বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগের পর আনুষ্ঠানিকভাবে সরকারি বাসভবন বঙ্গভবন ত্যাগ করেছেন। পদত্যাগের দুই দিন পর গত রোববার দুপুর ২টা ২৫ মিনিটে তিনি বঙ্গভবন থেকে বিদায় নেন এবং রাজধানীর গুলশানে নিজ বাসভবন ‘গ্রিন ভিলা’র উদ্দেশে যাত্রা করেন। এর মাধ্যমে রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে বঙ্গভবনে তাঁর দীর্ঘ অবস্থানের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটল। গত ২৪ জুলাই তিনি শারীরিক অসুস্থতা ও অন্যান্য ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে রাষ্ট্রপতির পদ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগ করেছিলেন। সংবিধান অনুযায়ী পাঁচ বছরের জন্য দায়িত্ব লাভ করলেও শেষ পর্যন্ত তিন বছর তিন মাস দায়িত্ব পালন শেষে তাঁকে এই সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদ থেকে বিদায় নিতে হলো।
স্মরণ করা যেতে পারে, ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেছিলেন মো. সাহাবুদ্দিন। তাঁর পুরো মেয়াদকালে তিনি একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনসহ রাষ্ট্রীয় নানা কর্মসূচিতে অংশ নেন এবং দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক সংকটকাল প্রত্যক্ষ করেন। ২৪ জুলাই পদত্যাগের পর জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদকে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব প্রদান করা হয় এবং এ বিষয়ে সরকারি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। বঙ্গভবন ছাড়ার মধ্য দিয়ে সাবেক এই রাষ্ট্রপতির দায়িত্বের যেমন চূড়ান্ত ইতি ঘটল, তেমনি শুরু হলো তাঁর গুলশানের বাসভবনে নতুন নাগরিক জীবনের অধ্যায়।
বিদায়ী রাষ্ট্রপতির এই পদত্যাগের পেছনে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি, বিভিন্ন মহল থেকে ওঠা দাবি এবং নেপথ্যের সমঝোতার খবর সংবাদমাধ্যমে বহুল আলোচিত হচ্ছে। পদত্যাগের পর আপাতত গুলশানের ফ্ল্যাটে অবস্থান করলেও শারীরিক চিকিৎসার উদ্দেশ্যে খুব শিগগিরই তিনি বিদেশে পাড়ি জমাবেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। তাঁর পদত্যাগের পর সংবিধানের বিধান অনুসরণে পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে দেশের নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আইনি বাধ্যবাধকতা তৈরি হয়েছে, যা আগামী সেপ্টেম্বর মাসে জাতীয় সংসদের অধিবেশনে সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে।
রাষ্ট্রপ্রধানের বঙ্গভবন ত্যাগের মধ্য দিয়ে দেশের রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক অঙ্গনে একটি দীর্ঘ অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটল। ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে স্পিকার দায়িত্ব গ্রহণ করায় রাষ্ট্রযন্ত্রের স্বাভাবিক কার্যক্রমে কোনো আইনি বা প্রশাসনিক শূন্যতা তৈরি হয়নি। এখন সবার নজর জাতীয় সংসদের দিকে, যেখানে আগামী দিনে নির্বাচিত হতে যাচ্ছেন দেশের ২৩তম নতুন রাষ্ট্রপতি। বঙ্গভবন ছেড়ে সাধারণ নাগরিক হিসেবে নিজ বাসস্থানে ফিরে যাওয়ার এই ঘটনাটি বাংলাদেশের প্রশাসনিক ইতিহাস ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হিসেবে স্থান করে নিল।