যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় দীর্ঘ পাঁচ দফা আলোচনার পর শুক্রবার (২৬ জুন) ওয়াশিংটনে ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে একটি কাঠামোগত সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর উপস্থিতিতে হওয়া এই চুক্তির মূল লক্ষ্য হলো লেবাননের সার্বভৌমত্ব পুনরুদ্ধার এবং হিজবুল্লাহর সামরিক অবকাঠামো ভেঙে ফেলা। চুক্তি অনুযায়ী, ইসরায়েলি বাহিনী পর্যায়ক্রমে দক্ষিণ লেবাননের নির্ধারিত এলাকা থেকে সরে যাবে এবং সেখানে লেবাননের সেনাবাহিনী নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করবে। এই প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণে যুক্তরাষ্ট্র একটি ‘মিলিটারি কোঅর্ডিনেশন গ্রুপ’ গঠন করবে এবং ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার জন্য ১৩০ মিলিয়ন ডলার সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
তবে এই চুক্তি নিয়ে দেখা দিয়েছে তীব্র বিতর্ক। চুক্তিতে সরাসরি অংশ না নিলেও লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ এটি প্রত্যাখ্যান করেছে। হিজবুল্লাহ মহাসচিব নাইম কাশেম বলেছেন, কোনো শর্ত ছাড়াই ইসরায়েলকে লেবাননের ভূখণ্ড ছাড়তে হবে এবং এ ধরনের কোনো চুক্তিতে স্বাক্ষর করার অধিকার কারও নেই। এদিকে, ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে, হিজবুল্লাহর নিরস্ত্রীকরণ না হওয়া পর্যন্ত দক্ষিণ লেবাননের নিরাপত্তা অঞ্চলে ইসরায়েলি বাহিনী অবস্থান বজায় রাখবে। পর্যবেক্ষকদের মতে, লেবাননের সেনাবাহিনীর সীমিত সক্ষমতা এবং হিজবুল্লাহর বিরোধিতার কারণে এই চুক্তি বাস্তবায়ন করা অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং হবে। উল্লেখ্য, মার্চ মাস থেকে শুরু হওয়া সংঘর্ষে এ পর্যন্ত প্রায় ৪,২৩০ জন নিহত ও ১২ হাজারেরও বেশি মানুষ আহত হয়েছেন।