• মঙ্গলবার, ০২ জুন ২০২৬, ১১:৫৭ অপরাহ্ন
Headline
সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ, এবার রামিসা হত্যা মামলার চূড়ান্ত যুক্তিতর্কে পালা সারাদেশে মৃদু তাপপ্রবাহ, কিছু অঞ্চলে বৃষ্টির পূর্বাভাস বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক এক নতুন মাইলফলকে: স্পিকার এলপিজি ও অটোগ্যাসের দাম কমলো বাবা-মায়ের কবরের পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত তোফায়েল আহমেদ রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে নরওয়ের জোরালো ভূমিকা চান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব বাড়াতে ঢাকা ও বার্নের নতুন কূটনৈতিক উদ্যোগ ২৩ ঘরোয়া ও ৪৭ আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট নিয়ে বাফুফের মেগা বর্ষপঞ্জি প্রকাশ পরীক্ষায় ভালো করার সিক্রেট: একজন সেরা ছাত্রের পরামর্শ গোহত্যা করলে মুসলিমদের চরম পরিণতি ভোগ করার হুমকি উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রীর

কিচেন ক্যাবিনেট’ বিতর্কে অন্তর্বর্তী সরকার!-রিন্টু আনোয়ার

রিন্টু আনোয়ার / ৯ Time View
Update : মঙ্গলবার, ২ জুন, ২০২৬

রাজনীতি ও রাষ্ট্রবিজ্ঞানের পরিভাষায় ‘কিচেন কেবিনেট’ বলতে সরকারপ্রধান বা রাষ্ট্রপ্রধানের ঘনিষ্ঠ ও আস্থাভাজন অনানুষ্ঠানিক উপদেষ্টাদের একটি ছোট বলয়কে বোঝায়।  সাংবিধানিক বা আনুষ্ঠানিক মন্ত্রিসভার বাইরে থাকা এ গোষ্ঠীটি আড়াল থেকেই গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় ও নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণে প্রভাব বিস্তার করে থাকে। সাধারণত এ ধরনের বলয়ে সরকারপ্রধানের পরিবারের সদস্য, ঘনিষ্ঠ বন্ধু, রাজনৈতিকভাবে বিশ্বস্ত ব্যক্তি কিংবা নির্দিষ্ট ক্ষেত্রের প্রভাবশালী বিশেষজ্ঞরা অন্তর্ভুক্ত থাকেন, যাদের জনগণের কাছে সরাসরি জবাবদিহির বাধ্যবাধকতা থাকে না।
শব্দটির উৎপত্তি ঊনবিংশ শতাব্দীতে যুক্তরাষ্ট্রে। ১৮৩০-এর দশকে সপ্তম মার্কিন প্রেসিডেন্ট অ্যান্ড্রু জ্যাকসন তার আনুষ্ঠানিক মন্ত্রিসভার চেয়ে ব্যক্তিগত কিছু বন্ধু ও সাংবাদিকদের পরামর্শকে বেশি গুরুত্ব দিতেন।  সমালোচকেরা ব্যঙ্গ করে বলতেন, এই ব্যক্তিরা হোয়াইট হাউসের মূল দরজা ব্যবহার না করে পেছনের দরজা বা রান্নাঘরের পথ দিয়ে যাতায়াত করেন।  সেই থেকেই রাজনীতিতে এই ছায়া নীতিনির্ধারক গোষ্ঠীকে বোঝাতে ‘কিচেন ক্যাবিনেট’ শব্দটির ব্যবহার শুরু হয়।
ছাত্র-জনতার এক অভূতপূর্ব ও রক্তক্ষয়ী গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে গত বছর দীর্ঘমেয়াদি শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর যখন ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দেশ পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করেছিল, তখন গোটা দেশবাসীর প্রত্যাশা ছিল একেবারে আকাশচুম্বী। সাধারণ মানুষের দৃঢ় আশা ছিল, গণমানুষের ম্যান্ডেট নিয়ে আসা এই সরকার দেশে দ্রুত রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনবে এবং প্রশাসনের প্রতিটি স্তরে স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করে একটি সুস্থ ধারার গণতান্ত্রিক পরিবেশের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবে। কিন্তু দায়িত্ব গ্রহণের কয়েক মাসের মধ্যেই সেই আকাশসম প্রত্যাশার বেলুনে যেন ধীরে ধীরে ফুটো হতে শুরু করেছে। অন্তর্বর্তী সরকারের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া এবং প্রশাসনিক কাঠামোর ভেতরে ক্ষমতার চর্চা নিয়ে খোদ সরকারের ভেতরেই তৈরি হয়েছে এক তীব্র অসন্তোষ ও সমন্বয়হীনতা। বিশেষ করে সরকারের আড়ালে ‘কিচেন ক্যাবিনেট’ বা একটি অদৃশ্য ক্ষমতা বলয়ের অস্তিত্ব নিয়ে খোদ কয়েকজন উপদেষ্টারা এখন জনসমক্ষে প্রকাশ্যে বোমা ফাটাচ্ছেন, যা দেশের রাজনৈতিক ও সুশীল অঙ্গনে জন্ম দিয়েছে এক নতুন ও উদ্বেগজনক বিতর্কের।
অন্তর্বর্তী সরকারের ভেতরে যে আনুষ্ঠানিক কাঠামোর বাইরে অন্য কোথাও থেকে সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে, সে বিষয়ে প্রথম বোমাটি ফাটিয়েছিলেন ঐ সরকারেরই সাবেক নৌ উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন। গত ফেব্রুয়ারিতে তিনি গণমাধ্যমকে অত্যন্ত স্পষ্টভাবেই জানিয়েছিলেন যে, সরকারের অধিকাংশ বড়, নীতিগত ও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলো মূলত উপদেষ্টা পরিষদের আনুষ্ঠানিক বৈঠকের বাইরেই নেওয়া হতো। তার সেই অভিযোগের রেশ কাটতে না কাটতেই সম্প্রতি ‘কিচেন ক্যাবিনেট’ নিয়ে একেবারে হাঁড়ির খবর ফাঁস করেছেন ঐ সরকারের খোদ সাবেক পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন। সম্প্রতি একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলে দেওয়া এক এক্সক্লুসিভ সাক্ষাৎকারে তিনি বিস্ফোরক দাবি করে বলেন,বিগত অন্তর্বর্তী সরকার পরিচালনায় নীতিগত ও কৌশলগত বড় সিদ্ধান্তগুলো সুনির্দিষ্ট একটি ‘সাত সদস্যের অনানুষ্ঠানিক প্রভাবশালী চক্র’ বা কিচেন কেবিনেটের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত হতো। তার অভিযোগ, এই প্রভাবশালী গোষ্ঠীটি প্রতি মঙ্গলবার প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনায় নিয়মিত গোপন বৈঠকে বসত এবং প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ এজেন্ডা ঠিক করত। শুধু তাই নয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মতো রাষ্ট্রের অত্যন্ত সংবেদনশীল ও গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় এই ক্যাবিনেটের একাধিক উপদেষ্টার অযাচিত হস্তক্ষেপ ও অতিরিক্ত প্রভাব খাটানোর কারণে তিনি এক পর্যায়ে রীতিমতো অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছিলেন। পরিস্থিতি এতটাই বেগতিক ও দমবন্ধ করা ছিল যে, তিনি প্রশাসনিক কাজে বিরক্ত হয়ে তিনবার পদত্যাগের সিদ্ধান্তও নিয়েছিলেন, যদিও সরকারপ্রধান তার সেই পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেননি।
তৌহিদ হোসেনের পাশাপাশি সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদও অন্তর্বর্তী সরকারে একটি ‘কিচেন কেবিনেট’ সক্রিয় থাকার কথা স্বীকার করেছেন। তবে নিজে ওই ‘কিচেন কেবিনেটের’ সদস্য ছিলেন না বলে দাবি করেছেন তিনি। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তির বিষয়ে নিজের সংশ্লিষ্টতাও অস্বীকার করেন আসিফ। তিনি এ জন্য তৎকালীন নিরাপত্তা উপদেষ্টা ও বর্তমান পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানকে দায়ী করেন।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কিচেন কেবিনেট নিয়ে কতিপয় সাবেক উপদেষ্টার এই রকম মন্তব্য শুনে মনে হচ্ছে, ‘ঠাকুর ঘরে কেরে আমি কলা খাই না’র মতো। কয়দিন পর হয়তো সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসও কিচেন কেবিনেট বিষয়ে বলবেন তিনি কিছুই জানেন না!
নাকি তারা একে অপরে দায়মুক্তি নিতে চান।
তাদের এই ধরনের বিস্ফোরক বক্তব্যের পর রাজনৈতিক অঙ্গন থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের মধ্যেও বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা ও কৌতূহল তৈরি হয়েছে। মূলত রাষ্ট্রের নীতিনির্ধারণে একটি অঘোষিত প্রভাবশালী গোষ্ঠীর আধিপত্যের অভিযোগ ঘিরেই বিতর্কের সূত্রপাত হয়েছে।
এখন সবচেয়ে বড় কৌতূহলের বিষয় হলো, এই অদৃশ্য বলয়ের নেপথ্য কারিগর আসলে কারা? যদিও সরকারিভাবে কখনোই এমন কোনো ক্যাবিনেট বা গোষ্ঠীর অস্তিত্ব স্বীকার করা হয়নি, ফলে এর সদস্যদের কোনো সুনির্দিষ্ট বা আনুষ্ঠানিক তালিকাও কোথাও লিপিবদ্ধ নেই। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষক, গণমাধ্যমের গভীর অনুসন্ধান এবং ক্ষুব্ধ উপদেষ্টাদের দেওয়া বিভিন্ন তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায়, এই বলয়টি মূলত তৈরি হয়েছিল উপদেষ্টা পরিষদের কয়েকজন অতি-প্রভাবশালী সদস্য, সরকারের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ কয়েকজন শীর্ষ আমলা এবং নিরাপত্তা কাঠামোর শীর্ষ পর্যায়ের কয়েকজন নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে নিয়ে। যাদের বিরুদ্ধে ক্ষমতার এই অপব্যবহারের অভিযোগ, তারা অবশ্য প্রকাশ্যে এই পুরো বিষয়টিকে অতিরঞ্জিত এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত একটি মিথ্যা প্রচারণা বলে উড়িয়ে দিচ্ছেন। তাদের আত্মপক্ষ সমর্থনের যুক্তি হলো, যেকোনো সংকটকালীন বা ট্রানজিশনাল পরিস্থিতিতে দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণের স্বার্থে সরকারপ্রধানকে কিছু নির্দিষ্ট, দক্ষ ও বিশ্বস্ত মানুষের ওপর তুলনামূলক বেশি নির্ভর করতে হয়। এটিকে অবৈধ বা অসাংবিধানিক ক্ষমতা বলয় বলাটা নেহায়েতই অযৌক্তিক।
জনমনে এখন সবচেয়ে বড় ও প্রাসঙ্গিক যে প্রশ্নটি ঘুরপাক খাচ্ছে তা হলো—যে উপদেষ্টারা এখন এসব বলছেন, যখন সগৌরবে তারা স্বপদে বহাল ছিলেন, তখন কেন এই স্বেচ্ছাচারী ছায়া বলয়ের বিরুদ্ধে টুঁ শব্দটিও করেননি? এতদিন পর কেন তারা হঠাৎ করে নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করতে সরব হয়ে উঠলেন? রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকদের মতে, এই হঠাৎ মুখ খোলার পেছনে একটি বড় অনুঘটক হিসেবে কাজ করেছে আমেরিকার সঙ্গে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক একটি বিতর্কিত বাণিজ্য চুক্তি বিষয় জানাজানি হওয়ার পর। এই ভূ-রাজনৈতিক চুক্তিটি সামনে আসতেই অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ভেতরের অভ্যন্তরীণ কোন্দল, স্বার্থের সংঘাত ও আদর্শিক দ্বন্দ্ব একেবারে প্রকাশ্যে চলে আসে। রাজনীতিতে ক্ষমতার কেন্দ্র নিয়ে অসন্তোষ সাধারণত তখনই প্রকাশ্যে আসে, যখন অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব তীব্র আকার ধারণ করে বা রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশ ও মেরুকরণ বদলাতে শুরু করে।
বিশ্লেষকদের মতে, এতদিন পর এই হাঁড়ি ভাঙার পেছনে মূলত তিনটি প্রধান কারণ কাজ করছে। প্রথমত, সরকারের ভেতরে দীর্ঘদিনের চাপা ক্ষোভ, প্রশাসনিক সমন্বয়ের অভাব এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়ে উপদেষ্টাদের মধ্যে মতবিরোধ চরমে পৌঁছানোর কারণেই এখন বিষয়গুলো বিস্ফোরণের মতো প্রকাশ্যে চলে আসছে। দ্বিতীয়ত, এটি মূলত দায় এড়ানোর একটি সুকৌশল। অন্তর্বর্তী সরকারের অনেক সিদ্ধান্তই হয়তো সাধারণ মানুষের কাছে জনপ্রিয় হয়নি বা তীব্রভাবে সমালোচিত হয়েছে। সেই ব্যর্থতার বিশাল দায়ভার পুরো উপদেষ্টা পরিষদের কাঁধ থেকে ঝেড়ে ফেলে ব্যক্তিগত রাজনৈতিক অবস্থান পরিষ্কার করতেই কিছু কিছু উপদেষ্টারা এখন দেশবাসীকে বোঝাতে চাইছেন যে, ওই বিতর্কিত সিদ্ধান্তগুলো তাদের ছিল না, বরং তা বিশেষ একটি গোষ্ঠীর চাপিয়ে দেওয়া সিদ্ধান্ত ছিল। তৃতীয়ত, অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদ শেষে ভবিষ্যতের রাজনৈতিক ময়দানে নিজেদের অবস্থান ও ভাবমূর্তি সুরক্ষিত রাখতে এবং যেকোনো সম্ভাব্য আইনি বা রাজনৈতিক বিতর্কের হাত থেকে নিজেদের বাঁচাতে উপদেষ্টারা এখন নিজেদের বক্তব্য আগেভাগেই জনসমক্ষে নথিভুক্ত করে রাখছেন।
বাংলাদেশের দীর্ঘ রাজনৈতিক ইতিহাসে ছায়া সরকার বা অদৃশ্য ক্ষমতা কেন্দ্রের অভিযোগ একেবারে নতুন কোনো বিষয় নয়। সামরিক ও বেসামরিক প্রায় প্রতিটি সরকারের আমলেই এমন অভিযোগ বহুবার উঠেছে। তবে বর্তমান বিতর্কের সবচেয়ে বড় বিশেষত্ব হলো, এই অন্তর্বর্তী সরকারের মূল ভিত্তিই ছিল নির্দলীয় নিরপেক্ষতা, চরম স্বচ্ছতা এবং জুলাই বিপ্লবের ছাত্র-জনতার আশা-আকাঙ্ক্ষা। সেখানে যদি জবাবদিহিহীন কোনো অনানুষ্ঠানিক ক্ষমতা বলয় তৈরি হয়ে থাকে, তবে তা বুকের রক্ত দেওয়া সাধারণ মানুষের প্রতি এক ধরনের চরম প্রবঞ্চনা ছাড়া আর কিছুই নয়। একটি আদর্শ গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থায় রাষ্ট্রের সিদ্ধান্ত যেখান থেকেই আসুক না কেন, তার স্বচ্ছতা ও জনগণের কাছে জবাবদিহি নিশ্চিত করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। চলমান এই ‘কিচেন ক্যাবিনেট’ বিতর্ক আজ দেশের আপামর মানুষকে আবারো সেই চিরন্তন ও পুরনো প্রশ্নটির মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছে—রাষ্ট্রের প্রকৃত ক্ষমতা আসলে কোথায় এবং কার হাতে কেন্দ্রীভূত?
একসময় মানুষ বিশ্বাস করত—রাষ্ট্র পরিচালিত হয় সংবিধানের আলোকে, প্রাতিষ্ঠানিক নীতির ভিত্তিতে এবং জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতার মাধ্যমে। পরে বলা হলো, রাষ্ট্র পরিচালিত হয় মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্তে। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এমন এক বাস্তবতা উন্মোচিত হয়েছে, যেখানে সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন জেগেছে—রাষ্ট্র কি আদৌ আনুষ্ঠানিক কাঠামোয় চলছিল, নাকি এক অদৃশ্য ‘কিচেন কেবিনেট’-এর মাধ্যমে?
লেখক: সাংবাদিক ও কলামিস্ট


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category