• বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ০২:৪৫ অপরাহ্ন
Headline
ঋণের পাহাড় ও শূন্য থলের আখ্যান: চরম অর্থকষ্টে কোন পথে বাংলাদেশ? ফখরুলের ‘ক্লান্তি’: স্বেচ্ছায় বিদায় নাকি ‘মাইনাস’? জাতীয় সংসদ সদস্য (এমপি) নির্বাচিত হলে যেসব সরকারি সুযোগ-সুবিধা পাওয়া যায় খাদের কিনারে অর্থনীতি: ড. ইউনূসের আমল নিয়ে বিস্তর প্রশ্ন নাহিদার ঘূর্ণিও বৃথা: ব্যাটারদের ব্যর্থতায় হারল বাংলাদেশ পেপ্যাল আসছে, জানালেন প্রধানমন্ত্রী ‘স্মার্ট কৃষি’ নিয়ে একগুচ্ছ পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার : প্রধানমন্ত্রী প্রাথমিকের শিশুদের বিনামূল্যে জুতা: সরকারের আর কী চমক থাকছে? উর্দুভাষী বাংলাদেশিদের স্থায়ী পুনর্বাসনের বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে: প্রধানমন্ত্রী বাস ভাড়া না বাড়ানোর নির্দেশ

আগামীকাল থেকে দেশজুড়ে ধর্মঘটের হুঁশিয়ারি পাম্প মালিকদের

Reporter Name / ৪১ Time View
Update : রবিবার, ১৫ মার্চ, ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সংঘাতের জেরে দেশে দেখা দেওয়া জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট এবার নতুন মোড় নিয়েছে। পর্যাপ্ত অকটেন ও ডিজেল সরবরাহের দাবিতে আগামীকাল সোমবার থেকে দেশজুড়ে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটের কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন পেট্রোলিয়াম ডিলার ও পাম্প মালিকরা। গত ৬ই মার্চ থেকে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) চালু করা রেশনিং ব্যবস্থার কারণে চরম হতাশায় ভুগছেন তারা। গত সপ্তাহেই সংবাদ সম্মেলন করে নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহের দাবি জানিয়েছিল বাংলাদেশ পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন। এবার সেই দাবি আদায় না হলে পাম্প বন্ধ রাখার মতো কঠোর পথে হাঁটার চূড়ান্ত ঘোষণা দিলেন ব্যবসায়ীরা।

বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের অর্ধেকই আসে উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে, আর সেখানেই যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় বিপিসি তেলের এই রেশনিং পদ্ধতি চালু করতে বাধ্য হয়। বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, স্থানীয় বাস ও পিকআপ দৈনিক ৭০-৮০ লিটার এবং দূরপাল্লার বাস, ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যান ২০০-২২০ লিটার ডিজেল পাচ্ছে। অন্যদিকে জিপ বা এসইউভির জন্য বরাদ্দ ২০-২৫ লিটার এবং প্রাইভেটকারের জন্য মাত্র ২ লিটার অকটেন ও ১০ লিটার পেট্রোল নির্ধারণ করা হয়েছে। সাধারণ মোটরসাইকেল চালকরা দিনে ২ লিটার পেলেও, রাইড শেয়ারিংয়ের ক্ষেত্রে তা ৫ লিটার করা হয়েছে। তবে এই অতি সীমিত সরবরাহ পাম্পগুলোর স্বাভাবিক ব্যবসায়িক কার্যক্রমকে চরম অনিশ্চয়তার মুখে ফেলে দিয়েছে।

কেন্দ্রীয় এই ধর্মঘটের প্রতি এরই মধ্যে জোরালো সমর্থন জানিয়েছে রাজশাহী ও খুলনার আঞ্চলিক পাম্প মালিক সমিতিগুলো। রাজশাহী জেলা সমিতির সভাপতি মনিমূল হক জানিয়েছেন, তাদের অনেক পাম্প চাহিদার অর্ধেক তেল পাচ্ছে, আবার কোনোটি একেবারেই পাচ্ছে না। ফলে বিকেল গড়াতেই পাম্পগুলো জ্বালানিশূন্য হয়ে পড়ছে। সীমিত এই সরবরাহের কারণে ডিপো থেকে তেল পরিবহন আর্থিকভাবে একেবারেই অলাভজনক হয়ে দাঁড়িয়েছে। আসন্ন ঈদের ঘরমুখো মানুষের যাতায়াতের চাপের কথা মাথায় রেখে দ্রুত এই সংকট সমাধানের তাগিদ দিয়েছেন তিনি। অন্যথায় সোমবার থেকে ডিপো থেকে তেল উত্তোলন সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়ার আল্টিমেটাম দিয়েছেন সেখানকার পাম্প মালিকরা।

দেশের অন্যান্য প্রান্তেও এই সংকটের মারাত্মক প্রভাব পড়েছে। চট্টগ্রামের ফিলিং স্টেশনগুলোতে গাড়ির দীর্ঘ সারি দেখা যাচ্ছে এবং অনেক গ্রাহককে বাধ্য হয়ে খালি হাতে ফিরতে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম বিভাগের অ্যাসোসিয়েশন নেতা মঈন উদ্দিন। পরিস্থিতি না বদলালে কর্মীদের বেতন ও ঈদের উৎসব ভাতা দেওয়া কঠিন হয়ে পড়বে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন সংগঠনটির আহ্বায়ক সৈয়দ সাজ্জাদুল করিম। অন্যদিকে সিলেটে ডিজেলের বড় সংকট না থাকলেও মোটরসাইকেল চালকদের জন্য দৈনিক মাত্র ৩০০ টাকার পেট্রোল বা অকটেন বেঁধে দেওয়া হয়েছে। উদ্ভূত এই জটিল পরিস্থিতিতে আজই রেশনিং ব্যবস্থার বিষয়ে নতুন সিদ্ধান্তের কথা জানাবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।

খবরের মূল ফোকাস সংক্ষিপ্ত ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
ধর্মঘটের আল্টিমেটাম অকটেন ও ডিজেলের পর্যাপ্ত সরবরাহের দাবিতে আগামীকাল থেকে দেশজুড়ে ধর্মঘটে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন পাম্প মালিকরা।
সংকটের মূল কারণ মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের জেরে গত ৬ই মার্চ থেকে দেশে জ্বালানি তেলের রেশনিং ব্যবস্থা চালু করেছে বিপিসি।
আঞ্চলিক প্রভাব রাজশাহী, খুলনা ও চট্টগ্রামে তীব্র সংকট। ডিপো থেকে তেল উত্তোলন বন্ধের ঘোষণা রাজশাহীতে। সংকটে ঈদের বোনাস দেওয়া নিয়ে শঙ্কা।
সরকারি পদক্ষেপ জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী জানিয়েছেন, এই রেশনিং ব্যবস্থার বিষয়ে আজই নতুন করে সিদ্ধান্ত জানানো হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category