পোষা প্রাণী বলতেই সাধারণত আমাদের চোখের সামনে ভেসে ওঠে কুকুর বা বিড়ালের ছবি। যুগ যুগ ধরে এই দুটি প্রাণী মানুষের সবচেয়ে কাছের বন্ধু হলেও, বর্তমানে আমাদের দেশের শৌখিন মানুষদের পছন্দের তালিকায় বেশ পরিবর্তন এসেছে। অনেকেই এখন বাড়িতে ভিন্ন ধারার সব সুন্দর প্রাণী পুষছেন, যেগুলো বুদ্ধিতে কুকুর-বিড়ালের চেয়ে কোনো অংশে কম নয়।
তবে মনে রাখা জরুরি, বাংলাদেশের বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী দেশি বন্যপ্রাণী বা পাখি পোষা দণ্ডনীয় অপরাধ। তাই আইন মেনে এবং আমাদের দেশের আবহাওয়ার সাথে মানিয়ে নিতে পারে—এমন ১৫টি জনপ্রিয় পোষা প্রাণীর তালিকা নিচে দেওয়া হলো:
১. বাজরিগার: পাখিপ্রেমীদের কাছে সবচেয়ে জনপ্রিয় নাম এটি। উজ্জ্বল রঙের এই ছোট বিদেশি পাখিটি বেশ বুদ্ধিমান এবং মানুষের শিস বা কথা নকল করতে ওস্তাদ।
২. খরগোশ: লম্বা কান আর নরম তুলতুলে খরগোশ যে কারও মন ভালো করে দেয়। এরা ঘাস, শাকসবজি খেয়ে বাঁচে এবং শান্ত স্বভাবের হওয়ায় ফ্ল্যাট বাড়িতেও সহজে পোষা যায়।
৩. গিনিপিগ: ছোট ও লোমশ প্রাণী পছন্দ হলে গিনিপিগ সেরা পছন্দ। এরা খরগোশের মতোই শান্ত, তবে এদের সুস্থ রাখতে খাবারে ভিটামিন সি (যেমন টক ফল) রাখা জরুরি।
৪. রঙিন মাছ: দৌড়ঝাঁপ অপছন্দ করলে ঘরের কোণে একটি অ্যাকুয়ারিয়াম রাখতে পারেন, যা মানসিক চাপ কমাতে দারুণ কাজ করে। গোল্ডফিশ, ফাইটার বা গাপ্পি মাছ বেশ জনপ্রিয়।
৫. বিদেশি কচ্ছপ (রেড ইয়ার স্লাইডার): দেশি কচ্ছপ পোষা বেআইনি হলেও, বিদেশি ‘রেড ইয়ার স্লাইডার’ কচ্ছপ শখ করে পোষা যায়। সঠিক যত্ন ও পর্যাপ্ত রোদ পেলে এরা ২৫ থেকে ৫০ বছর পর্যন্ত বাঁচতে পারে।
৬. হ্যামস্টার: ইঁদুরের মতো দেখতে এই ছোট প্রাণীটি এখন বাংলাদেশেও বেশ পরিচিত। এরা নিশাচর এবং খাঁচার ভেতর চাকা ঘুরিয়ে খেলতে খুব ভালোবাসে।
৭. বিয়ার্ডেড ড্রাগন: নাম ভয়ংকর হলেও এই বিদেশি সরীসৃপটি অত্যন্ত শান্ত। গলার নিচে দাড়ির মতো অংশের কারণে এমন নাম। এরা জ্যান্ত পোকা ও তাজা শাকসবজি খায়।
৮. ফেন্সি কবুতর: সাধারণ জালালি কবুতর ছাড়াও সিরাজি, গিরিবাজ বা লোটনের মতো বিদেশি জাতের শৌখিন কবুতর এখন অনেকের বাড়ির ছাদে শোভা পায়।
৯. লাভবার্ডস: টিয়াজাতীয় পাখির প্রতি দুর্বলতা থাকলে বিদেশি লাভবার্ড পোষা যেতে পারে। জোড়ায় জোড়ায় থাকা এই পাখিদের রঙের বৈচিত্র্য মুগ্ধ করার মতো।
১০. শৌখিন মুরগি: সিল্কি (রেশমি সুতোর মতো পালক) বা রাজকীয় চেহারার ব্রাহমার মতো বিদেশি মুরগি এখন শুধু খাওয়ার জন্য নয়, শখ করেও পোষা হচ্ছে।
১১. ককাটেল: বাজরিগারের মতোই এটি একটি দারুণ জনপ্রিয় বিদেশি পাখি। মাথার ওপর সুন্দর ঝুঁটি থাকা এই পাখিগুলো খুব সহজেই পোষ মানে এবং মানুষের সাথে বন্ধুত্ব করে ফেলে।
১২. ফিঞ্চ পাখি: খুব ছোট আকারের, চনমনে এবং রঙিন একটি বিদেশি পাখি। এরা খুব সুন্দর শব্দ করে ডাকে এবং ছোট খাঁচাতেও বেশ আনন্দে থাকতে পারে।
১৩. ইগুয়ানা: যারা সরীসৃপ পছন্দ করেন, তাদের কাছে বিদেশি ইগুয়ানা এখন নতুন আকর্ষণ। এরা সাধারণত নিরামিষভোজী হয় এবং মালিকের সাথে এরা বেশ ভালো বন্ডিং তৈরি করতে পারে।
১৪. সুগার গ্লাইডার: আকারে খুব ছোট, চোখগুলো বড় বড় এবং অত্যন্ত আদুরে একটি বিদেশি প্রাণী। এরা মালিকের পকেটে বা হাতের তালুতে ঘুরে বেড়াতে পছন্দ করে। তবে এদের যত্নের জন্য বেশ মনোযোগ প্রয়োজন।
১৫. শৌখিন হাঁস বা কোয়েল: অল্প জায়গায়, বিশেষ করে বারান্দা বা ছাদে পালনের জন্য কোয়েল পাখি দারুণ। শখের পাশাপাশি এরা ডিমের চাহিদাও মেটায়। এছাড়া অনেকেই এখন বিদেশি জাতের শৌখিন হাঁস (যেমন ম্যান্ডারিন ডাক) পালন করছেন।
শেষ কথা পোষা প্রাণী আমাদের একাকিত্ব দূর করে জীবনে আনন্দ নিয়ে আসে। তবে মনে রাখা জরুরি, সব প্রাণী খাঁচায় বন্দী থাকার জন্য জন্মায়নি। শখের বশে কোনো প্রাণী পালনের আগে সেটি আইনিভাবে অনুমোদিত কি না, তা নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন। একইসাথে, শুধু শখ মেটাতে নয়, প্রাণীগুলোর সঠিক খাবার, যত্ন এবং সুস্থ পরিবেশ নিশ্চিত করাও আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।