বর্তমান বিশ্বজুড়ে চলমান অস্থিরতা এবং জ্বালানি তেলের রেশনিংয়ের এই সময়ে প্রতিটি ফোঁটা তেলই মূল্যবান। বিশেষ করে যারা প্রতিদিন মোটরসাইকেলে যাতায়াত করেন, তাদের জন্য এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো—কীভাবে কম তেলে বেশি পথ চলা যায়। সামান্য কিছু অভ্যাস পরিবর্তন করলেই আপনি আপনার প্রিয় বাইকের মাইলেজ উল্লেখযোগ্য হারে বাড়িয়ে নিতে পারেন।
জ্বালানি সাশ্রয়ে বাইকারদের জন্য কার্যকর ৫টি টিপস নিচে তুলে ধরা হলো:
বাইকের মাইলেজ কমে যাওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ হলো টায়ারে সঠিক প্রেসার বা হাওয়া না থাকা। টায়ারে হাওয়া কম থাকলে ইঞ্জিনের ওপর বাড়তি চাপ পড়ে, ফলে বাইক বেশি জ্বালানি পোড়ায়। সপ্তাহে অন্তত একবার ম্যানুয়াল অনুযায়ী সঠিক হাওয়া চেক করুন। এতে ইঞ্জিন যেমন স্বস্তিতে থাকবে, তেমনি তেলের খরচও কমবে।
আমাদের শহরের জ্যামে অনেক সময় ৩০ সেকেন্ড থেকে ২ মিনিটের বেশি ঠায় দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। এই সময় ইঞ্জিন অলস (Idle) অবস্থায় চালু রাখা মানেই অহেতুক তেল নষ্ট করা। যদি সিগন্যালে ২০-৩০ সেকেন্ডের বেশি অপেক্ষা করতে হয়, তবে নির্দ্বিধায় ইঞ্জিন বন্ধ করে দিন। আধুনিক বাইকগুলোতে ‘সেলফ স্টার্ট’ থাকায় এতে বাড়তি কোনো ঝক্কিও নেই।
অনেকেই হুটহাট পিক-আপ বা এক্সিলারেটর বাড়িয়ে দেন, যা জ্বালানি দ্রুত খরচ করে। বাইক চালানোর সময় হুট করে গতি না বাড়িয়ে ধীরে ধীরে গতি তুলুন। সবসময় সঠিক গিয়ারে বাইক চালানোর চেষ্টা করুন—লো-গিয়ারে হাই-স্পিড বা হাই-গিয়ারে লো-স্পিড ইঞ্জিনের ওপর চাপ সৃষ্টি করে এবং প্রচুর তেল নষ্ট করে।
আপনার বাইকের এয়ার ফিল্টার এবং স্পার্ক প্লাগ নিয়মিত পরিষ্কার রাখুন। এয়ার ফিল্টার জ্যাম হয়ে গেলে ইঞ্জিন পর্যাপ্ত অক্সিজেন পায় না, ফলে দহন প্রক্রিয়া ব্যাহত হয় এবং মাইলেজ কমে যায়। এছাড়া চেইনে লুব্রিকেন্ট ব্যবহার করা এবং ব্রেক সু খুব বেশি টাইট না রাখা নিশ্চিত করুন, যাতে চাকা ফ্রিলি ঘুরতে পারে।
বাইকের ওপর যত বেশি ওজন থাকবে, ইঞ্জিনকে তত বেশি শক্তি খরচ করতে হবে। তাই বাইকের পেছনের ক্যারিয়ারে বা ডিকিতে অপ্রয়োজনীয় ভারী বস্তু বহন করবেন না। হালকা বাইক সবসময়ই ভালো মাইলেজ দেয়।
প্রো-টিপ: রাইডিংয়ের সময় ৪৫ থেকে ৫৫ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টা গতি বজায় রাখা হলো সবচেয়ে ‘ফুয়েল এফিসিয়েন্ট’ বা সাশ্রয়ী উপায়। একে সাধারণত বাইকের ইকোনমি মোড বলা হয়।