের প্রায় দুই হাজার কোটি টাকা লোপাটের ঘটনায় দুদক ডজন ডজন মামলা করলেও, রাজনৈতিক প্রভাবে ব্যাংকটির তৎকালীন শীর্ষ কারিগরদের বাদ দিয়ে চার্জশিট দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে তদন্তকারী কর্মকর্তারা স্বীকার করেন যে, তৎকালীন দুদক কমিশনারদের চরম রাজনৈতিক বাধার কারণেই মূল আসামিদের আগে আইনের আওতায় আনা সম্ভব হয়নি। এ ছাড়া এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংকের উপদেষ্টা পদের সুবিধা নেওয়া কিংবা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলায় বিরোধী নেতাদের বিরুদ্ধে কাজ করার ক্ষেত্রে তাঁর স্পষ্ট পক্ষপাতিত্বের চিত্র ফুটে উঠেছিল।

এসব পদ ও রাজনৈতিক প্রভাব কাজে লাগিয়ে সাহাবুদ্দিন ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা দেশে ও বিদেশে বিপুল সম্পদের সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছিলেন বলে অনুসন্ধানে জানা গেছে। রাজধানীর অভিজাত এলাকায় একাধিক ফ্ল্যাট ছাড়াও মালয়েশিয়ার ‘মাই সেকেন্ড হোম’ সুবিধায় বিপুল অর্থ বিনিয়োগ এবং মধ্যপ্রাচ্যের দুবাইয়ে নিবন্ধিত সংস্থায় গোপন ব্যবসায়িক অংশীদারত্বের তথ্য উন্মোচিত হয়েছে। তাঁর স্ত্রী এবং সন্তান আরশাদ আদনানের বিনোদন খাতসহ অন্যান্য বড় বড় বিনিয়োগের আড়ালে থাকা অর্থায়নের উৎস কী, তা নিয়েও অনুসন্ধান চালানোর জোর দাবি উঠেছে। মূলত বিগত একচ্ছত্র রাজনৈতিক অনুগ্রহ ও কোটায় তিনি গুরুত্বপূর্ণ পদগুলো বাগিয়ে নিয়েছিলেন এবং তার প্রতিদান হিসেবে গণতান্ত্রিক আন্দোলন ও নাগরিক হত্যাকাণ্ডের মুখে নীরব ভূমিকা পালন করেছেন। এই পরিস্থিতিতে দেশের সার্বিক আইনি ব্যবস্থা ও আর্থিক খাতের আস্থা ফেরাতে তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা যাবতীয় অনিয়মের সুনির্দিষ্ট ও নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করা অনিবার্য হয়ে পড়েছে।

তথ্যসূত্র: যুগান্তর


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category