• মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০২ অপরাহ্ন
Headline
আমলাতান্ত্রিক গ্যাঁড়াকলে রাষ্ট্রায়ত্ত জাহাজ: দেশি ট্যাংকার ভাড়ায় বিদেশে, চড়া প্রদেয় মূল্যে বিদেশি জাহাজে আসছে জ্বালানি ডিউটি ফাঁকি দিয়ে প্রাইভেট ক্লিনিকে চিকিৎসকদের রমরমা বাণিজ্য হাজব্যান্ড থিংস! অনাহার ও তোষণনীতি: রাজনৈতিক কাঠামোর কাছেই জিম্মি সাধারণ মানুষ আসন্ন বৈশ্বিক খাদ্যসংকটের পদধ্বনি: ফোর-এফ সংকটের মুখে কতটা প্রস্তুত বাংলাদেশ? লোকসানের ফাঁদে আউশ: কেবল প্রণোদনা নয়, কৃষকের লাভ নিশ্চিত করা জরুরি দাঁড়িয়ে থাকার ফলে কোমর ব্যথা হলে কী করবেন? ১০১ শিক্ষককে বিশেষ সম্মাননা পদক প্রদান করলেন প্রধানমন্ত্রী প্রিজন ভ্যান খুলে দেন এসআই প্রদীপ, প্রাইভেট কারে পালান পিচ্চি রাজা শুধু মালদ্বীপ নয়, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব বঙ্গোপসাগরজুড়ে: নাশিদ

গর্ভাবস্থা ও তার পরবর্তী সময়ে কোমর ব্যথার কারণসমূহ

Reporter Name / ১৬ Time View
Update : শুক্রবার, ২ অক্টোবর, ২০২৬

প্রেগন্যান্সি পিরিয়ডকে সাধারণত তিনটি স্টেজে ভাগ করা হয়—প্রথম,
দ্বিতীয় এবং তৃতীয় ট্রাইমেস্টার। তৃতীয় ট্রাইমেস্টার অর্থাৎ শেষ থাপে
কোমর ব্যথা বেশি হয়। মূলত ৫-৭ মাসের মধ্যে ব্যথার অনুভূতি শুরু
হয়। কারণ, এ সময় কোমরের পোশ্চারাল পরিবর্তন হয় ও ওজন বৃদ্ধি
পেতে থাকে। প্রেগন্যান্সিতে কোমর ব্যথার অনেক কারণের মধ্যে অন্যতম কারণ হলো
মেক্যানিক্যাল, হরমোনাল, সার্কুলেটরি এবং মানসিক কিছু ফ্যাক্টর।
মেকানিক্যাল কারণের মধ্যে রয়েছে পেটের মধ্যে বাচ্চা বড় হওয়ার
কারণে কোমরের সেন্টার অব গ্র্যাভিটির পরিবর্তন হয়ে যাওয়া।
ফলে কোমরে বেশি চাপ পড়ে। কোমরের লোর্ডটিক কার্ভেচার বেড়ে
যায়। ফলে ইন্টারভার্টিব্রাল ডিস্কের উপর চাপ পড়ে, মাসল স্ট্রেইন হয়
এবং সর্বোপরি মেরুদণ্ডের দৈর্ঘ্য বা লেনথ কমে যায়।
এছাড়াও পেটের মাংসপেশী যেমন ট্রান্সভার্স অ্যাবডোমিনিস,
মাল্টিফিডাস, পেলভিক ফ্লোর এর অনেক স্ট্রেস পড়ে। ফলে
মাংসপেশীগুলো অল্পতেই ক্লান্তি বোধ করে। সেজন্য বডি পোশ্চার ধরে
রাখতে পারে না এবং কোমর ব্যথা হয়। সার্কুলেটরি কারণের মধ্যে রয়েছে প্রসারিত জরায়ু ড্যানাকেভার উপর
চাপ দেয়, ফলে শরীরে ফ্লুইড রিটেশন বেড়ে যায় এবং অনেক মহিলার
শরীর ফুলে যায়। এতে পেলভিক ও কোমরের মাংসপেশীতে পর্যাপ্ত
অক্সিজেন ও নিউট্রিশন পৌঁছায় না ফলে কোমর ব্যথা হয়।
 অনেক সময় মায়েদের কোমর ব্যথা দীর্ঘদিন থেকে যায়। কেননা,
অনেকে বাচ্চা প্রসবের পরপর অনেক ভারি কাজ করে। সঠিক নিয়ম
কানুন মেনে চলেন না। যেমন সামনে ঝুঁকে ভারি জিনিস বহন করে,
স্তন পান করানোর সময় সঠিক ভঙ্গিতে না থাকা ইত্যাদি কাজগুলো করার জন্য কোমর ব্যথা আরো ভায়ানক রূপ ধারণ করে। উন্নত দেশে
মায়েরা গর্ভাবস্থায় এবং বাচ্চা প্রসবের আগে প্রি ও পরে পোস্ট ন্যাটাল
ফিজিওথেরাপি চিকিৎসা নিয়ে থাকে। কিন্তু আমাদের দেশে প্রি অ্যান্ড
পোস্ট ন্যাটাল ফিজিওথেরাপি সম্বন্ধে অনেকেই অবগত নন। সেজন্য
উন্নত দেশের তুলনায় আমাদের দেশের মায়েরা কোমর ব্যথায় বেশি
ভুগে থাকেন।
চিকিৎসা:
বাচ্চা প্রসবের পর কোমর ব্যথা হলে আপনি কোমরের পেছনে নারকেল তেল
দিয়ে ঠাণ্ডা সেঁক দেবেন। এরপর চিৎ হয়ে শুয়ে একটি হাত সামনে এনে
হাতে ফুঁ দেবেন ও আরেকটি হাত পেটে রেখে বুঝতে পারবেন পেটের মাংস
শক্ত হচ্ছে ও শিথিল হচ্ছে। এরপর চিৎ হয়ে শুয়ে হাঁটু সোজা রেখে এক পা
উপরে উঠিয়ে ৫-১০ সেকেন্ড রাখুন। ঠিক একইভাবে অপর পা ওঠান। দু’পা
ভাঁজ করে বুকের দিকে নিয়ে ৫-১০ সেকেন্ড ধরে রাখুন। ধীরে ধীরে উপুড়
হয়ে শুয়ে দু’হাত পেছনে রেখে মাথা এবং কাঁধ উপরে উঠান ৫-১০ সেকেন্ড
ধরে রাখুন। এসকল ব্যায়াম দিনে দু’ থেকে তিনবার করুন। বাচ্চা প্রসবের
পর অনেক মহিলা ইউরিনারি ইনকনটিনেন্সি বা প্রস্রাব ধরে রাখতে না পারার
জটিলতায় ভুগে থাকেন। এক্ষেত্রে কেজেল ব্যায়াম খুবই গুরুত্বপূর্ণ যা ব্লাডার
কন্ট্রোলে রাখতে সাহায্য করে। সর্বোপরি গর্ভাবস্থা ও বাচ্চা প্রসবের পর
একজন বিশেষজ্ঞ ফিজিওথেরাপি চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ব্যায়াম
অনুশীলন খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
খাদ্য তালিকা:
খাদ্য তালিকায় কিছু পরিবর্তন আনতে হবে। এমন অনেক খাবার আছে
যেগুলো ব্যথা নিরাময়ে করে সেসব খাবার খাবেন। মহানবী হযরত মুহাম্মদ
(সা.) ব্যথা নিরাময়ে কিছু প্রাকৃতিক ওষুধের কথা বলেছেন, যেমন:
মধু (ব্যথার স্থানে মধুর সঙ্গে ভিনেগার মিশিয়ে মাখালে ব্যথা কমে),
খেজুর, কালো জিরা, অলিভ অয়েল, তরমুজ, চেরি ফল, কালো আঙুর,
কলা ইত্যাদি খাবার ব্যথা নিরাময় করতে সাহায্য করে। এছাড়াও লাল
আটার রুটি, লাল চালের ভাত খান ও প্রচুর পানি পান করুন।
প্রতিদিন ৩০ মিনিট গায়ে রোদ লাগান। প্রতিদিন ৪০ মিনিট হাঁটুন।
ধূমপান বর্জন করুন। ফিজিওথেরাপি পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াহীন যুগান্তকারী চিকিৎসা। ফিজিওথেরাপি
ইজ মেডিসিন ফর টুডে অ্যান্ড টুমোরো। নিয়মিত ব্যায়াম ব্যথা কমায়,
রক্তের সঞ্চালন বাড়ায়, হাড়ের ডেনসিটি বেড়ে যায় এবং জয়েন্ট রিলেটেড
বিভিন্ন সমস্যা প্রতিরোধ করে। এছাড়াও ডিপ্রেশন কমিয়ে মানসিক প্রশান্তি
এনে দেয়, যা ব্যথা কমাতে অনেক বড় ভূমিকা পালন করে। গর্ভধারণের ৬-৮ সপ্তাহ পর মায়েদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সময়। এসময়
অবশ্যই মায়ের সঠিক যত্ন নিতে হবে। নিয়মিত চেকআপের জন্য চিকিৎসকের
কাছে যেতে হবে এবং কিছু সর্তকতা পালন করতে হবে। যেমন:
 ১. বাচ্চা প্রসবের পর ৬-৮ সপ্তাহ সকল প্রকার ভারি কাজ থেকে
বিরত থাকতে হবে।
 ২. সঠিকমাত্রায় সুষম খাবার ও প্রচুর শাক-সবজি ও ফলমূল খেতে
হবে।
 ৩. প্রতিদিন পর্যাপ্ত পরিমাণ বিশ্রাম অর্থাৎ ৮-১০ ঘণ্টা ঘুমাতে হবে।
 ৪. ভ্যাজাইনার আশেপাশে যে সকল জায়গায় ব্যথা সেখানে আইস
প্যাক ব্যবহার করতে হবে এবং ভ্যাজাইনা পরিষ্কারের সময় হালকা
গরম পানি ব্যবহার করতে হবে।
 ৫. নিয়মিত ব্যায়াম করতে হবে।
 ৬. বাচ্চা প্রসবের পর মায়েদের কোষ্ঠকাঠিন্য হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে
যায়। সুতরাং, প্রচুর পানি পান করতে হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category