• রবিবার, ১০ মে ২০২৬, ০৪:১১ অপরাহ্ন
Headline
সীমান্তে রক্তপাত বন্ধ না করলে ভারতের সঙ্গে স্থায়ী বন্ধুত্ব অসম্ভব: রুহুল কবির রিজভী নৌযাত্রা শতভাগ নিরাপদ করতে সর্বোচ্চ সতর্ক সরকার: নৌমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম আসন্ন বাজেটে জ্বালানি, খাদ্য ও সামাজিক নিরাপত্তায় বিপুল ভর্তুকি বাড়াচ্ছে সরকার সোশ্যাল মিডিয়ার সুনির্দিষ্ট নীতিমালার অভাবে জনসচেতনতা কার্যক্রমে বড় বাধা: তথ্যমন্ত্রী শুধু রাজনীতি নয়, অর্থনীতিতেও গণতন্ত্র থাকতে হবে: অর্থমন্ত্রী মা দিবসে মায়ের মুখে হাসি ফোটাতে সেরা ৮টি স্মার্ট গ্যাজেট ‘পুলিশকে আর কখনো ফ্যাসিবাদ ও স্বৈরাচারের হাতিয়ার হতে দেওয়া হবে না’ — পুলিশ সপ্তাহে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জোড়া হত্যা মামলায় আসাদুজ্জামান নূরের জামিন: হাইকোর্টের আদেশে কারামুক্তির পথে ‘বাকের ভাই’ সাবেক বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রীর পরিবারের আয়কর নথি জব্দের নির্দেশ নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নে দ্বিতীয় পদ্মা ও দ্বিতীয় যমুনা সেতুর দিকে এগোচ্ছে সরকার

দক্ষিণ আফ্রিকায় টাঙ্গাইলের যুবককে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা

Reporter Name / ২ Time View
Update : রবিবার, ১০ মে, ২০২৬

জীবিকার সন্ধানে দূর প্রবাসে পাড়ি জমানো আরও এক বাংলাদেশি রেমিট্যান্স যোদ্ধার রক্তে রঞ্জিত হলো দক্ষিণ আফ্রিকার মাটি। দেশটির নিউক্যাসল শহরে দিনের আলোতে প্রকাশ্যে গাড়ির ভেতর সুমন (৩৫) নামের এক বাংলাদেশি যুবককে গুলি করে নির্মমভাবে হত্যা করেছে অজ্ঞাত সন্ত্রাসীরা। শনিবার (৯ মে) বিকেলের এই মর্মান্তিক ঘটনায় নিহতের নিজ এলাকা টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে নেমে এসেছে শোকের গভীর ছায়া। স্ত্রী ও দুই বছরের অবুঝ সন্তানকে দেশে রেখে যাওয়া এই যুবকের মৃত্যুতে প্রবাসীদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে চরম উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

যেভাবে ঘটল হত্যাকাণ্ড

স্থানীয় প্রবাসী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে জানা গেছে, শনিবার বিকেলে সুমন দক্ষিণ আফ্রিকার নিউক্যাসল শহরে নিজের গাড়িতে অবস্থান করছিলেন। এ সময় হঠাৎ একদল অজ্ঞাত সশস্ত্র দুর্বৃত্ত তার গাড়িটি লক্ষ্য করে অতর্কিত গুলি চালাতে শুরু করে। গাড়ির ভেতরে থাকা অবস্থায় সুমন একাধিক গুলিবিদ্ধ হন এবং আত্মরক্ষার কোনো সুযোগ না পেয়ে ঘটনাস্থলেই তার মর্মান্তিক মৃত্যু ঘটে। দুর্বৃত্তরা গুলি চালানোর পরপরই দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।

নিহতের পরিচয় ও পারিবারিক শোক

নিহত সুমন টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার বাঁশতৈল ইউনিয়নের অভিরামপুর গ্রামের মো. মইজ উদ্দিনের ছেলে। পরিবারে সচ্ছলতা ফেরানোর আশায় দীর্ঘ সময় ধরে তিনি দক্ষিণ আফ্রিকায় অবস্থান করছিলেন এবং সেখানে একটি নিজস্ব ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিলেন।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, মাত্র তিন বছর আগে তিনি দেশে ফিরে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন। তার দুই বছর বয়সী ফুটফুটে একটি সন্তান রয়েছে। স্ত্রী ও সন্তানকে দেশে রেখে তিনি পুনরায় দক্ষিণ আফ্রিকায় ফিরে যান নিজের ব্যবসা সামলাতে। শনিবার রাতে মৃত্যুর দুঃসংবাদটি গ্রামের বাড়িতে পৌঁছালে পরিবারের সদস্যদের কান্নায় এলাকার পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে। স্বামী হারিয়ে স্ত্রী এবং সন্তান হারানো পিতা-মাতার আহাজারিতে এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়।

হত্যার কারণ ও স্থানীয় পুলিশের পদক্ষেপ

কী কারণে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটল, তা এখনো সম্পূর্ণ অজানা। সুমনের সাথে স্থানীয় কারও ব্যবসায়িক দ্বন্দ্ব ছিল কি না, নাকি এটি নিছকই ছিনতাই বা ডাকাতির উদ্দেশ্য সংঘটিত কোনো ঘটনা—তা নিয়ে ধোঁয়াশা রয়েছে। দক্ষিণ আফ্রিকার স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ইতোমধ্যে এই হত্যাকাণ্ডের তদন্ত শুরু করেছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তারের খবর পাওয়া যায়নি।

দেশের প্রশাসনের উদ্যোগ

ঘটনার খবর পাওয়ার পর দেশ থেকেও প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। মির্জাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানিয়েছেন, হত্যাকাণ্ডের খবরটি জানার পর পরই তারা নিহতের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। পরিবার যাতে দ্রুততম সময়ের মধ্যে আইনি প্রক্রিয়া শেষে সুমনের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনতে পারে, সে বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধরনের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদান করা হবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেছেন।

প্রবাসীদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে শঙ্কা

দক্ষিণ আফ্রিকায় বাংলাদেশি প্রবাসীদের ওপর হামলা, খুন ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে লুটপাটের ঘটনা নতুন নয়। গত কয়েক বছরে বহু বাংলাদেশি সেখানে সন্ত্রাসীদের গুলিতে প্রাণ হারিয়েছেন। সুমনের এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের পর দক্ষিণ আফ্রিকায় বসবাসরত হাজারো বাংলাদেশি প্রবাসীর মধ্যে আবারও চরম আতঙ্ক ও নিরাপত্তা শঙ্কা তৈরি হয়েছে। প্রবাসীদের দাবি, বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়িয়ে দক্ষিণ আফ্রিকায় অবস্থানরত রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category