বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক জলপথ হরমুজ প্রণালিতে সব ধরনের জাহাজ চলাচল বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে তেহরান। এই ঘোষণাকে কেন্দ্র করে ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর মধ্যে তীব্র উত্তেজনা ও সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়েছে। জলপথটি দিয়ে নৌ-চলাচল বন্ধ করার অংশ হিসেবে ইতিমধ্যেই ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) দুটি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলা চালিয়েছে। পাল্টা প্রতিক্রিয়া হিসেবে বসে নেই মার্কিন নৌবাহিনীও; আইআরজিসির নৌসেনাদের রুখতে তারাও পাল্টা গুলি ছুড়েছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সক্রিয় অবস্থান নিয়েছে।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালি অঞ্চলে বর্তমানে দুই দেশের বাহিনী একে অপরের মুখোমুখি অবস্থানে রয়েছে। ইতিমধ্যেই বন্দর আব্বাস, সিরিক, কেশম, হেনগাম দ্বীপ এবং গোরগান অঞ্চলে মার্কিন বাহিনীর হামলার খবর পাওয়া গেছে। অন্যদিকে, ইরানের বার্তা সংস্থা মেহের জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালির জলসীমায় মার্কিন বাহিনী ও আইআরজিসির মধ্যে ব্যাপক সম্মুখ যুদ্ধ বা সংঘর্ষ চলছে। মার্কিন নৌবাহিনী এখন পর্যন্ত ইরানের উপকূলীয় অন্তত সাতটি পয়েন্টে আঘাত হানতে সক্ষম হয়েছে বলে জানা গেছে।
ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) এই সংঘাতের পেছনে ওয়াশিংটনকে দায়ী করেছে। তাদের দাবি, গত এপ্রিল মাসে স্বাক্ষরিত যুদ্ধবিরতি চুক্তিটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বারবার লঙ্ঘন করেছে। এর জের ধরেই পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আইআরজিসি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, এই গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক জলপথটি বন্ধ থাকার কারণে তেলবাহী ট্যাংকার ও বাণিজ্যিক জাহাজসহ সব ধরনের বৈশ্বিক নৌ-চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে। একইসঙ্গে তারা হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে, নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে অবৈধভাবে প্রণালি অতিক্রমের চেষ্টা করায় দুটি তেলবাহী ট্যাংকারে তারা আঘাত হেনেছে এবং ভবিষ্যতে অন্য কোনো জাহাজ পার হওয়ার চেষ্টা করলে তার ওপরও কঠোর হামলা চালানো হবে।