• শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ০২:২৭ অপরাহ্ন
Headline
তেলতেলে বিশ্বনীতি: আবারও কি বিদ্যুৎ যন্ত্রণায় বাংলাদেশ! এনসিপিতে যোগ দেওয়ার গুঞ্জন স্রেফ গুজব, আদর্শ বিকিয়ে জোটে যাব না: রুমিন ফারহানা কোচিং বাণিজ্য রোধ ও স্কুল সংস্কারে বহুমুখী উদ্যোগ নিয়েছে সরকার: ববি হাজ্জাজ ৪১৯ জন হজযাত্রী নিয়ে জেদ্দায় পৌঁছাল প্রথম হজ ফ্লাইট আইএমএফের ঋণ স্থগিতের গুঞ্জন ‘সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন’: বিভ্রান্তি উড়িয়ে দিল সরকার পর্যাপ্ত মজুদের পরও দেশজুড়ে জ্বালানির হাহাকার: ঢাকা ছাড়িয়ে আরও ১০ জেলায় ‘ফুয়েল পাস’ অ্যাপের বিস্তৃতি ৪ মে পর্দা উঠছে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের: থাকছে আন্তর্জাতিক মানের উইকেট ও রিজার্ভ ডে বায়ুদূষণে ২৩ নম্বরে ঢাকা হ্যারি কেইনের অনন্য কীর্তি: ৯৫ বছরের রেকর্ড ভেঙে এক মৌসুমে ৫০ গোল

ঢাকার দুই সিটি নির্বাচন: হিসাব-নিকাশ শুরু, নগরপিতা হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে কারা?

Reporter Name / ৫ Time View
Update : শনিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২৬

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে বিএনপি সরকার গঠনের পর থেকেই দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তাপ ছড়াচ্ছে স্থানীয় সরকার নির্বাচন। বিশেষ করে, রাজধানী ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি ও ডিএসসিসি) নির্বাচন নিয়ে রাজনৈতিক দল, নেতা-কর্মী ও সাধারণ ভোটারদের মাঝে হিসাব-নিকাশ শুরু হয়ে গেছে।

বর্তমানে সিটি করপোরেশনগুলোতে প্রশাসকদের মাধ্যমে কার্যক্রম পরিচালিত হলেও নাগরিক সেবা শতভাগ নিশ্চিত হচ্ছে না বলে অভিযোগ রয়েছে। তাই নগরবাসীর জোরালো দাবি—দ্রুততম সময়ের মধ্যে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের হাতে নগর পরিচালনার দায়িত্ব তুলে দেওয়া হোক। সরকারের পক্ষ থেকেও দ্রুত নির্বাচনের উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানানো হয়েছে। দিন-তারিখ চূড়ান্ত না হলেও বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী এবং ন্যাশনাল সিটিজেনস পার্টিসহ (এনসিপি) বিভিন্ন দলের সম্ভাব্য প্রার্থীরা এরই মধ্যে নিজেদের জানান দিতে শুরু করেছেন। বিভিন্ন উৎসবে পোস্টার সাঁটিয়ে এবং দলের হাইকমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়িয়ে মাঠে সক্রিয় রয়েছেন তারা।

জোট নাকি একক নির্বাচন?

জাতীয় নির্বাচনের মতো সিটি করপোরেশনগুলোতেও বিএনপি এককভাবে নাকি জোটবদ্ধ হয়ে লড়বে, তা এখনো পরিষ্কার নয়। তবে সংসদের বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপির মধ্যে একটি নির্বাচনি ঐক্যের সম্ভাবনা প্রবল হচ্ছে। রাজনৈতিক গুঞ্জন রয়েছে যে, ঢাকা দক্ষিণে এনসিপির মনোনীত প্রার্থীকে জামায়াত এবং ঢাকা উত্তরে জামায়াতের প্রার্থীকে এনসিপি সমর্থন দিতে পারে।

ঢাকা দক্ষিণ (ডিএসসিসি): আলোচনায় যারা

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ক্ষমতাসীন দল বিএনপির একাধিক হেভিওয়েট প্রার্থীর নাম শোনা যাচ্ছে। এর মধ্যে অন্যতম হলেন ডিএসসিসির বর্তমান প্রশাসক ও বর্ষীয়ান নেতা আবদুস সালাম। ঢাকা সিটির সাবেক ডেপুটি মেয়র এবং ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্বাচন পরিচালনার প্রধান সমন্বয়ক হিসেবে কাজ করার অভিজ্ঞতায় তিনি বেশ আত্মবিশ্বাসী। এ প্রসঙ্গে আবদুস সালাম বলেন, “দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী আমাকে যোগ্য মনে করে মনোনয়ন দিলে অবশ্যই নির্বাচন করব।”

এছাড়া, বিএনপিতে ব্যাপক জনপ্রিয় আরেক নাম দলটির যুগ্ম মহাসচিব হাবিব-উন-নবী খান সোহেল। রাজনৈতিক কারণে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি মামলার শিকার হওয়া এই ত্যাগী নেতাকে নিয়ে তৃণমূলের মাঝে প্রবল উৎসাহ রয়েছে। পাশাপাশি, বর্তমান সরকারের মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনও এই দৌড়ে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় আছেন।

অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে দক্ষিণের নায়েবে আমির অ্যাডভোকেট ড. হেলাল উদ্দীন, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. আবদুল মান্নান, কর্মপরিষদ সদস্য মেজবাহ উদ্দিন সাঈদ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিপি সাদিক কায়েমের নাম শোনা যাচ্ছে। তবে, ঢাকা দক্ষিণে চমক হিসেবে এনসিপির পক্ষ থেকে দলের মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার নাম প্রায় চূড়ান্ত বলে জানা গেছে।

ঢাকা উত্তর (ডিএনসিসি): ভোটযুদ্ধে আগ্রহী যারা

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে বিএনপির প্রধান আকর্ষণ হিসেবে দেখা হচ্ছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) সভাপতি ও গত নির্বাচনের প্রার্থী তাবিথ আউয়ালকে। তরুণ এই নেতার বিগত নির্বাচনে অংশ নেওয়ার অভিজ্ঞতা ভোটের মাঠে বিএনপিকে কৌশলগত সুবিধা দেবে বলে মনে করছেন দলীয় নেতাকর্মীরা। এছাড়া, ডিএনসিসির বর্তমান প্রশাসক ও যুবদলের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি শফিকুল ইসলাম খান মিল্টনও জোরালো আলোচনায় রয়েছেন। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১৫ আসনে জামায়াতের আমিরের কাছে পরাজিত হলেও সিটি নির্বাচনে তিনি শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী হতে পারেন।

উত্তরে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী হিসেবে সবচেয়ে বেশি উচ্চারিত হচ্ছে দলের ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন এবং ঢাকা-১৭ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী ডা. এস এম খালেদুজ্জামানের নাম। পাশাপাশি, এনসিপির সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় আছেন দলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদিব।

বিশ্লেষকের মত

আসন্ন এই নির্বাচন সম্পর্কে রাজনৈতিক বিশ্লেষক ড. মাহবুব উল্লাহ বলেন, “ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন নির্বাচন এবার একটি বহুমাত্রিক প্রতিযোগিতায় রূপ নেবে। এখানে কেবল দলীয় শক্তিই শেষ কথা নয়; প্রার্থীর ব্যক্তিগত গ্রহণযোগ্যতা, নাগরিক সমস্যা নিয়ে তাদের অবস্থান এবং ভোটারদের মনস্তত্ত্বই চূড়ান্ত ফলাফল নির্ধারণ করবে।”

তিনি সরকারকে সতর্ক করে বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কোনোভাবেই সময়ক্ষেপণ করা উচিত হবে না। এতে জনমনে ক্ষোভ তৈরি হতে পারে। একইসঙ্গে, নির্বাচনে সরকার যদি কোনো ধরনের প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করে, তবে তা শেষ পর্যন্ত বিএনপি এবং সরকার—উভয়ের জন্যই ক্ষতিকর পরিণতি ডেকে আনবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category