ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশ ও ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর শীর্ষস্তরের চার দিনব্যাপী মহাপরিচালক (ডিজি) পর্যায়ের সীমান্ত সম্মেলন শেষ হয়েছে। তবে দীর্ঘ চার দশকের প্রথা ভেঙে এবার বৈঠক শেষে যৌথ আলোচনার নথিতে (জেডওডি) স্বাক্ষরের পর দুই বাহিনীর প্রধানেরা কোনো যৌথ সংবাদ সম্মেলন করেননি। দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর উচ্চপর্যায়ের দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের ইতিহাসে যৌথ সংবাদ সম্মেলন না করার এমন ঘটনা এবারই প্রথম ঘটল।
গত ৮ জুন থেকে ১১ জুন পর্যন্ত নয়াদিল্লির বিএসএফ সদর দফতরে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) মধ্যে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে গতকাল বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিএসএফের পক্ষ থেকে একটি আনুষ্ঠানিক সংবাদ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে আলোচনার মূল বিষয়গুলো জনসমক্ষে আনা হয়।
ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ এবং ইতিবাচক পরিবেশে দুই দেশের শীর্ষ কর্মকর্তাদের এই বৈঠক সম্পন্ন হয়েছে। বৈঠকে উভয় বাহিনীই বিদ্যমান সীমান্ত পরিস্থিতি, সীমান্ত নিরাপত্তা এবং সামগ্রিক ব্যবস্থাপনা সম্পর্কিত নিজেদের নিজ নিজ উদ্বেগ ও দাবিগুলো টেবিল বৈঠকে বিশদভাবে তুলে ধরে।
বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, সীমান্তে অপ্রীতিকর মৃত্যু রোধ, পুশইন বা জোরপূর্বক সীমান্ত পারাপারের চেষ্টা এবং কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার মতো সংবেদনশীল ইস্যুগুলো নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে জোরালো আলোচনা হয়েছে। এছাড়া মাদক, আগ্নেয়াস্ত্র, জাল মুদ্রা ও স্বর্ণসহ সব ধরনের নিষিদ্ধ দ্রব্যের চোরাচালান বন্ধ, আন্তঃসীমান্ত অপরাধ দমন, অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রম এবং মানবপাচার প্রতিরোধের কার্যকর উপায় নিয়ে দুই বাহিনী বিস্তারিত আলোচনা করেছে।
বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে শান্তি, শৃঙ্খলা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার পুরোনো অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে বিজিবি ও বিএসএফ। সীমান্ত নিরাপত্তাকে ক্ষুণ্ন করে বা বিঘ্নিত করে—এমন যেকোনো অপরাধমূলক বা অবৈধ পদক্ষেপের প্রতি দুই বাহিনীই ‘জিরো টলারেন্স’ বা শূন্য সহনশীলতা নীতি গ্রহণের যৌথ সংকল্প প্রকাশ করেছে।
সীমান্ত সুরক্ষাকে আরও নিটোল করতে উভয় পক্ষ সমন্বিত টহল (কো-অর্ডিনেটেড পেট্রোলিং) আরও জোরদার করা, কৌশলগত পয়েন্টগুলোতে সতর্কতা বৃদ্ধি, তাৎক্ষণিক গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান বাড়ানো এবং আন্তঃসীমান্ত সক্রিয় অপরাধী চক্রের বিরুদ্ধে যৌথ অভিযান আরও গতিশীল করতে একমত হয়েছে। এর পাশাপাশি সীমান্ত এলাকায় অপরাধ ও অবৈধ কার্যকলাপ প্রতিরোধে স্থানীয় সীমান্তবাসীর মধ্যে বৃহত্তর জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়। সামগ্রিকভাবে বৈঠকের ফলাফল নিয়ে উভয় পক্ষ গভীর সন্তোষ প্রকাশ করেছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, ১৯৭৫ থেকে ১৯৯২ সাল পর্যন্ত প্রতি বছর দুই দেশের মধ্যে ডিজি-স্তরের এই সীমান্ত বৈঠক নিয়মিত অনুষ্ঠিত হতো। পরবর্তীতে ১৯৯৩ সাল থেকে সীমান্ত পরিস্থিতি আরও নিবিড়ভাবে তদারকি করতে এটিকে বছরে দু’বার আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, যেখানে দুই দেশের প্রতিনিধিরা পর্যায়ক্রমে নয়াদিল্লি ও ঢাকায় এই দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে অংশ নেন।