• রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬, ০৭:৩১ অপরাহ্ন
Headline
আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর সেনাবাহিনী গড়তে সরকার বদ্ধপরিকর : প্রধানমন্ত্রী চাকরি না খুঁজে কৃষিভিত্তিক শিল্প গড়ে তুলুন: নবীন শিক্ষার্থীদের ফখরুল হাসপাতালেই ছড়াচ্ছে প্রাণঘাতী সংক্রমণ মানবাধিকার লঙ্ঘনে দুই সাবেক রাষ্ট্রপতির ভূমিকা তদন্তের দাবি ঢাকা নগর পরিবহনে ৩৮৮ রুট ছেঁটে ৩২টিতে আনার উদ্যোগ অর্থনৈতিক মন্দার ভেতরেই ৭ হাজার নতুন কোটিপতি ডলার ও ভূরাজনীতি ঘিরে ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ দূতের সফর কূটনৈতিক টানাপোড়েনে ভারতে বাণিজ্য ধস ও বাংলাদেশের বিকল্প পথ নিরাপদ বিদেশযাত্রার শর্তেই সাবেক রাষ্ট্রপতির বঙ্গভবন ত্যাগ বঙ্গভবন ছেড়ে গুলশানের বাসভবনে পদত্যাগী রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন

ঢাকা নগর পরিবহনে ৩৮৮ রুট ছেঁটে ৩২টিতে আনার উদ্যোগ

Reporter Name / ২ Time View
Update : রবিবার, ২৬ জুলাই, ২০২৬

রাজধানী ঢাকা ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকার গণপরিবহন খাতে দীর্ঘদিনের বিশৃঙ্খলা, বাসের রেষারেষি এবং দীর্ঘ যানজটের ভোগান্তি থেকে মুক্তি দিতে একটি বড় ধরনের সংস্কার উদ্যোগ হাতে নিয়েছে ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ (ডিটিসিএ)। বর্তমানে কাগজপত্রে থাকা অনুমোদিত ৩৮৮টি বাস রুট একলহমায় কমিয়ে মাত্র ৩২টিতে নিয়ে আসার প্রাথমিক খসড়া প্রস্তাব করেছে সংস্থাটি। ঢাকা বাস রুট র্যাশনালাইজেশন প্রকল্পের অংশ হিসেবে গৃহীত এই সংস্কার প্রস্তাবে এরই মধ্যে নীতিগত সম্মতি জানিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) এবং গণপরিবহন খাতের বাস মালিক ও শ্রমিক সংগঠনগুলোর নীতিনির্ধারকেরা। ডিটিসিএ কার্যালয়ে আয়োজিত এক গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভায় এই প্রস্তাবনার কথা বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়। নতুন এই নীতি বাস্তবায়িত হলে ঢাকার রাজপথ থেকে অচল ও অনুমোদনহীন রুটগুলো স্থায়ীভাবে উঠে যাবে এবং মেয়াদউত্তীর্ণ ও ফিটনেসবিহীন লক্কড়ঝক্কড় বাসগুলো সড়ক থেকে পুরোপুরি বাজেয়াপ্ত করা হবে।

ডিটিসিএর তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে যে, বর্তমানে রাজধানীতে কাগজে-কলমে অনুমোদিত ৩৮৮টি রুটের মধ্যে ২৭৮টি রুটই দীর্ঘদিন ধরে সম্পূর্ণ অচল বা বন্ধ অবস্থায় পড়ে রয়েছে। এসব অচল রুটে মোট ১১ হাজার ৩১৫টি বাসের অনুমোদন দেওয়া থাকলেও বাস্তবে কোনো বাস চলাচল করে না। অন্যদিকে ঢাকার সচল থাকা বাকি ১১০টি রুটে ৭ হাজার ৪৩টি বাস চলাচলের প্রশাসনিক অনুমোদন থাকলেও বর্তমানে সড়কে বাস্তবে সক্রিয় রয়েছে মাত্র ৪ হাজার ৫৪৬টি বাস। এর চেয়েও উদ্বেগের বিষয় হলো, বর্তমানে ঢাকার রাস্তায় প্রতিদিন দাপিয়ে বেড়ানো ৪ হাজার ৫০০টির বেশি বাসের মধ্যে অন্তত ১ হাজার ৫৩টি বাসের কোনো বৈধ ফিটনেস সনদ নেই। ফিটনেসহীন বাস ও রুট সংক্রান্ত এই মারাত্মক বিশৃঙ্খলার কারণে একদিকে যাত্রীদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে, অন্যদিকে প্রতিনিয়ত সড়কে প্রতিযোগিতা ও মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটছে।

সড়ক পরিবহনে শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা ফিরিয়ে আনতে ডিটিসিএর সাম্প্রতিক বৈঠকে মূলত চারটি নীতিগত পদক্ষেপ বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। প্রথমত, অচল ও অকার্যকর রুটগুলোর অনুমোদন অবিলম্বে বাতিল করা হবে। দ্বিতীয়ত, নীতিগতভাবে একমত হওয়া ৩২টি রুটের বাইরে যাত্রীদের বাস্তব চাহিদা বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় অন্য পথগুলো দ্রুত সময়ের মধ্যে যাচাই-বাছাই করে চূড়ান্ত রূপ দেওয়া হবে। কারণ ডিটিসিএ মনে করছে প্রাথমিক ৩২টি রুটের বাইরে ঢাকার ভেতরে ও উপকণ্ঠে ছোট, বড় এবং চক্রাকার রুট মিলিয়ে অন্তত ৬০টি রুটের প্রয়োজন হতে পারে। তৃতীয়ত, ১ হাজারের বেশি ফিটনেস সনদবিহীন জরাজীর্ণ বাসকে অবিলম্বে ঢাকার রাজপথ থেকে সরিয়ে নেওয়ার জন্য কঠোর অভিযান চালানো হবে। চতুর্থত, রুট পুনর্বিন্যাস শেষ হওয়ার পর কোন রুটে কোন পরিবহন কোম্পানি বাস চালাবে তা সুনির্দিষ্ট নিয়ম মেনে নির্ধারণ করা হবে। নতুন নিয়মে একটি রুটে কেবল একটি নির্দিষ্ট কোম্পানিই বাস চালানোর অনুমতি পাবে এবং বাসের ফিটনেস, পর্যাপ্ত কাগজপত্র ও চালকের সনদ যাচাই করেই চলাচলের অনুমতি মিলবে।

ঢাকা ও তার আশপাশের পরিবহন ব্যবস্থাকে এক ছাতার নিচে আনতে যে ৩২টি প্রাথমিক রুটের খসড়া তৈরি করা হয়েছে, তার মধ্যে ১৯টি ঢাকার মূল শহরের অভ্যন্তরে এবং ১৩টি রুট আশপাশের শহরতলি এলাকাকে যুক্ত করবে। ঢাকার গণপরিবহনকে আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব করার লক্ষ্যে শুধু বাস কমানোই নয়, বরং ভবিষ্যতে এই রুটগুলোতে পরিবেশবান্ধব ইলেকট্রিক বাস নামানোর একটি সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনাও রয়েছে সরকারের। এই পরিবেশবান্ধব ও প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিকায়ন প্রকল্পে বিনিয়োগ করতে চীন, জাপান এবং বিশ্বব্যাংকের মতো আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থাগুলো ইতোমধ্যে তাদের ইতিবাচক আগ্রহ ব্যক্ত করেছে। এর আগে ২০২০ সালে ৯টি নির্দিষ্ট রঙের ক্লাস্টার, ৪২টি রুট এবং ২২টি পরিবহন কোম্পানির সমন্বয়ে ‘ঢাকা নগর পরিবহন’ নামে যে সমন্বিত সেবা চালুর চেষ্টা করা হয়েছিল, ব্যবস্থাপনাগত ত্রুটি ও সমন্বয়হীনতার কারণে তা কিছুদিনের মধ্যেই বন্ধ হয়ে যায়। পরবর্তী সময়ে অন্য এক প্রক্রিয়ায় ৫২টি নতুন রুটের প্রস্তাব দেওয়া হয়। অতীত ও বর্তমানের এই একাধিক প্রস্তাবনাকে সমন্বয় করেই নতুন ৩২টি খসড়া রুটের তালিকা সাজানো হয়েছে।

তবে ডিটিসিএর প্রস্তাবিত এই নতুন রুট কাঠামোর সামনে বেশ কিছু ব্যবহারিক ও কারিগরি চ্যালেঞ্জও উঠে এসেছে। পরিবহন বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রস্তাবিত ৩২টি রুটের অধিকাংশের দৈর্ঘ্যই ৩০ কিলোমিটারের চেয়ে অনেক বেশি, যা একটি ঘনবসতিপূর্ণ শহরের ভেতরের গণপরিবহন চলাচলের জন্য খুব একটা কার্যকর ও উপযোগী নয়। তা ছাড়া উত্তরা, গাজীপুর, সাভার এবং ডেমরার মতো শহরের প্রধান প্রবেশদ্বার ও মূল সড়কগুলোতে এখনও একাধিক প্রস্তাবিত রুটের ওভারল্যাপিং বা একই রাস্তায় একাধিক রুট মিলে যাওয়ার সমস্যা রয়ে গেছে। এতে করে একটি রুটে একটি কোম্পানির যে নীতি, তা বাস্তবায়নে কিছুটা জটিলতা দেখা দিতে পারে।

প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন যে, তাদের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো এই রুট ওভারল্যাপিং কমানো এবং প্রতিদিন কোন রুটে কতটি করে বাস নির্দিষ্ট সময়ে চলাচল করবে তা বৈজ্ঞানিকভাবে ঠিক করা। আগামী ১৫ দিনের মধ্যে এই ৩২টি প্রস্তাবিত রুটের পূর্ণাঙ্গ তালিকা, সুনির্দিষ্ট অ্যালাইনমেন্ট এবং কোন কোম্পানি কতটি বাস পরিচালনা করবে তা চূড়ান্ত করার লক্ষ্য রয়েছে। এরপর নির্ধারিত ক্লাস্টার অনুযায়ী নির্দিষ্ট রঙের নতুন আধুনিক বাস নামিয়ে এই রুট র্যাশনালাইজেশন সেবা বাণিজ্যিকভাবে চালু করা হবে। ঢাকার কোটি মানুষের প্রতিদিনের যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতে ও বাস চালকদের উন্মাদ প্রতিযোগিতা থামাতে এই কোম্পানিভিত্তিক সেবা যদি বাস্তবে সঠিকভাবে চালু করা সম্ভব হয়, তবেই রাজধানী ঢাকা একটি সুশৃঙ্খল ও গতিশীল নগরীতে পরিণত হবে।

তথ্যসূত্র: বণিক বার্তা


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category