দেশের বিমানবন্দরে দীর্ঘদিনের কার্গো হ্যান্ডলিং সংকট নিরসনে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো দ্রুত নির্মাণের তাগিদ দিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি বলেছেন, দীর্ঘ প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় আটকে না থেকে জরুরি ভিত্তিতে অস্থায়ী ও স্থায়ী ওয়্যারহাউজ নির্মাণের কাজ এগিয়ে নিতে হবে, যাতে রপ্তানি-আমদানি কার্যক্রমে গতি আসে এবং ব্যবসায়ীদের ভোগান্তি কমে।
সোমবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে বাংলাদেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণের লক্ষ্যে বিমানবন্দরের কার্গো হ্যান্ডলিং সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং ওয়্যারহাউজ নির্মাণের অগ্রগতি পর্যালোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন বাণিজ্যমন্ত্রী।
খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, বিমানবন্দরের অবকাঠামো নির্মাণ ও ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের। কাস্টমসের দায়িত্ব হলো আমদানি-রপ্তানি পণ্যের বৈধতা, প্রয়োজনীয় ঘোষণা, কাগজপত্র যাচাই এবং শুল্ক-সংক্রান্ত কার্যক্রম পরিচালনা করা। ওয়্যারহাউজ নির্মাণ বা অবকাঠামো ব্যবস্থাপনা কাস্টমসের মূল দায়িত্ব নয়।
তিনি বলেন, প্রয়োজনীয় অবকাঠামো তৈরি করে দেওয়া হলে কাস্টমস সেখানে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করবে। তাই কার্গো হ্যান্ডলিংয়ের সক্ষমতা বাড়াতে অবকাঠামোগত সমস্যার দ্রুত সমাধান জরুরি।
বাণিজ্যমন্ত্রী আরও বলেন, বিষয়টি সরাসরি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের আওতাভুক্ত না হলেও দেশের সামগ্রিক বাণিজ্য ও রপ্তানি কার্যক্রমের সঙ্গে এটি নিবিড়ভাবে সম্পর্কিত। বিশেষ করে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা ধরে রাখতে আধুনিক কার্গো ব্যবস্থাপনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সমস্যা সমাধানে আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয় জোরদারের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, প্রয়োজন হলে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের একজন প্রতিনিধিকে যুক্ত করে একটি সমন্বয় কাঠামোর মাধ্যমে কার্যক্রম পরিচালনা করা যেতে পারে। এতে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার মধ্যে সমন্বয় বাড়বে এবং সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের গতি ত্বরান্বিত হবে।
অস্থায়ী ওয়্যারহাউজের জন্য দ্রুত জায়গা নির্ধারণ এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ভাড়া বা অন্য কোনো উপায়ে জায়গা নিতে হলে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে হবে। মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত যত দ্রুত সম্ভব প্রয়োজনীয় সুবিধা চালু করা।
সভায় বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম বলেন, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সকে আরও নিরাপদ, আধুনিক ও কার্যকর প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরে সরকার কাজ করছে। দীর্ঘদিনের কারিগরি ও অবকাঠামোগত সমস্যার দ্রুত সমাধান এখন অগ্রাধিকার। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত রেখে প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সহজ করার মাধ্যমে দ্রুত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
সভায় বিমানবন্দরের কার্গো হ্যান্ডলিং সক্ষমতা বৃদ্ধি, পণ্য খালাসের সময় কমানো এবং ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রতিবন্ধকতা দূর করার লক্ষ্যে বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা হয়। এ সময় বিমানবন্দরের নিকটবর্তী এলাকায় অস্থায়ী ওয়্যারহাউজ নির্মাণের জন্য সাতটি সম্ভাব্য স্থান এবং স্থায়ী ওয়্যারহাউজ নির্মাণের জন্য চারটি সম্ভাব্য স্থান নিয়ে বিস্তারিত পর্যালোচনা করা হয়।
সভায় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আতাউর রহমান, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব ফাহমিদা আখতার, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক, বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর), বাংলাদেশ ব্যাংক এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।