পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (পাবিপ্রবি) নবনিযুক্ত সপ্তম উপাচার্য হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগদান করেছেন অধ্যাপক ড. আবুল হাসনাত মোহাঃ শামীম। শনিবার (১৬ মে) সকালে তিনি ক্যাম্পাসে পৌঁছালে এক উৎসবমুখর পরিবেশে তাকে ফুল দিয়ে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. নজরুল ইসলাম এবং কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. শামীম আহসান। বিগত সরকারের পতনের পর দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে যে প্রশাসনিক শূন্যতা তৈরি হয়েছিল, তা পূরণে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সম্প্রতি বুয়েটসহ দেশের ১১টি বিশ্ববিদ্যালয়ে একযোগে নতুন উপাচার্য নিয়োগ দেয়। উচ্চশিক্ষায় গতিশীলতা ফেরানোর এই সংস্কার প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই গত ১৪ মে মহামান্য রাষ্ট্রপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর মো. সাহাবুদ্দিন চার বছরের জন্য ড. আবুল হাসনাতকে পাবিপ্রবির উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ প্রদান করেন।
যোগদানের পরপরই দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য কার্যালয়ে প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগীয় চেয়ারম্যান, হল প্রভোস্ট, রেজিস্ট্রার এবং দপ্তর প্রধানদের সঙ্গে এক বিশেষ মতবিনিময় সভায় মিলিত হন নতুন উপাচার্য। এ সময় তিনি পাবিপ্রবিকে দেশের সুশিক্ষা, গবেষণা ও সমাজসেবার অন্যতম প্রধান ‘হাব’ হিসেবে গড়ে তোলার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। তিনি জানান, চতুর্থ শিল্পবিপ্লব এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার (এসডিজি) আধুনিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন ও চাহিদাসম্পন্ন বিভাগ খোলা হবে। শিক্ষার্থীদের কেবল পুঁথিগত বিদ্যায় সীমাবদ্ধ না রেখে সামাজিক দায়বদ্ধতা এবং নৈতিক মূল্যবোধের শিক্ষায় শিক্ষিত করার ওপর জোর দেন তিনি। পাশাপাশি, একটি গবেষণাধর্মী ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির মাধ্যমে পরিবেশবান্ধব সবুজ ক্যাম্পাস গড়ার লক্ষ্যে এবং প্রশাসনে সর্বত্র স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে তিনি সবার সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেন।
বর্ণাঢ্য শিক্ষাজীবন ও দীর্ঘ গবেষণার অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ড. আবুল হাসনাত মোহাঃ শামীমের জন্ম ১৯৭৬ সালের ১৫ জুলাই চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার মনাকষায়। মনাকষা হুমায়ুন রেজা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১৯৯১ সালে এসএসসি ও ১৯৯৩ সালে রাজশাহী কলেজ থেকে এইচএসসি পাসের পর তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মৃত্তিকা বিজ্ঞান বিভাগ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর—উভয় পরীক্ষাতেই প্রথম শ্রেণিতে উত্তীর্ণ হন। পরবর্তীতে ২০১০ সালে জাপানের স্বনামধন্য ওকাইয়ামা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পরিবেশ বিজ্ঞানে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন এই প্রথিতযশা শিক্ষাবিদ। পাবিপ্রবিতে যোগ দেওয়ার আগে তিনি বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাউবি) কৃষি ও পল্লী উন্নয়ন অনুষদের মৃত্তিকা বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ ও ডিন হিসেবে সফলতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
শিক্ষাদানের পাশাপাশি একজন নিবেদিতপ্রাণ গবেষক হিসেবেও ড. শামীমের রয়েছে আন্তর্জাতিক খ্যাতি। দেশি-বিদেশি নামকরা জার্নাল ও পুস্তকে তার ৪০টিরও বেশি গবেষণামূলক প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে। বর্তমানে তিনি ভেষজ উদ্ভিদ ও মাটির স্ট্রেপটোমাইটিস প্রজাতি থেকে সম্পূর্ণ নতুন ধরনের অ্যান্টিবায়োটিক এবং কীটনাশক আবিষ্কার নিয়ে যুগান্তকারী গবেষণা করছেন। তার রচিত একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির কৃষি শিক্ষা প্রথম ও দ্বিতীয় পত্র বই দেশের বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি কলেজে ব্যাপকভাবে পড়ানো হচ্ছে। একজন সফল শিক্ষাবিদ ও গবেষকের পাশাপাশি নিজ গ্রামে পাঠাগার স্থাপন এবং জাতীয় দৈনিকগুলোতে নিয়মিত কলাম লেখার মাধ্যমে তিনি সমাজ উন্নয়নেও অনবদ্য ভূমিকা রেখে চলেছেন।