বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) আসন্ন নির্বাচন নিয়ে চলমান আইনি জটিলতা ও জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটেছে। আগামী ৭ জুন অনুষ্ঠিতব্য এই বহুল প্রতীক্ষিত নির্বাচন স্থগিত চেয়ে করা একটি রিট আবেদন শুনতে অপারগতা প্রকাশ করেছেন হাইকোর্ট। ফলে নির্ধারিত সময়েই বিসিবির পরিচালনা পর্ষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে আর কোনো আইনি বাধা রইল না। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি) কর্তৃক গঠিত তামিম ইকবালের নেতৃত্বাধীন অ্যাডহক কমিটি দায়িত্ব নেওয়ার পর তিন মাসের মধ্যে নির্বাচন আয়োজনের যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, আদালতের এই আদেশের ফলে তা বাস্তবায়নের পথে চূড়ান্ত রূপ পেল।
রোববার (১৭ মে) বিচারপতি রাজিক আল জলিল ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের দ্বৈত বেঞ্চ নির্বাচন স্থগিতের এই রিট আবেদনের ওপর শুনানি গ্রহণ করেন। ড. মোশাররফ হোসেন নামে এক ব্যক্তির দায়ের করা এই রিটের পক্ষে আদালতে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট মহসীন রশিদ। অন্যদিকে, রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল এবং বিসিবির পক্ষে শক্ত আইনি অবস্থান তুলে ধরেন ব্যারিস্টার মাহিন এম রহমান। উভয় পক্ষের যুক্তি-তর্ক শেষে আদালত স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন যে, বিসিবির চলমান নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় তারা কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ করবেন না। আদালতের এই আদেশের বিষয়টি গণমাধ্যমের কাছে নিশ্চিত করেছেন বিসিবির আইনজীবী।
আদালতের এই সবুজ সংকেতের আগেই অবশ্য বিসিবির প্রধান নির্বাচন কমিশনার আহসানুল করিম নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু করে দিয়েছেন। গণমাধ্যমের তথ্যমতে, এরই মধ্যে তিনটি ক্যাটাগরিতে মোট ১৯২ জন কাউন্সিলরের নাম জমা পড়েছে এবং মনোনয়নপত্র সংগ্রহ ও বাছাইয়ের প্রক্রিয়া দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে। উল্লেখ্য, বিগত পরিচালনা পর্ষদের নির্বাচনে ব্যাপক অনিয়মের সুস্পষ্ট প্রমাণ পাওয়ায় গত ৭ এপ্রিল আমিনুল ইসলামের নেতৃত্বাধীন বোর্ড ভেঙে দেয় জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি)। ক্রিকেট প্রশাসনে স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনতে এবং একটি অবাধ নির্বাচন আয়োজনের লক্ষ্যে সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবালকে সভাপতি করে ১১ সদস্যের একটি শক্তিশালী অ্যাডহক কমিটি গঠন করা হয়েছিল।
তবে বিসিবির নির্বাচনী উত্তাপের মাঝেই বর্তমান অ্যাডহক কমিটির বৈধতা নিয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন একটি ফ্রন্টে নতুন করে আইনি লড়াই শুরু হয়েছে। শনিবার (১৬ মে) তামিম ইকবালের নেতৃত্বাধীন এই ১১ সদস্যবিশিষ্ট কমিটি বাতিল চেয়ে হাইকোর্টে পৃথক আরেকটি রিট দায়ের করা হয়েছে। চমকপ্রদ বিষয় হলো, এই রিটটি দায়ের করেছেন দেশের ক্রিকেটের একঝাঁক পরিচিত মুখ ও সাবেক তারকারা। সাবেক ক্রিকেটার ও বিগত পর্ষদের কর্মকর্তাসহ মোট ১২ জন ব্যক্তি যৌথভাবে এই আবেদনটি করেছেন, যাদের মধ্যে রয়েছেন জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক আমিনুল ইসলাম বুলবুল, ফারুক আহমেদ এবং খালেদ মাসুদ পাইলটের মতো বর্ষীয়ান ক্রিকেট ব্যক্তিত্বরা। ফলে একদিকে যেমন ৭ জুনের নির্বাচন নিয়ে তোড়জোড় চলছে, অন্যদিকে তামিমের অ্যাডহক কমিটির ভবিষ্যৎ নিয়ে সাবেক সতীর্থদের এই আইনি লড়াই দেশের ক্রিকেটাঙ্গনে এক নতুন নাটকীয়তার জন্ম দিয়েছে।