• রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬, ০১:৪৫ অপরাহ্ন
Headline
মন্দার কবলে ইইউর বাজার: বাংলাদেশের পোশাক আয়ে ১৬.৪% পতন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন: মির্জা ফখরুল ও অলি আহমদের মনোনয়নপত্র বৈধ অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ঐতিহাসিক টেস্ট জয় বাংলাদেশের শেখ হাসিনাকে ফেরতসহ ৩ শর্তে ভারত সফর করবেন তারেক রহমান ইসরাইলের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে আত্মরক্ষা করা লেবাননের অধিকার: ইরান যেভাবে নিজস্ব প্রযুক্তিনির্ভর সামরিক শক্তি বাড়াচ্ছে ভারত অভিনেত্রী রিধিকার মৃত্যুর ঘটনায় প্রেমিক গ্রেপ্তার ক্ষমতার বলয়ে নজরদারি: মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের কার্যক্রমে প্রধানমন্ত্রীর কঠোর বার্তা ঢাকার নতুন সমীকরণে দিল্লির কূটনৈতিক পুনর্বিন্যাস: টানাপোড়েন ছাপিয়ে বাস্তববাদী সম্পর্কের পথে দুই প্রতিবেশী দারুচিনিতে যেসব উপকার

ক্ষমতার বলয়ে নজরদারি: মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের কার্যক্রমে প্রধানমন্ত্রীর কঠোর বার্তা

Reporter Name / ২ Time View
Update : রবিবার, ১৬ আগস্ট, ২০২৬

চব্বিশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর রাষ্ট্র পরিচালনার প্রচলিত সংস্কৃতি ভেঙে নতুন ধারা তৈরির বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে বর্তমান সরকার। বিগত দেড় দশকের শাসনকালে অনিয়ম, দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি, পরিবারতন্ত্র ও প্রশাসনিক প্রভাব বিস্তারের যেসব অভিযোগ সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি করেছিল, সেগুলোর পুনরাবৃত্তি রোধ করতেই এবার শুরু থেকেই কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছেন সরকারপ্রধান তারেক রহমান। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই তিনি মন্ত্রিসভার সদস্য ও দলীয় সংসদ সদস্যদের কার্যক্রমে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে বিশেষ নজরদারি ব্যবস্থা কার্যকর করেছেন। ক্ষমতার অপব্যবহার রোধ ও অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা বজায় রাখার লক্ষ্যে একটি গোয়েন্দা সংস্থাকে সুনির্দিষ্ট দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, যা সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের উচ্চাকাঙ্ক্ষী সংস্কারের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
চালু হওয়া নতুন এই পর্যবেক্ষণ কাঠামোর আওতায় মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের দৈনন্দিন প্রশাসনিক আচরণ, তাঁদের ও তাঁদের পরিবারের সদস্যদের সম্পদ ও ব্যবসা-বাণিজ্য এবং মন্ত্রণালয়ে তাঁদের কার্যক্রম সার্বক্ষণিক মনিটরিং করা হচ্ছে। প্রতি দুই সপ্তাহ পরপর সংশ্লিষ্টদের যাবতীয় তথ্য যাচাই-বাছাই করে একটি পূর্ণাঙ্গ মূল্যায়ন প্রতিবেদন সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে পেশ করা হচ্ছে। তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে এখানে চালু করা হয়েছে দ্বৈত যাচাই বা ‘ক্রসচেক’ ব্যবস্থা। অর্থাৎ একটি সংস্থার সংগৃহীত তথ্য অন্য একটি স্বতন্ত্র সংস্থার মাধ্যমে পুনরায় মিলিয়ে দেখা হচ্ছে, যাতে কোনো ধরনের পক্ষপাতমূলক বা ভুল তথ্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত গৃহীত না হয়। প্রধানমন্ত্রীর অত্যন্ত আস্থাভাজন দুজন শীর্ষ কর্মকর্তা পুরো তদারকি প্রক্রিয়াটি সমন্বয় করছেন।
এই বিশেষ নজরদারি কাঠামোর প্রাথমিক প্রতিবেদনেই বেশ কিছু চাঞ্চল্যকর ও সতর্কতামূলক তথ্য উঠে এসেছে। গোয়েন্দা পর্যালোচনায় ইতোমধ্যে বর্তমান সরকারের দুজন মন্ত্রী, তিনজন প্রতিমন্ত্রী এবং অন্তত তেইশ জন সংসদ সদস্যের সন্দেহজনক ও প্রশ্নবিদ্ধ কর্মকাণ্ড সম্পর্কে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। ক্ষমতার অপব্যবহারের যেসব পথ অতীতে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয়েছে—যেমন উন্নয়ন প্রকল্পের টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ, কমিশন বাণিজ্য, বদলি ও নিয়োগে তদবির, চাঁদাবাজি এবং পরিবারের সদস্যদের নামে বিশেষ সুযোগ নেওয়া—সেগুলোকেই এই তদন্তের প্রধান কেন্দ্রবিন্দু করা হয়েছে।
প্রাথমিক তথ্যানুযায়ী, বিভিন্ন সুনির্দিষ্ট অনিয়মের চিত্র প্রশাসনের নজরে এসেছে। এর মধ্যে একজন নারী প্রতিমন্ত্রীর এলাকায় নির্বাচনী প্রতিপক্ষের অনুসারীদের ওপর হামলা ও সম্পত্তি বিনষ্টের ঘটনার পেছনে নিষ্ক্রিয় থাকার বিষয় রয়েছে। এছাড়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর কেন্দ্রিক ব্যবসা পাইয়ে দিতে এক মন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ জনের মধ্যস্থতা, ট্রাভেল এজেন্সির সাথে অনৈতিক যোগাযোগ, ব্যাংকের শীর্ষ নির্বাহীদের কাছে প্রভাব খাটিয়ে ফোন করা কিংবা বিশেষ উৎসবের আগে সুবিধা নেওয়ার মতো অভিযোগও তালিকায় যুক্ত হয়েছে। এমনকি সংসদ সদস্যদের ব্যক্তিগত সহকারী (এপিএস) হিসেবে দলীয় কর্মী বা পরিবারের সদস্যদের বসিয়ে সুযোগ নেওয়ার কিছু প্রবণতাও চিহ্নিত হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে সরাসরি কঠোর ব্যবস্থার আগে এ ধরনের তথ্যকে সংশোধনমূলক সতর্কবার্তা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
প্রশাসনিক কাজের গতি বাড়াতে এবং সচিবালয়ে দলীয় নেতাকর্মীদের অনিয়ন্ত্রিত ভিড় কমাতে আলাদা নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। অতীতে ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে তদবিরবাজ চক্র সচিবালয়কে ঘিরে যে সমান্তরাল নেটওয়ার্ক তৈরি করত, তা ভেঙে দিতে মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের কক্ষে দর্শনার্থীদের গতিবিধিও নজরদারির আওতায় রাখা হয়েছে। একই সাথে সরকারি কাজ ও দলীয় রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের মধ্যে স্পষ্ট সীমারেখা টানতে মন্ত্রিসভার সদস্যদের সপ্তাহে নির্দিষ্ট দুই দিন দলীয় কার্যালয়ে বসে নেতাকর্মীদের সাথে সাক্ষাতের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, যাতে প্রশাসনিক দপ্তরের স্বাভাবিক শৃঙ্খলা অক্ষুণ্ণ থাকে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ক্ষমতা আর দায়মুক্তির সংস্কৃতিকে আলাদা করাই এই উদ্যোগের মূল বার্তা। অতীতে দলীয় পরিচয়কে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে অপরাধের সুবিধা নেওয়ার যে নজির ছিল, সেখান থেকে বেরিয়ে এসে ক্ষমতাসীনদের ওপরই প্রথম এই জবাবদিহিতা প্রয়োগ করা হচ্ছে। তবে কেবল প্রাথমিক প্রতিবেদন তৈরি বা সতর্কবার্তা প্রদানই যথেষ্ট নয়; ক্ষমতার অপব্যবহার স্থায়ীভাবে বন্ধ করতে এই নজরদারি কতটা দীর্ঘস্থায়ী হয় এবং চিহ্নিত অভিযোগের ক্ষেত্রে নিরপেক্ষ আইনি বা প্রশাসনিক ব্যবস্থা কতটা কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হয়, তার ওপরই সরকারের ভবিষ্যৎ বিশ্বাসযোগ্যতা বহুলাংশে নির্ভর করছে।
তথ্যসূত্র: দ্যা প্রেস


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category