মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ এখন চূড়ান্ত উত্তেজনায়। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, তাদের চলমান সামরিক অভিযান ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’-র অধীনে ইরানে এ পর্যন্ত প্রায় ৬ হাজার লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়েছে। অন্যদিকে, ইরাকের আকাশে যুক্তরাষ্ট্রের একটি জ্বালানি সরবরাহকারী বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে, যা ইরান সমর্থিত গোষ্ঠীগুলো ভূপাতিত করার দাবি করেছে।
সেন্টকমের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মার্কিন হামলায় ইরানের ব্যাপক সামরিক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে:
নৌবাহিনী: প্রায় ৬০টি জাহাজ এবং ৩০টি মাইন স্থাপনকারী নৌযান ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
কৌশলগত স্থাপনা: কমান্ড সেন্টার, অস্ত্র উৎপাদন কেন্দ্র, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি এবং সাবমেরিন লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে।
আকাশ প্রতিরক্ষা: ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অকেজো করতে রাজধানী তেহরানসহ আরাক ও কারাজ অঞ্চলে তীব্র বিমান হামলা চলেছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, ভোর ৫টা পর্যন্ত চলা এই বিস্ফোরণের কম্পন মাইলের পর মাইল দূর থেকেও অনুভূত হয়েছে।
হোয়াইট হাউসে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, “ইরানে যুদ্ধ খুব দ্রুত এগোচ্ছে এবং খুব ভালোভাবে চলছে।” তিনি ইরানকে “সন্ত্রাস ও ঘৃণার জাতি” হিসেবে অভিহিত করে হুঁশিয়ারি দেন যে, ইরানকে এখন বড় মাশুল দিতে হচ্ছে। যদিও এই অভিযানকে তিনি ‘স্বল্পমেয়াদী’ বলছেন, তবে এর শেষ কবে হবে তা স্পষ্ট করেননি।
যুদ্ধের ডামাডোলের মধ্যেই ইরাকের পশ্চিমাঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের একটি কেসি-১৩৫ (KC-135) জ্বালানি সরবরাহকারী বিমান বিধ্বস্ত হয়েছে। সেন্টকম যান্ত্রিক ত্রুটির ইঙ্গিত দিলেও, ইরান সমর্থিত ইরাকি সশস্ত্র গোষ্ঠী ‘ইসলামিক রেজিস্ট্যান্স’ দাবি করেছে যে তারা ইরাকের সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য বিমানটি ভূপাতিত করেছে।
একই দিনে উত্তর ইরাকের ইরবিলে ড্রোন হামলায় এক ফরাসি সেনা নিহত হওয়ার খবর নিশ্চিত করেছেন প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ। আরনো ফ্রিওঁ নামে ওই ওয়ারেন্ট অফিসার ইরান যুদ্ধ শুরুর পর নিহত প্রথম ফরাসি সৈনিক। এছাড়া ওই ঘাঁটিতে বেশ কয়েকজন মার্কিন সেনাও আহত হয়েছেন।
ইরানের দক্ষিণ অংশে এবং গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের অব্যাহত বিমান হামলা মধ্যপ্রাচ্যকে এক দীর্ঘস্থায়ী ও বিধ্বংসী যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অবস্থান এবং মিত্রদের ওপর পাল্টা হামলা বিশ্ব অর্থনীতির জন্য এক গভীর সংকটের সংকেত দিচ্ছে।