আগামী ১২ মে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচন। এই নির্বাচনকে সামনে রেখে মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে উৎসবমুখর পরিবেশে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন প্রার্থীরা। এদিন বিএনপির মনোনীত প্রার্থী সুলতানা আহমেদ তাঁর মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পর এক তাৎপর্যপূর্ণ বার্তা দেন। তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে জানান, সমাজের প্রচলিত ছক ভেঙে নারীরা এখন আর কেবল ঘরের চার দেওয়ালে সীমাবদ্ধ থাকবেন না, বরং তারা সরাসরি দেশ গড়ার কাজে নেতৃত্ব দেবেন। নারী নেতৃত্বকে এগিয়ে নেওয়ার এই অঙ্গীকার মূলত জাতীয় রাজনীতিতে নারীদের ক্রমবর্ধমান অংশগ্রহণেরই একটি ইতিবাচক প্রতিফলন।
মনোনয়নপত্র জমা শেষে গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে সুলতানা আহমেদ রাজপথের ও তৃণমূলের নারী রাজনীতিকদের যথাযথ মূল্যায়নের জন্য বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি জানান, দেশ ও জাতির সার্বিক উন্নয়নের পাশাপাশি নারী ও শিশুর কল্যাণে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তারা সংসদে জোরালো ভূমিকা রাখতে চান। এ সময় তিনি বর্তমান সরকারের নেওয়া বেশ কিছু জনকল্যাণমূলক উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন। এর মধ্যে হেলথ কার্ড, কৃষক কার্ড, ফ্যামিলি কার্ড এবং বিশেষ করে নারীদের জন্য চালু করা ফ্যামিলি কার্ডের মতো সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনার প্রশংসা করেন তিনি। ‘করব কাজ, গড়ব দেশ—সবার আগে বাংলাদেশ’—এই স্লোগানকে বুকে ধারণ করে দেশকে উন্নয়নের নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে দলমত নির্বিশেষে সবাইকে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে আইনসভায় নারীর অংশগ্রহণ বৃদ্ধির বিষয়টি এখন বিশ্বজুড়েই একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সূচক হিসেবে বিবেচিত হয়। ইন্টার-পার্লামেন্টারি ইউনিয়নের (আইপিইউ) পরিসংখ্যান অনুযায়ী, নীতি নির্ধারণী পর্যায়ে নারীদের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে অনেক উন্নয়নশীল দেশই এখন যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিচ্ছে। বাংলাদেশের ত্রয়োদশ সংসদের সংরক্ষিত ৫০টি আসনের বণ্টনও সেই গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ারই একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। একাদশ বা দ্বাদশ সংসদের তুলনায় এবারের সংসদে আসন বণ্টনের রাজনৈতিক সমীকরণেও বড় পরিবর্তন এসেছে। আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব অনুযায়ী এবার সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপি জোট ৩৬টি, জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন জোট ১৩টি এবং স্বতন্ত্র জোট ১টি আসন পাচ্ছে। নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, মঙ্গলবার বিকেল ৫টায় মনোনয়নপত্র জমার সময় শেষ হয়েছে। এরপর ২২ ও ২৩ এপ্রিল যাচাই-বাছাই, ২৬ থেকে ২৮ এপ্রিল আপিল ও তা নিষ্পত্তি শেষে ২৯ এপ্রিল প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন নির্ধারণ করা হয়েছে। আগামী ৩০ এপ্রিল প্রতীক বরাদ্দের পর ১২ মে চূড়ান্ত ভোটাধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে নির্বাচিত এই নারী প্রতিনিধিরা আনুষ্ঠানিকভাবে সংসদে দেশের হয়ে কথা বলার সুযোগ পাবেন।