সোমবার দিবাগত রাতে রাজধানীর বারিধারা ডিওএইচএস এলাকার ২ নম্বর লেনের নিজ বাসভবন থেকে গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) হাতে গ্রেপ্তার হয়েছেন এক-এগারোর আলোচিত মুখ ও সাবেক সংসদ সদস্য অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী। ডিবিপ্রধান শফিকুল ইসলামের সরাসরি নেতৃত্বে চালানো এই অভিযানে তাকে আটক করে ডিবি কার্যালয়ে নেওয়া হয়েছে। আজ মঙ্গলবার দুপুরেই তাকে আদালতে হাজির করার কথা রয়েছে।
এই সাবেক সেনা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আইনি অভিযোগের তালিকা বেশ লম্বা। ডিবিপ্রধান জানিয়েছেন, জেনারেল মাসুদের বিরুদ্ধে বর্তমানে মোট পাঁচটি মামলা রয়েছে। পুলিশ এসব মামলার নথিপত্র নিবিড়ভাবে যাচাই-বাছাই করছে এবং এর মধ্য থেকে যেকোনো একটি মামলায় তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেপ্তার দেখানো হবে। এর পাশাপাশি, ফেনীতে দায়ের হওয়া বৈষম্যবিরোধী একটি মামলায় তার বিরুদ্ধে আগে থেকেই গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি ছিল।
সেনা জীবন শেষে কূটনীতি, ব্যবসা ও রাজনীতিতে যুক্ত হওয়া মাসুদ উদ্দিনের অতীত বেশ ঘটনাবহুল। ২০০৭ সালের সেনাসমর্থিত সরকারের আমলে গুরুতর অপরাধ দমন বিষয়ক জাতীয় সমন্বয় কমিটির সমন্বয়ক হিসেবে তিনি দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনায় আসেন। এরপর ২০০৮ সালের নির্বাচনের পর তাকে অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশের হাইকমিশনার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয় এবং বেশ কয়েকবার তার মেয়াদ বাড়ানো হয়েছিল।
সামরিক জীবনের পাট চুকিয়ে তিনি জনশক্তি রপ্তানিসহ বিভিন্ন ব্যবসায় জড়িয়ে পড়েন। পরবর্তীতে ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে ফেনী-৩ আসন থেকে তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। সেবার প্রথমে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করলেও পরে নাটকীয়ভাবে দল বদলে জাতীয় পার্টির হয়ে ভোটে দাঁড়িয়েছিলেন তিনি।