• সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:০৯ পূর্বাহ্ন
Headline
নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতকরণে যুক্তরাষ্ট্রের কারিগরি সহায়তা চান খাদ্যমন্ত্রী সৃজনশীল শিল্পকে মূলধারার অর্থনীতি ও সফট পাওয়ার হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চায় সরকার: অর্থমন্ত্রী প্রলয়ংকরী যুদ্ধের হুঁশিয়ারি ইরানের, ঝুঁকিতে উপসাগরীয় দেশগুলো দুর্নীতি মামলায় আনিসুল হকসহ চারজনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র গ্রহণ ইলিয়াস আলী গুমের মামলায় উইং কমান্ডার সাইফুর রহমান ট্রাইব্যুনালে রুমির হাতে ‘চড় খাওয়া’ সেই মাদ্রাসাশিক্ষকের জামিন নামঞ্জুর বিএনপি জাতির সঙ্গে ধাপ্পাবাজি করেছে: শফিকুর রহমান জামায়াতের নতুন কর্মসূচি ঘোষণা ফুটপাত দখলমুক্ত করার পাশাপাশি পুর্নবাসন করা হবে: রাসিক প্রশাসক মেট্রোরেল স্টেশনগুলোতে আধুনিক নিরাপত্তা সরঞ্জাম স্থাপনের সিদ্ধান্ত

দাগনভূঞায় নর্দমা থেকে শিশুর লাশ উদ্ধার: পুলিশের বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগ পরিবারের

Reporter Name / ১০৮ Time View
Update : বুধবার, ১৩ মে, ২০২৬

ফেনীর দাগনভূঞায় নর্দমা থেকে ১৮ মাস বয়সী শিশু মোহাম্মদ হাসানের লাশ উদ্ধারের ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। শিশুটিকে অপহরণ করে মুক্তিপণ দাবির কথা পুলিশকে জানানো হলেও তারা কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি বলে গুরুতর অভিযোগ করেছে নিহতের পরিবার।

নিখোঁজ ও মুক্তিপণ দাবি

গত শনিবার বেলা তিনটার দিকে বাসা থেকে নিখোঁজ হয় শিশু হাসান। সে লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার মোহাম্মদ তারেকের ছেলে। তারা দাগনভূঞা পৌরসভার আমানউল্লাহপুর বাঁশপাড়া এলাকায় ভাড়াবাসায় থাকেন। নিখোঁজের দিন সন্ধ্যায় পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। পরিবারের অভিযোগ, নিখোঁজের পরপরই একটি অজ্ঞাত নম্বর থেকে কল করে শিশুটিকে অপহরণের কথা জানানো হয় এবং প্রথমে ১২ হাজার ও পরে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়।

পরিবারের অভিযোগ

শিশুটির মা তারজিনা আক্তার কান্নাজড়িত কণ্ঠে অভিযোগ করেন, মুক্তিপণ দাবির বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশকে জানানো হলেও তারা কোনো সহযোগিতা করেনি। পুলিশ দ্রুত ও কার্যকর ব্যবস্থা নিলে শিশুটিকে হয়তো জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হতো বলে আক্ষেপ করেন তিনি।

পুলিশের বক্তব্য ও লাশ উদ্ধার

নিখোঁজের দুই দিন পর সোমবার বেলা ১১টার দিকে আমানউল্লাহপুর বাঁশপাড়া এলাকার একটি ডোবা বা নর্দমা থেকে শিশুটির লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। পরিবারের কোনো লিখিত অভিযোগ বা মামলা না থাকায় ময়নাতদন্ত ছাড়াই লাশটি হস্তান্তর করা হয়। এ বিষয়ে দাগনভূঞা থানার ওসি মোহাম্মদ ফজলুল আজীম জানান:

  • প্রতারণার সন্দেহ: মুক্তিপণ চেয়ে আসা কলটি পর্যালোচনা করে দেখা গেছে সেটি নওগাঁ জেলার একটি নম্বর। শিশুটির বাবা ফেসবুকে নিজের নম্বর দিয়ে পোস্ট করার পর সেখান থেকে নম্বর সংগ্রহ করে কোনো প্রতারক চক্র এই কল করেছে বলে তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে।

  • মৃত্যুর কারণ: শিশুটির শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, পরিবারের অগোচরে শিশুটি পানিতে পড়ে গিয়ে ডুবে মারা গেছে।

তদন্ত ও স্থানীয়দের প্রতিক্রিয়া

পরিবার পুলিশের এই ‘দুর্ঘটনা’র ব্যাখ্যা মানতে নারাজ। তাদের দাবি, এটি কেবল দুর্ঘটনা নয়, এর পেছনে অপহরণ ও হত্যা জড়িত থাকতে পারে। এদিকে ফেনীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম জানিয়েছেন, স্বজনদের তোলা পুলিশের গাফিলতির অভিযোগটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এ ধরনের স্পর্শকাতর ও জরুরি ঘটনায় পুলিশের ধীরগতি এবং সমন্বয়ের ঘাটতি নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যেও গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। তারা এই ঘটনার একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category