জ্বালানি সংকট নিরসন এবং পরিবেশবান্ধব বিদ্যুৎ উৎপাদনে এক যুগান্তকারী মেগাপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার। আগামী ২০৩০ সালের মধ্যে কেবল সৌরবিদ্যুৎ (সোলার পাওয়ার) ব্যবহার করেই ১০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের বিশাল লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এই লক্ষ্য পূরণে বেসরকারি খাতের বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে ‘নবায়নযোগ্য জ্বালানি নীতিমালা-২০২৫’ এবং বিনিয়োগ সহজীকরণের একটি যুগান্তকারী প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা।
গতকাল বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়। রাতে তথ্য অধিদপ্তরে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি এসব তথ্য গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেন।
সৌরবিদ্যুতে ১০ হাজার মেগাওয়াটের রোডম্যাপ ও বেসরকারি খাতের অগ্রাধিকার
মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, ২০৩০ সালের মধ্যে ১০ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের এই বিশাল কর্মযজ্ঞে মূলত বেসরকারি খাতের উদ্যোক্তারাই নেতৃত্ব দেবেন। তবে সরকার সার্বিক সমর্থন ও প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করবে। এই প্রকল্পের জন্য সরকারের অব্যবহৃত খাসজমিগুলো ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া হবে।
এই মেগাপরিকল্পনা দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয় এরই মধ্যে একটি কমিটি গঠনের খসড়া চূড়ান্ত করেছে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই এই কমিটি পুরোদমে কাজ শুরু করবে। প্রয়োজনে নতুন আইন প্রণয়ন করে হলেও অত্যন্ত দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই প্রকল্পগুলো কার্যকর করার কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে মন্ত্রিসভায়।
আগের সরকারের আমলের সৌর প্রকল্পগুলোর অবস্থা তুলে ধরে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, “সোলার নিয়ে আগের প্রকল্পগুলো মোটেও কার্যকর ছিল না, বাস্তবে কোনো কাজই হচ্ছিল না। তাই পুরো বিষয়টি নতুন করে পর্যালোচনা করে বর্তমান নীতিমালা ও বিনিয়োগ প্রক্রিয়াকে সহজতর করা হয়েছে।”
জ্বালানি সংকট নিরসনে বহুমুখী তৎপরতা
সৌরবিদ্যুতের পাশাপাশি চলমান তীব্র জ্বালানি সংকট মোকাবিলা নিয়েও মন্ত্রিসভায় বিস্তারিত আলোচনা হয়। নাসিমুল গনি জানান, দেশের জ্বালানি সরবরাহ যেন পুরোপুরি নিরবচ্ছিন্ন ও স্বাভাবিক (স্মুথ) থাকে, সরকার সেই চেষ্টাই করছে। এর অংশ হিসেবে বিভিন্ন উৎস ও জায়গা থেকে জ্বালানি তেল সংগ্রহের সর্বোচ্চ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
ফিরল ৭ নভেম্বরের সরকারি ছুটি
বিদ্যুৎ খাতের এই মেগাপরিকল্পনা অনুমোদনের পাশাপাশি, মন্ত্রিসভার বৈঠকে দীর্ঘ ১৬ বছর পর ৭ নভেম্বরকে আবারও ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। দিবসটিকে ‘ক’ শ্রেণিভুক্ত করা হয়েছে, যার ফলে এই দিনটিতে দেশব্যাপী সাধারণ সরকারি ছুটি বলবৎ থাকবে।
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট:
১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের পর সেনাপ্রধানের দায়িত্ব পান তৎকালীন মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান। পরবর্তীতে খালেদ মোশাররফের নেতৃত্বে সংঘটিত সেনা অভ্যুত্থানে তিনি গৃহবন্দী হন। তবে ৭ নভেম্বর জাসদের সঙ্গে যুক্ত কর্নেল আবু তাহেরের নেতৃত্বে পাল্টা অভ্যুত্থানে তিনি মুক্ত হয়ে পুনরায় ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে আসেন। বিএনপি দিনটিকে বরাবরই ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ হিসেবে পালন করলেও, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে এই দিবসের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি বাতিল করে ছুটি প্রত্যাহার করা হয়েছিল।
পল্লী উন্নয়ন দিবস ঘোষণা
এসব সিদ্ধান্তের বাইরে, মন্ত্রিসভা প্রতি বছর ৬ জুলাইকে ‘পল্লী উন্নয়ন দিবস’ হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। তবে এটি ‘খ’ শ্রেণিভুক্ত দিবস হিসেবে বিবেচিত হবে, ফলে ওই দিনটিতে কোনো সরকারি ছুটি থাকবে না।