জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্রমবর্ধমান ব্যয়ের কারণে গ্রাহক পর্যায়ে বা খুচরা বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে দেশের বিভিন্ন বিদ্যুৎ বিতরণকারী কোম্পানি। বৃহস্পতিবার (২১ মে) রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশনে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) আয়োজিত এক গণশুনানিতে কোম্পানিগুলোর পক্ষ থেকে এই প্রস্তাবগুলো তুলে ধরা হয়। এর আগে, গত বুধবার পিডিবির প্রস্তাবিত পাইকারি বিদ্যুতের দাম নিয়েও একই স্থানে গণশুনানি অনুষ্ঠিত হয়েছিল।
শুনানিতে বিইআরসি জানায়, প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ কিনতে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) গড় খরচ পড়বে ৮ টাকা ৫৭ পয়সা এবং এর সঙ্গে বিতরণ খরচ যুক্ত হবে আরও ৯২ পয়সা। বর্তমানে খুচরা পর্যায়ে বিদ্যুতের গড় বিক্রয়মূল্য ৯ টাকা ২০ পয়সা হওয়ায় প্রতি ইউনিট বিদ্যুতে ২৯ পয়সা আর্থিক ঘাটতি থেকে যাচ্ছে। এই ঘাটতি সমন্বয়ের লক্ষ্যে পাইকারি মূল্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে খুচরা পর্যায়ে প্রতি ইউনিটে ২৯ পয়সা দাম বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে পিডিবি।
অন্যদিকে, ভবিষ্যৎ লোকসানের হাত থেকে বাঁচতে গ্রাহক পর্যায়ে দাম বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড (আরইবি)। সংস্থাটি বলছে, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে তাদের আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ ২ হাজার ৮৯৭ কোটি টাকায় দাঁড়াতে পারে। এই ক্ষতি সামাল দিতে তারা ইউনিটপ্রতি ৫০ পয়সা দাম বাড়াতে চায়। এছাড়া ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি (ডিপিডিসি) জানিয়েছে, পাইকারি দাম ও হুইলিং চার্জ অপরিবর্তিত থাকলে তাদের প্রতি ইউনিটে ১ টাকা ৬১ পয়সা মূল্য সমন্বয় করতে হবে। তবে পাইকারি পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম ৫ থেকে ২০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেলে গ্রাহক পর্যায়ে তাদের দাম ১১ দশমিক ৩৬ শতাংশ থেকে সর্বোচ্চ ২৪ দশমিক ৫৫ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর প্রয়োজন হতে পারে।
ঢাকার আরেকটি বিতরণ কোম্পানি ঢাকা ইলেকট্রিক সাপ্লাই কোম্পানি (ডেসকো) গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের খুচরা মূল্য ৮৬ পয়সা সমন্বয়ের প্রস্তাব পেশ করেছে। এর পাশাপাশি, ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি (ওজোপাডিকো) গ্রাহক পর্যায়ে ইউনিটপ্রতি ৮৫ পয়সা দাম বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে। সবশেষে, নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানি (নেসকো) খুচরা পর্যায়ে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম সবচেয়ে বেশি, অর্থাৎ ১ টাকা ৬৬ পয়সা বাড়ানোর প্রস্তাব করেছে।